ফনেটিক ইউনিজয়
দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা মানবিক ও জৈবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মাটিতে দিন দিন লবণাক্ততা বেড়েই চলেছে। আর তা ছড়িয়ে পড়ছে পশ্চিমাঞ্চলের এলাকাগুলোতেও। উপকূল থেকে লবণ যেভাবে পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে আগামী কয়েক দশকে বিপন্ন হয়ে উঠতে পারে তিন কোটি মানুষের জীবন। এতে চরম মানবিক ও জৈবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও ও অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে এক গবেষণায় আশঙ্কা করা হয়েছে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাবার কারণে উপকূলবর্তী প্রায় দুই লাখ কৃষক বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। গত ২৩ অক্টোবর নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ সাময়িকীতে ছাপা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূল অঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে ধান চাষের অনুপযোগী হলে কৃষক এলাকা ছাড়বেন।
লবণের প্রভাবে গত কয়েক বছরে ঝালকাঠিতে এক হাজার হেক্টর আবাদি জমি কমে এসেছে। ধানের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে প্রায় পাঁচহাজার টন। ইতিমধ্যে বহু কৃষক ধান চাষ ছেড়ে বাধ্য হচ্ছেন জমিতে চিংড়ি বা অন্য সামুদ্রিক মাছের চাষ করতে। লবণাক্ততার কারণে প্রতিবছর আমাদের ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ২২ কোটি টাকা। এর বিরুদ্ধে কার্যকর যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। লবণাক্ততার ফলে কৃষিতে বিপর্যয় তো দেখা দিয়েছেই, তার উপরে আবার বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব, গৃহপালিত পশুপাখি এবং প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় ব্যর্থতাসহ তৈরি হচ্ছে নানা সংকট। বৃদ্ধি পাচ্ছে নানা আর্থ-সামাজিক সমস্যাও।
বাঁধের কারণে নোনা পানি ফসলের জমিতে প্রবেশে বাধা পায়। কিন্তু দফায় দফায় বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধগুলো সংস্কার হচ্ছে না দীর্ঘদিনেও। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা হতাশাজনক। ইতিমধ্যে উপকূলের মানুষ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার চেষ্টা করছে। আশা করা যায়, সময়োচিত নূতনতর গবেষণা ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশ এই সমস্যাকে মোকাবেলা করবে। তবে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশের কৃষিবিদদের লবণ প্রতিরোধী বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবন করে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।
লবণাক্ততার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি আমাদের ভালোভাবে বেঁচে থাকাকে কঠিন করে দিচ্ছে। তাই আশা করা যায় সরকার লবণাক্ততার মাত্রা কমিয়ে আমাদের জীববৈচিত্র্য ও কৃষি বাঁচিয়ে রাখতে আরও সচেষ্ট হবে। সেই সাথে নদী-বাঁধে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

আরো খবর

Disconnect