ফনেটিক ইউনিজয়
কোটা সংস্কার
দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি ও বাস্তবায়ন কাম্য

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী গড়ে ওঠা আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আলোকে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারির কথা ছিল। অথচ তা আজও আলোর মুখ দেখেনি। এখন বলা হচ্ছে, কোটা সংস্কার অতটা সহজ নয়। অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সম্প্রতি আন্দোলনকারীরা দ্রুততার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি জানালে সরকার সমর্থিত ছাত্রসংগঠনের কর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান। প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা থাকলেও প্রশাসন বিষয়টির ত্বরিত সমাধান করার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার পরিচয় দিয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
৩০ জুন আন্দোলনকারী ছাত্রদের সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা চালিয়েই ক্ষান্ত হননি, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায়ও বাধা দিয়েছেন। এমনকি আন্দোলনকারী সংগঠনের অন্যতম নেতা নুরুল হক নুরকে মধ্যরাতে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়। কোনো সভ্য সমাজে এমনটি কাম্য নয়। নুরের শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। এদিকে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেনকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) একটি মোটরসাইকেল পোড়ানোর মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়, যা উদ্বেগজনক।
তবে ছাত্রলীগের এ হামলা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপরও হয়েছে। কোটা সংস্কারের আন্দোলন একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন। ১৯৭২ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির যাত্রা। দীর্ঘ ৪৭ বছরে এ পদ্ধতির অনেক পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন-বিয়োজন হয়ে বর্তমানে আজকের অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৫৫ শতাংশ নিয়োগ কোটা পদ্ধতিতে এবং বাকি ৪৫ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে হয়ে থাকে। তাই কোটা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস এখন সময়ের দাবি। অথচ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালানো হলো। এমনকি, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হামলার প্রতিবাদ জানাতে আসা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, লেখক, গবেষকদের ওপর এরপর চড়াও হয়েছে পুলিশ, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
মুক্তিযোদ্ধা, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধীদের কোটা বিলুপ্তি আন্দোলনকারীরাও চাইছে না। কিন্তু অজস্র তরুণের আবেগ যে বিষয়টিকে নিয়ে, সেই কোটা প্রথা পুনর্বিন্যাস করে পদ্ধতিটি সংস্কারে সম্মতি দেয়ার ক্ষেত্রে এ কালক্ষেপণ কতটা সুচিন্তিত, তা ভাবার অবকাশ রয়েছে। বিদ্যমান কোটা সংস্কার করে নতুন একটি পদ্ধতি ঘোষিত হলে সবারই মঙ্গল। কিন্তু এর পরিবর্তে আন্দোলনকারীদের দমনে এই যে ছাত্রলীগ এবং পরবর্তীতে পুলিশের হামলা, তা অনাবশ্যক সংঘর্ষ ও সহিংসতার পথ তৈরি করছে। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বারবার দেশকে গণতন্ত্রের দিকে চালিত হতে সহযোগিতা করেছে, সেখানে আজ কোনো ভিন্ন চিন্তা প্রকাশের সুযোগ নেই, এটা বিস্ময়কর!
শোনা যাচ্ছে, সরকার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করে দিয়েছে, যা ১৫ কার্যদিবসে একটি প্রতিবেদন দেবে। আমাদের প্রত্যাশা, সময়সীমা মেনে কমিটি তার প্রতিবেদন দেবে ও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর সব হামলা ও পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা হবে। গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দেয়া হবে এবং হামলাকারীদের শাস্তি প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে প্রশাসনের নীরবতা জনমনে ভুল বার্তাই দেবে।

আরো খবর

Disconnect