ফনেটিক ইউনিজয়
সড়ক পরিবহন আইন চূড়ান্ত অনুমোদন
পূরণ হয়নি প্রত্যাশা

সড়ক দুর্ঘটনায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী আন্দোলন করেছে। একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য তারা সোচ্চার হয়েছে। শুধু সেøাগানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি তারা; দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে ‘ইমারজেন্সি লেন’ করতে হয়, ‘ফুটপাত’ খালি রাখতে হয়, কীভাবে মন্ত্রী ও পুলিশের গাড়িকেও নিয়ম পালনে বাধ্য করতে হয়।
ছাত্রদের তদারকিতে সড়ক পরিবহনের যে সীমাহীন বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম বেরিয়ে এসেছে, তা ভয়াবহ। বেসরকারি যানবাহনের পাশাপাশি সরকারি বহু প্রতিষ্ঠানের যানবাহনে বৈধ কাগজপত্র নেই। এসব গাড়ি চলছে পুলিশ ও পরিবহন সমিতিগুলোকে ‘ম্যানেজ’ করেই। দুঃখজনক হলো, শিক্ষার্থীদের এ কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়নি। শিক্ষার্থীদের সমাবেশ ও মিছিলে হামলা হয়েছে। আন্দোলনের ভেতরে অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে, এ অজুহাতে শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত করা হয়েছে। যেখানে রাষ্ট্রের ভূমিকা হওয়া উচিত ছিল শিশু-কিশোর-তরুণদের অভিভাবকের, সেখানে তাদের সাথে শাসকের মতো আচরণ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা মনে করি, শান্তিপূর্ণ উপায়েই শিক্ষার্থীদের সড়ক আন্দোলনের অবসান ঘটাতে হবে। শিক্ষার্থীদের জায়গা রাজপথ নয়, তাদের ঘরে ফিরে পড়াশোনায় আত্মনিয়োগ করতে হবে সত্য। কিন্তু তারা যে দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছিল, তাতে অযৌক্তিক কিছু নেই। এ দাবি পূরণ করা সরকারের কর্তব্য। শিক্ষার্থীরা সবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, নিরাপদ সড়ক ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য কী কী করা দরকার। আমরা আশা করব, সরকার শিক্ষার্থীদের এ ন্যায্য ও সঙ্গত দাবি পূরণে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে। এর আগে সড়কের নিরাপত্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে পাঁচ দফা নির্দেশনা ছিল, এখন পর্যন্ত তার কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন মন্ত্রীর একটি বৈঠক পর্যন্ত হয়নি। বরং নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের  আন্দোলনের মধ্যেই আরও ১১ জনের মৃত্যু ঘটেছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, এখনও সড়ক জনগণের জন্য মৃত্যুফাঁদই রয়ে গেছে।
আশার কথা, মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচিত সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আইনটি নিয়ে মানুষের অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু যে খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে, তা যথাযথ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সড়কে দুর্ঘটনা রোধে বেপরোয়া গাড়ির কারণে মৃত্যুর ক্ষেত্রে অন্তত সাত বছর কারাদ-ের দাবি জানিয়েছিল নাগরিক সমাজ। কিন্তু তা করা হয়নি। আইনে পাঁচ বছরের জেলের বিধান রাখা হয়েছে। যদিও প্রতিবেশী ও উন্নত দেশে ১০ থেকে ১৪ বছরের জেলের বিধান আছে। এমনকি বড় আকারের জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। এরকম অনেক অসঙ্গতি রয়েই গেছে খসড়াটিতে। তাই নতুন আইনটি সড়ক পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা কতটা ফিরিয়ে আনতে পারবে, সে ব্যাপারে সন্দেহ আছে। সংসদে পাস হওয়ার আগে সরকারের উচিত বিশেষজ্ঞদের আরও মতামত নিয়ে আইনটি যাতে জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে পারে সে চেষ্টা করা। তবে আইন প্রণয়নের চেয়েও আইনের যথাযথ প্রয়োগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সবার আন্তরিকতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সমন্বিত প্রয়াসে সড়কের নৈরাজ্য নির্মূল করতে হবে।

আরো খবর

Disconnect