ফনেটিক ইউনিজয়
পদ্মার ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে

প্রতি বছরই শরীয়তপুরে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে পদ্মা। কিন্তু গত দুই বছর ধরে তা আরও উন্মত্ত হয়ে সেখানকার ভিটেমাটি, ঘরবাড়ি, আবাদি জমি, বাজার, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বড় বড় সব স্থাপনা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। ফলে সেখানকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যখাতে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা।  শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলায় ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পদ্মার ভাঙনের শিকার হয়েছে ৫ হাজার ৮১টি পরিবার। বাড়িঘর, জমি হারিয়ে একসময়ের অবস্থাসম্পন্ন পরিবারগুলোও এখন ভূমিহীন হয়ে পড়েছে। বিগত প্রায় ৫১ বছরে এখানকার অন্তত ৬৬ হাজার হেক্টর জমি হারিয়ে গেছে উত্তাল এই নদীগর্ভে। যার থাবায় শরীয়তপুরের মানচিত্রই ছোট হয়ে এসেছে।
সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস তাদের বাৎসরিক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়েছিল, এবার বড় ধরনের ভাঙন হবে। আগেভাগে পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও এ ব্যাপারে সেখানে সরকারি বা বেসরকারি কোনোরকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যার ফলাফল- এলাকার হাজার হাজার পরিবার আজ গৃহহারা। এখনো অব্যাহত রয়েছে এই ভাঙন। প্রতিদিনই পদ্মা কেড়ে নিচ্ছে বহু মানুষের স্বপ্ন। তাই ভাঙন রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
চলতি বছরের আগস্টে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার আর্থ অরজারভেটরি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনের কারণ দু’টি। প্রথমত, এটি প্রাকৃতিক, মুক্ত প্রবাহিত নদী ও সুরক্ষার তেমন ব্যবস্থা নেই। দ্বিতীয়ত, নদীর তীরে একটি বড় বালুচর রয়েছে, যা দ্রুতই ভেঙে যেতে পারে। এই প্রতিবেদনে ভাঙনের যে সব কারণ বের হয়ে এসেছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার। পদ্মা নদীর পানি না কমা পর্যন্ত তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ করা সম্ভব না। তবে ভাঙনের তীব্রতা যতদুর সম্ভব কমানোর চেষ্টা করতে হবে। বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে অবশ্য সে চেষ্টা এখন চলছে।
ভাঙনের কবলে দিশেহারা, নিঃস্ব ওইসব মানুষের পাশে এখন আমাদের দাঁড়াতে হবে। ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধ করার দিকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা। মাটির গঠন, নদীর গভীরতা, স্রোতের তীব্রতা ও অন্যান্য তথ্যসহ সামগ্রিক সমীক্ষা পরিচালনা করে ভাঙনের কারণগুলো সঠিকভাবে নির্ণয় করা দরকার। এরপর স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের জন্য পদ্মার তীর রক্ষা প্রকল্প গ্রহণ ও যতদ্রুত সম্ভব তা বাস্তবায়ন করতে হবে। নইলে মানচিত্রে হয়তো এই জেলাটিরই আর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না।

আরো খবর

Disconnect