ফনেটিক ইউনিজয়
আয়কর নীতি
ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে চাই জোরালো অভিযান

কর প্রদানে জনগণকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আট বছর ধরে আয়োজন করে আসছে আয়কর মেলা। নিঃসন্দেহে এটি একটি শুভ উদ্যোগ। তারপরও দেশে আয়কর দিতে সক্ষম এমন প্রায় ৩৪ লাখ মানুষ এখনো কর ফাঁকি দিচ্ছেন।
এর অন্যতম কারণ, এনবিআর কর প্রদানে উৎসাহমূলক কর্মসূচি নিলেও ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে তেমন জোরালো অভিযানে নামছে না। দেশে বছরের পর বছর অনেকেই আয়কর ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে সঠিক কোনো পরিসংখ্যানও নেই এনবিআরের কাছে। যাঁরা সম্পদের তথ্য গোপন করে রিটার্ন জমা দিচ্ছেন, তাঁদের বিষয়েও সোচ্চার নয় এনবিআর। বিভিন্ন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে দেশে করযোগ্য মানুষ ৫০ লাখের বেশি। এনবিআরের হিসাবে, নিবন্ধন আছে ৩০ লাখের। আর গত বছর রিটার্ন জমা দিয়েছেন মাত্র ১৬ লাখ। এ সংখ্যা বাড়াতে আয়কর মেলা, ক্যাম্প, কর সপ্তাহ, হালাখাতাসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করছে এনবিআর। পাশাপাশি করদাতাদের সম্মাননাও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এত সব করেও কাক্সিক্ষত অঙ্কের কর আদায় হচ্ছে না।
উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো কর। বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আয়করদাতার সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু যেহেতু এখনো তা হচ্ছে না, তাই কর ফাঁকিবাজদের বিরুেেদ্ধ আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এনবিআরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি চক্র, যারা অসাধু ধনী ব্যক্তির সঙ্গে গোপন আঁতাত বজায় রাখছে, এগুলো ভাঙতে হবে। সেই সঙ্গে আয়করের হার কিছুটা কমানো যায় কি না, সেটাও ভেবে দেখা প্রয়োজন।

Disconnect