ফনেটিক ইউনিজয়
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক সংস্থা

দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন দুর্ঘটনায় গড়ে ১১ জনের প্রাণহানি ঘটছে। ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ২২ শতাংশ প্রাণহানি বেড়েছে। চলতি বছর এ সংখ্যা বেড়ে কত দাঁড়াবে, তা অনুমান করা কঠিন নয়। এপ্রিলেই দুই বাসের চাপে পিষ্ট হয়ে কলেজছাত্র রাজীব হোসেনের ডান হাত হারানোর তিনদিন পার না হতেই আবারও দুই বাসের বেপরোয়া প্রতিযোগিতার শিকার হয়ে আয়েশা খাতুন নামে এক গৃহবধূ পঙ্গু হয়ে গেছেন। তার পরও থেমে নেই দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত হওয়ার খবর। প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনার এসব ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, রাজধানীর পরিবহন খাতে কী ভয়াবহ নৈরাজ্য চলছে।
রাজধানীর বেশির ভাগ গণপরিবহনই আইন-কানুনের কোনো তোয়াক্কা করে না। রাজনৈতিক নেতারাই এখন পরিবহন ব্যবসার নিয়ন্ত্রক। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এসব ব্যক্তি একই সঙ্গে সরাসরি পরিবহনের মালিক, মালিক সমিতির নেতা ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা। ফলে এখানে মালিক সমিতি বা শ্রমিক ইউনিয়নের কোনো নেতাকে ফৌজদারি অপরাধের কারণে পুলিশ আটক করলেও বন্ধ হয়ে যায় পরিবহন চলাচল। আদালতের মাধ্যমে খুনি চালকের অপরাধ প্রমাণ হওয়ার পর শাস্তি দেয়া হলেও আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে জনজীবনকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলতে কোনো দ্বিধা তারা করে না। ফলে পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ সব দেখেও কিছুই দেখছে না। সড়ক দুর্ঘটনায় কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর এক বড় অংশই আজ অক্ষম হয়ে পড়ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে ক্ষতি হচ্ছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। তাই এ দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার না হয়ে আর উপায় নেই।
নগরীর অধিকাংশ পরিবহন মালিক চালককে চুক্তিতে চালাতে বাস দেয়। চুক্তির কারণে একই রুটের যে বাস আগে শেষ গন্তব্যে পৌঁছবে, সেই ফিরতি ট্রিপের সিরিয়াল পাবে আগে। এ কারণে একই রুটের বাসের মধ্যেই ভয়াবহ রেস দেখা যায়, যার পরিণতি দুর্ঘটনা। এ চালকদের অনেকেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। অনেক সময় চালকের পরিবর্তে বাস চালান হেলপার। এরা কেউ আইনের তোয়াক্কা করেন না। গণমাধ্যমে এসব নিয়ে যতই প্রশ্ন উঠুক, চালকরা আগের মতোই বেপরোয়া। আর আইন লঙ্ঘনের এসব ঘটনা দেখার দায়িত্ব যাদের, বরাবরের মতোই তারা নির্বিকার। কারণ তাদের চেয়ে পরিবহন শ্রমিক-মালিকরাই শক্তিশালী।
তাই এখন প্রয়োজন উপযুক্ত আইন প্রণয়ন ও তার সঠিক বাস্তবায়ন। একের পর এক যাত্রী প্রাণ হারালেও কজন চালকের শাস্তি হয়েছে, এর উত্তর অত্যন্ত হতাশাজনক। সাম্প্রতিক রাজিব ও আয়শা খাতুনের দুটি ঘটনায় চার বাসের তিন চালককে গ্রেফতার করা গেছে। সতর্ক থাকতে হবে, তারা যেন কোনোভাবেই আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারেন। পাশাপাশি বাস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে উপযুক্ত জরিমানা ও আহতদের চিকিৎসা ব্যয়সহ সব খরচ বহনের দায় নিতে হবে। পুরো সড়ক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে দিন দিন এমন ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা বাড়তেই থাকবে। প্রয়োজন পুরো রাজধানীতে একটি শক্তিশালী সংস্থার মাধ্যমে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এজন্য একটি সংস্থা গঠন জরুরি, যারা পুরো ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। এভাবে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে দায়িত্বশীল মহলকেই আরও তৎপর হতে হবে।

আরো খবর

Disconnect