ফনেটিক ইউনিজয়
পাঠ্যবইয়ে ভুল
ভুল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করছে ছাত্রছাত্রীকে

সাধারণত একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান অর্জিত হয় পাঠ্যবই থেকে। সেখানে যদি ভুল থেকে যায়, তাহলে দেশের সব ছাত্রছাত্রীর মধ্যে সেই ভুলই প্রতিষ্ঠিত হয়। আমাদের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ে ছিল অসংখ্য ভুল আর অসংগতি। এর আগের বছরের বইগুলোতেও ভুল ছিল। কিন্তু এ রকমই সংশোধন হয়েছে। এ কারণেই জঙ্গিবাদ উসকে দেওয়ার অভিযোগ, হাদিসের অপব্যাখ্যাসহ অসংখ্য ভুলে ভরা মাদ্রাসা বোর্ডের ২৪ লাখ পাঠ্যবই ৩ ডিসেম্বর প্রত্যাহারের নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে সরকারের গচ্চা যাচ্ছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে এসব অভিযোগের কারণে বেশ কিছু পাঠ্যবই সংশোধনের কথা ছিল। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তিন বছরে তা সংশোধন করা হয়নি। বরং ভুলে ভরা এসব বই ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের জন্যও ছাপা শেষ হয়েছে। সমস্যাটা এখানেই। প্রথম সংস্করণে দু-একটি ভুল থাকতে পারে, পরের বছর সেগুলো সংশোধন হওয়ার কথা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে পরের বছরগুলোয় বরং ভুলের সংখ্যা আরও বেড়ে যাচ্ছে।
যেকোনো দেশের অগ্রগতির মূল উপাদান হচ্ছে শিক্ষা ও গবেষণা। এর জন্য চাই মানসম্মত ও দুর্নীতিমুক্ত নির্ভুল শিক্ষা। এই নির্ভুল শিক্ষার নিশ্চয়তা দেবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। কিন্তু বছরের পর বছর পাঠ্যপুস্তকে ভুল থেকে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের গাফিলতি স্পষ্ট হয়েছে।
সাধারণত পাঠ্যবই রচনা ও সম্পাদনার দায়িত্বে থাকেন কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ। এরপর পরিমার্জনের দায়িত্বে থাকে আরেক পরিষদ। তবে একটি বইয়ের সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয় একজন বিশেষজ্ঞকে, যিনি মূলত ওই বইয়ের ভুলত্রুটির জন্য প্রধানত দায়ী। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বইগুলোর জন্য বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ থাকেন না। লেখক দলে নানা তদবিরে অযোগ্য অনেকে ঢুকে পড়েন। আবার সম্পাদনা দলেও একই অবস্থা। স্বজনপ্রীতি ও তদবিরের মাধ্যমে দক্ষতাসম্পন্ন নয় এমন সদস্যকে প্রুফ রিডার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ের তথ্য ব্যবহার করে পাঠ্যপুস্তকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনও করা হয় না।
এ জন্য একটাই পথ, সব জায়গায় যোগ্য লোক দিতে হবে। কোনো বই রচনার ক্ষেত্রে লেখককে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত। যেহেতু বইগুলো সব বাংলায়, তাই বোর্ডের সব শ্রেণির বইয়েই যেন উচ্চারণ ও বানান নির্ভুল ও একই থাকে, বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য প্রতিটি বইয়ের সম্পাদকদের মধ্যে একজন করে বাংলার পণ্ডিত ব্যক্তি থাকতে হবে। প্রতি শ্রেণির প্রতিটি বইয়ের ক্ষেত্রেই একটি নিবিড় পর্যবেক্ষণ কমিটি থাকা দরকার। এ জন্য নিয়োগ দিতে হবে এমন শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষাবিদ, যাঁরা সবার আগে চিন্তা করবেন দেশ ও জাতির উন্নতি নিয়ে। পাঠ্যবই প্রণয়ন, সম্পাদন ও মুদ্রণ-সব ক্ষেত্রেই সচেতন থাকতে হবে। তবেই আমরা পারব পাঠ্যপুস্তকে ভুলগুলোকে সমাধান করে জাতিকে সুন্দর ও মানসম্মত বই উপহার দিতে।

আরো খবর

Disconnect