ফনেটিক ইউনিজয়
ঈদযাত্রা হোক নিরাপদ ও আনন্দময়

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ঢাকা ছাড়ছে ঘরমুখো মানুষ। কিন্তু এ ঈদযাত্রায় নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। রাজধানীর উপকণ্ঠের যানজটপূর্ণ মহাসড়কে মহাদুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তাদের। রাজধানী ছাড়তে ও উপকণ্ঠ এলাকা পেরোতেই চার-পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে একের পর এক প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও যাত্রী দুর্ভোগ কমেনি, বরং দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মেরামতকাজে দুর্নীতি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হলে মেরামতের কিছুদিন পর সড়কের অবস্থা এমন নাজুক হতো না। সড়কের দুরবস্থাসহ অন্যান্য কারণে বর্তমানে যানজট এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, মাইলের পর মাইল যানবাহন থেমে থেমে চলছে। রেলের যাত্রীদেরও শিডিউল বিপর্যয়সহ নানা বিড়ম্বনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ঈদযাত্রা। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে নির্ধারিত সময়ে কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যারা ১৫-১৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন, সেসব যাত্রীর বেশির ভাগকেই এখন আবার ট্রেনের অপেক্ষায় সময় পার করতে হচ্ছে। বর্তমানে যেসব ইঞ্জিন চলছে, তার প্রায় ৮৫ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে ৬০-৬৫ মাইল গতির পরিবর্তে ৩০-৩৫ মাইল গতিতে চালাতে হচ্ছে অধিকাংশ ট্রেন।
স্বজনের সঙ্গে ঈদ করতে নৌপথেও পাড়ি দিচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। যদিও ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ ঠেকাতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। তবুও ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে অন্যান্যবারের মতোই পুরনো, ফিটনেসবিহীন, চলাচলের অনুপযোগী লঞ্চ সংস্কার করেছেন কিছু কিছু মালিক। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ঈদযাত্রার আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে। প্রশাসন এসব রোধে নানা ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। তবে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিসি) নজর রাখতে হবে, কোনো অবস্থায়ই আনফিট নৌযান যেন চলাচল করতে না পারে। দুর্ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। অতীতের মতো ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার না হয়, তার জন্য কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে, এটাই প্রত্যাশা।
তবে এসব দুর্ভোগের বাইরে ঈদের আগেই দেশবাসীর জন্য একটি বড় উপহার এনে দিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সপ্তম এশীয় কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে ভারতকে তিন উইকেটে হারিয়ে ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা এনে দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের এ আয়োজনে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শিরোপা লাভ করা বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন। ২১ বছর আগে আইসিসি কাপ জয় করে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল বিশ্বক্রিকেট অঙ্গনে নিজের স্থান করে নেয়ার যে পথে পা রেখেছিল, তারই পথ ধরে নারী ক্রিকেটাররা আজ এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। এভাবেই তারা টেস্ট, ওয়ানডে ও টি২০Ñ সব ফরম্যাটেই একদিন বিশ্বসেরাদের কাতারে স্থান করে নিতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররাও সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেছেন। নারী ক্রিকেট ও ফুটবল দলের এসব অর্জন যেন এখানেই আটকে না থাকে, সেজন্য প্রয়োজন সযতœ পৃষ্ঠপোষকতা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। বিজয়ীদের নগদ অর্থ কিংবা সংবর্ধনা জ্ঞাপনই যথেষ্ট নয়, বরং তাদের জন্য নিয়মিত ও ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের আয়োজন ও খেলাধুলার যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। আমরা আশা করব, ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট সবাই এদিকে দৃষ্টি দেবেন।

আরো খবর

Disconnect