ফনেটিক ইউনিজয়
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজন আইনের সঠিক প্রয়োগ

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের পর কেটে গেছে বেশ কিছুদিন। এরমধ্যে সড়ক পরিবহন আইন পাস হয়েছে। নেয়া হয়েছে বেশকিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপও। কিন্তু তারপরও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরেনি। বন্ধ হয়নি দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারানো। এই যখন অবস্থা, তখন পরিবহন খাতের মালিক ও শ্রমিকরা সদ্য পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন। হুমকি দেয়া হয়েছে, আইনটি সংশোধন করা না হলে তারা পরিবহন ধর্মঘটসহ আরও বড় কর্মসূচি নেবেন। যদিও আপাতত সরকারের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। তবে তাদের দাবি মেনে নিয়ে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন আদৌও সম্ভব কি?
লাইসেন্স ছাড়া বা ভুয়া লাইসেন্স নিয়ে, ট্রাফিক আইন অমান্য করে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোয় দুর্ঘটনায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ হতাহত হচ্ছে। যাদের কারণে সড়ক-মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া উপায় কি? এমনিতেই নিরাপদ সড়ক আইন প্রয়োগের বাস্তবতা নিয়ে সাধারণ মানুষ হতাশ। বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরাও দাবি করেছেন, দীর্ঘদিনের নৈরাজ্য বন্ধে আইনে রাখা শাস্তির বিধান পর্যাপ্ত নয়। অথচ তারপরও পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা এই আইন মানতে রাজি নয়, যা দুঃখজনক। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের পরিবারও যে কোনো সময় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। রমিজ উদ্দীন কলেজের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক শিক্ষার্থীর পিতাও চালক ছিলেন। সুতরাং বিরোধিতার বদলে নিরাপদ সড়কের যৌক্তিক দাবিটির ব্যাপারে তাদেরও সহযোগিতা করা প্রয়োজন। কারণ নিরাপদ সড়কের সুবিধা ভোগ করবেন তারাও।
দেশের কোনো নাগরিকই আইন ও জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। তাই জনসাধারণকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের চেষ্টা ঠিক না। অতীতেও আমরা দেখেছি, পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা তাদের অন্যায় দাবি আদায়ের মাধ্যম হিসেবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল। ১৯৮৩ সালের আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় সাজা ১০ বছর করা হয়েছিল। সে সময় শ্রমিকরা জনগণকে জিম্মি করে আন্দোলনের মাধ্যমে ধারাগুলো জামিনযোগ্য ও সর্বোচ্চ সাজা তিন বছর করতে বাধ্য করেছিল। আমরা আশা করবো, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো তাদের অযৌক্তিক এই সব দাবি থেকে সরে আসবে। শৃঙ্খলা সবার জন্যই জরুরি। পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা এই আইনটিকে বিরোধিতা নয়, বরং সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আরো খবর

Disconnect