ফনেটিক ইউনিজয়
মশার প্রকোপ বাড়ছে : প্রয়োজন সিটি করপোরেশনের তদারকি

প্রতিনিয়ত নানারকম দুর্ভোগের শিকার নগরবাসীর কাছে শীতের শুরুতে এখন নতুন হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে মশার উপদ্রব। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল থেকে শুরু করে চলন্ত গাড়িতেও মশার প্রকোপ বাড়ছে। বাসা-বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ রেখে, দিনের বেলা মশারি টাঙিয়েও এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। এডিস মশাবাহিত চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু রোগের মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর রাজধানীতে শুরু হয়েছে কিউলেক্স মশার রাজত্ব। যা ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন রোগের উদ্ভব ঘটায়। অথচ এ মশার কবল থেকে রাজধানীবাসীকে উদ্ধারে দুই সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি) কোনো ভূমিকা চোখে পড়ছে না।
নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য ৫ থেকে ৬ জন করে কর্মী নিযুক্ত আছেন। তাদের দিনে দু’বার ওষুধ ছিটানোর কথা। কিন্তু নির্ধারিত কয়েকটি অভিজাত এলাকায় মাঝে-মধ্যে লোক দেখানো মশা মারার ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও নিম্নবিত্ত এলাকায় সেটিও করা হয় না। মশা নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে কাজ করেন স্থানীয় কাউন্সিলররা। আর ওষুধ সরবরাহ করে সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু বেশিরভাগ কাউন্সিলর ওষুধ ছিটানোর কোনো তদারক করেন না। বরং তারা শুধু স্বাক্ষর করে চলে যান। ফলে যা হওয়ার তাই হয়, ওষুধ ছিটানোর কাজটি কেবল কাগজে কলমেই রয়ে যায়।
অথচ মশা নিধনে বছর বছর বরাদ্দ বাড়াচ্ছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য বরাদ্দ ছিল যথাক্রমে ২১ ও ২৬ কোটি টাকা। এত বিপুল অঙ্কের বরাদ্দ থাকার পরও সময়মতো ওষুধ না ছিটানো ও স্থানীয় কাউন্সিলরদের তদারকির অভাবে রাজধানীবাসীর মশাজনিত দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। তাছাড়া দুই সিটি করপোরেশন মিলে রাজধানীতে জলাধারের পরিমাণ প্রায় তিনহাজার বিঘা। এসব জলাধার অপরিচ্ছন্ন থাকায় সেখানে মশার উপদ্রব বাড়ছে। অথচ মশার প্রজননের জন্য অনুকূল এইসব জলাধার পরিষ্কার করার নাগরিক দাবির বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই সিটি করপোরেশনের।
তাই মশক নিধনে দুই সিটি করপোরেশনকে আরো সক্রিয় হতে হবে। এ খাতে বরাদ্দ যেমন কম নয়, জনবলও অনেক। শুধু বাজেট বাড়ালেই মশা নিধন হবে না। বরাদ্দের পুরো সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মশার উপদ্রব বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে আমরা আশা করি।

আরো খবর

Disconnect