ফনেটিক ইউনিজয়
মাদক নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে

মাদকাসক্তি বর্তমানে আমাদের একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকদ্রব্যের করাল থাবায় সমাজে বাড়ছে অস্থিরতা, সীমাহীন দুর্ভোগ ও সন্ত্রাস। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রস্তুত করা মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকাসংবলিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্যের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তবে কেবল এই পাঁচ জেলায় নয়, বরং সারা দেশেই মাদকের বিস্তার ভয়াবহ রকম বেড়েছে। খোদ রাজধানীতেই আড়াই হাজার অপরাধীর ৮০০ মাদকস্পট আছে।
ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মাদকের হাটগুলো নিয়ন্ত্রণে যেমন রয়েছে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী, তেমনি আছে সন্ত্রাসী, মসজিদের ইমাম, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (নারকোটিকস) কর্মকর্তাসহ নানা পেশার মানুষ। আশঙ্কার কথা হলো, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে বেশির ভাগই ক্ষমতাবলয়ের চারপাশে থাকা মানুষ। এছাড়া নিয়মিত মাসহারার বিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করেন, এমন পুলিশ সদস্যের সংখ্যাও কম নয়। দেশে মাদকের বিস্তার রোধে যাদের ভূমিকা হওয়ার কথা কঠোর ও আপসহীন, তাদের একটি অংশই অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।
সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর অনুন্নত ও অনগ্রসর দরিদ্র মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে, অল্প সময়ে অধিক অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিরা মাদক সরবরাহ করছে। এতে একদিকে যেমন মাদকসেবীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে মাদকের টাকা জোগাড় করতে তারা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ, অপহরণসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে কিশোর অপরাধ যেভাবে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে, তা মাদকেরই প্রভাব। যারা আগামীতে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে, তারাই যখন মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে এবং মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে যায়, তখন দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন কখনও সম্ভব নয়। তাই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী কেউ মাদকে জড়িয়ে পড়লে তাকে ভয়াবহ এ নেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে সমাজের প্রত্যেককে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
সমুদ্র ও সড়কপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক পাচার হচ্ছে। পরিবহন ও নৌযানের মালিক-শ্রমিক অনেকেই এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছে। মাদকের ছোবল থেকে দেশরক্ষায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এছাড়া মাদকপ্রধান এলাকাগুলোয় আকস্মিক অভিযান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার। মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ দপ্তরের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা, বাইরের দেশ থেকে মাদকের প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো, প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে মাদক প্রতিরোধে উদ্যোগ নেয়া দরকার। মাদক সমস্যার সমাধান করতে এর সাথে জড়িতদের কেবল শাস্তির ব্যবস্থা করলে হবে না; পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নানা রকম কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে গুরুত্ব দিতে হবে।

আরো খবর

Disconnect