ফনেটিক ইউনিজয়
জনদুর্ভোগ বাড়ছে
সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের সমন্বয় প্রয়োজন

অপরিকল্পিত উন্নয়নকাজের কারণে এবারের রমজানে বিভিন্ন এলাকায় অন্তহীন জনদুর্ভোগ হচ্ছে। এমনিতেই রাজধানীর সড়কগুলোয় সারা বছরই খোঁড়াখুঁড়ি চলে। কিন্তু বর্ষায় এর মাত্রা বেড়ে যায় আরও কয়েক গুণ। আর রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে রাজধানীর মানুষ। বিশেষ করে জনবহুল স্থান ও মার্কেটমুখী সড়কগুলোয় ভোগান্তির মাত্রা চরম সীমায় পৌঁছেছে। বিভিন্ন এলাকার বর্তমান উন্নয়নকাজের কারণে ক্ষতবিক্ষত সড়কে চলাচলে যানজট ও জলাবদ্ধতায় নাকাল হচ্ছে নগরবাসী।
প্রতি বছর রমজানে ঢাকাসহ সারা দেশে নাগরিকদের চলাচলে দুর্ভোগ কমাতে নানা পদক্ষেপ নেয় সরকার। কিন্তু এবার তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বরং কুড়িল বিশ্বরোড, খিলক্ষেত, রামপুরা, মিরপুর ও উত্তরার বেশ কিছু এলাকা, মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ী, সাতমসজিদ রোড, মগবাজার ওয়্যারলেস গেটসংলগ্ন প্রধান সড়কসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সুষ্ঠু পরিকল্পনা ছাড়াই চলছে উন্নয়নকাজ। কোথাও ড্রেনের পাইপ বসেছে, কোথাও বসেনি। ঢিমেতালের উন্নয়নকাজের কোনো গতি নেই। একদিন কাজ হচ্ছে তো দুদিন বন্ধ থাকছে। আবার কোথাও মাসের পর মাস কাজ থেমে আছে। ফলে সেসব এলাকায় দুই মিনিটের দূরত্ব পাড়ি দিতে আধঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে।
সেবাদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতার কারণেই মূলত ভোগান্তি বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ওয়াসা ড্রেনের জন্য সড়ক কেটে তা ঠিক করে দিয়েছে। এর কিছুদিন পর একই জায়গায় আবার আরেকটি সংস্থা উন্নয়নকাজ শুরু করে। এভাবেই চলছে। রমজানের আগে সেবা সংস্থার সমন্বয় সভা করা দরকার ছিল, কিন্তু হয়নি সেটাও।
তবে ঢাকার সড়কগুলোর বেহাল দশার জন্য নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও ঘন ঘন সড়ক খোঁড়াখুঁড়িকে দায়ী করছেন স্বয়ং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। সিটি করপোরেশন নিজে রাস্তা নির্মাণ বা সংস্কার করে না। ঠিকাদারের মাধ্যমে করিয়ে নেয়। কিন্তু বেশির ভাগ ঠিকাদারই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, দ্রুত কাজ শেষ করে ফেলা, প্রয়োজনের তুলনায় নির্মাণসামগ্রী কম ব্যবহারের কারণে রাস্তা বেশি দিন টেকে না। ফলে ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় সংস্কারকাজ সারা বছর লেগেই থাকে। উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে এক দফা জনদুর্ভোগের পর বছর ঘুরতেই ফের শুরু হয় সংস্কার। কখনও ওয়াসা, কখনও ডেসকো, কখনও রাজউক বা বিটিসিএলের মতো প্রতিষ্ঠান একের পর এক রাস্তা কাটে। অন্তহীন এমন সংস্কার কার্যক্রমে নগরবাসীর দুর্ভোগ স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
আবার এরকমটা প্রায়ই দেখা যায়, একপাশে গর্ত খুঁড়ে ও অন্যপাশে পাইপ ফেলে রেখে দীর্ঘদিন সংস্কারকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এরপর ওই অংশটির খোঁজখবর নিতেই কেউ আসে না। ফলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। কোথাও খোঁড়াখুঁড়ি, কোথাও ভাঙাচোরা, কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও উঁচু-নিচু। সব মিলিয়ে এবারের রমজানে জনগণের সীমাহীন দুর্ভোগ। তাই যানজট নিরসন ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণের মতো জনদুর্ভোগ কমাতে ওয়াসা, ডেসা, ডেসকো, বিটিসিএল, তিতাস গ্যাস, রাজউকসহ সব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাজের সমন্বয় প্রয়োজন। এতে একদিকে  যেমন সরকারের অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও কমবে।

আরো খবর

Disconnect