ফনেটিক ইউনিজয়
রোহিঙ্গা সমস্যা
আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান যখন মিয়ানমার সফরে আছেন এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান ও চলাফেরার স্বাধীনতাসহ অন্যান্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ প্রকাশ করেছেন, এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিয়ানমারে এক সহিংসতায় ১২ সেনাসদস্যসহ নিহত হয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় হামলায় কয়েক শ রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাণ বাঁচাতে দলে দলে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে।
মিয়ানমার আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী দেশ। কিন্তু যতবারই সেখানে অস্থিরতা ও সহিংসতা দেখা দিয়েছে, ততবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। গত অক্টোবরের সহিংসতায় প্রাণ বাঁচাতে অন্তত ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছিল। বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে বাংলাদেশে। এসব শরণার্থী আমাদের আর্থসামাজিক অবস্থানের ওপর ক্রমেই চাপ সৃষ্টি করছে। তাদের ফিরিয়ে নেওয়া তো দূর, মনে হচ্ছে সেখানকার সব মুসলমান রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে চাপিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে দেশটি।
মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব স্বীকার করে না নিলে চলমান সংকটের সমাধান হবে না। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের সন্তান হয়েও সেখানকার নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে না, এটা দুঃখজনক। আমরা চাইব, মিয়ানমার সরকার সংখ্যালঘু জাতিসত্তা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান করে তাদের সব ধরনের মানবিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।
তবে বাংলাদেশ সরকারকেই দ্রুত দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে এর সমাধান বের করতে হবে। প্রয়োজনে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইতে হবে। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং যারা ইতিমধ্যে অনুপ্রবেশ করেছে, তাদের প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য সরকারকেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

Disconnect