ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
‘পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবেই নিতে হবে’

শাপলা পাল। বর্তমান সময়ে বাংলা গানের জগতের এক উদীয়মান শিল্পী। সংগীত সাধনার মাধ্যমেই তিনি বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখেন। গানই তাঁর ধ্যান ও জ্ঞান। সুরের মূর্ছনায় চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ ২০১৪-তে সেরা পনেরোতে নাম লিখিয়েছিলেন। চট্টগ্রামের মেয়ে শাপলা গত বছর নাসিরাবাদ মহিলা কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর পাস করেছেন। শিগগিরই তাঁর একক অ্যালবাম বাজারে আসছে। সংগীতের নানা বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক দেশকাল-এর সঙ্গে কথা বলেছেন এ শিল্পী। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নীলিমা টিনা

প্রথমেই জানতে চাই গানের শুরুটা হলো কীভাবে?
লেখাপড়া শুরুর আগেই আমি গান শেখা শুরু করি। ১৯৯২ সালের দিকের ঘটনা। আমি তখন খুব ছোট। সে সময় থেকেই গানপাগল ছিলাম। হারমোনিয়াম নিয়ে নাড়াচাড়া করতাম। এটা দেখে মা আমাকে গান শেখানো শুরু করেন। মায়ের হাতেই গানে হাতেখড়ি। তাঁর কারণেই আমার সংগীত সাধনা সম্ভব হয়েছে। তবে বাবারও ইচ্ছা ছিল আমি লেখাপড়ার পাশাপাশি সংগীত সাধনা করি। এরপর সংগীতজ্ঞ রাখাল নন্দী, রাজেশ সাবা, আব্দুল রহিম স্যারের কাছ থেকে তালিম নিয়েছি। ২০০১ সালে বাংলাদেশ বেতারে শিশুশিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হই। এখন বিশিষ্ট নজরুলসংগীতশিল্পী সুজিত মোস্তফা স্যারের কাছ থেকে নজরুলসংগীতের তালিম নিচ্ছি।

শুনেছি আপনার দুটি মিক্স অ্যালবাম বের হয়েছে। একক অ্যালবামেরও কাজ চলছে। সে কাজ এখন কতদূর?
হ্যাঁ। দুটি মিক্স অ্যালবামে কাজ করেছি। এখন তো  শ্রোতারা শোনার সঙ্গে সঙ্গে দেখতেও চান। তাই দুটি মিউজিক ভিডিওর কাজও করেছি। আমার একক অ্যালবামের কাজ এর মধ্যেই শেষ হয়েছে। গত বছর এটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। তবে কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি। তাই আসছে ফেব্রুয়ারিতে অ্যালবামটি বাজারে আসবে। এখানে ছয়টি গান গেয়েছি। এর একটি থাকছে ফোক গান। দুটি আধুনিক ধাঁচের ফোক। মাকে নিয়ে একটি গান করেছি অ্যালবামটিতে। অন্য দুটি মেলোডি ট্র্যাকের। সব গানেরই সুর দিয়েছেন আহমেদ রাজীব ভাই। আশা করি শ্রোতাদের ভালো লাগবে।

দেশ-বিদেশে অনুষ্ঠানগুলোতে কোন ধরনের গান গাইতে বেশি ভালো লাগে?
আসলে টেলিভিশন, রেডিওর চেয়ে আমার স্টেজ শো বেশি করা হয়। মঞ্চানুষ্ঠান করতে আমার ভালোও লাগে। কারণ স্টেজে গান গাওয়ার মাধ্যমে দর্শকদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়। এরূপ অনুষ্ঠানে আধুনিক গান বেশি গাওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে আঞ্চলিক গানেরও অনুরোধ আসে। ফোক গান করা হয়। তবে নজরুলসংগীত গাইতে আমার বেশি ভালো লাগে।
 
বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে জানতে চাই-
যেহেতু মঞ্চে গান করতেই বেশি ভালো লাগে, তাই এখন বিভিন্ন কোম্পানির প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছি। চট্টগ্রামের অনেক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্টেজ শো করছি। সম্প্রতি বৈশাখী টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে লাইভ শো করলাম। মাছরাঙা টিভিতেও একটি অনুষ্ঠানে গান করেছি। এশিয়ান টিভিতে সামনের সপ্তাহে কাজের কথা রয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি। একক অ্যালবাম নিয়েই একটু ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।

শাপলা পাল তাঁর সংগীতজীবনে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন। গানের পাশাপাশি লেখাপড়া, সংসার সামলানো; কীভাবে সম্ভব হয় একসঙ্গে?
মূল শক্তি হলো আমার পরিবার। বাবাকে হারিয়েছি ২০০৮ সালে। এরপর আমার মা আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন, এখনো করে চলছেন। বিয়ের পর স্বামী অর্জিত চৌধুরীর অনুপ্রেরণা অনেক কাজে দিয়েছে। তা ছাড়া আমার শ্বশুরবাড়িতেও একটি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল পেয়েছি। সবদিক থেকেই সহযোগিতা পেয়েছি বলেই এতদূর আসা সম্ভব হয়েছে।

এখন শিল্পীদের মধ্যে পুরোনো গানকে নতুনভাবে সাজিয়ে রেকর্ড করতে দেখা যাচ্ছে। গানের এ নতুন সংকলনকে আপনি কীভাবে দেখেন?
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হচ্ছে। এখন মানুষ খুব সময়সচেতন। সবকিছুতেই তারা ছোট-সহজ পথ খোঁজে। তা ছাড়া এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা সবকিছুতেই আধুনিকতা খোঁজে। এ ধরনের গান তারা বেশি শুনতে পছন্দ করে। যেমন রবীন্দ্রসংগীত এখন অনেকেই যতটা শোনে, তার চেয়ে বেশি শুনবে যদি এতে কিছুটা আধুনিকতার ছোঁয়া দেওয়া যায়। আবার পুরোনো গানগুলো যেন হারিয়ে না যায়, তাই শিল্পীরা গানের এ ধারাতে কাজ করছেন। যদিও এখানে কিছুটা রিক্স থাকে। কারণ, নতুন কাজ ভালো না হলে তা জনপ্রিয়তা হারায়। তবে পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবেই নিতে হবে। কারণ, পুরোনো গানের নতুন রূপ হলেও তো মানুষ বাংলা গান শুনছে। বাংলা গান শোনার আগ্রহ বাড়ছে। এতে পুরোনো গানগুলোও হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকছে না।

গান নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
আসলে আমার এখন সব পরিকল্পনা গানকে ঘিরেই। এমনভাবে গান করে যেতে চাই, যেন সবার মনে জায়গা করে নিতে পারি। দর্শক-শ্রোতার হৃদয় জয় করতে পারি গান দিয়ে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নজরুলসংগীতের ওপর আরও জোর দিতে চাই। নজরুলের গানকে আধুনিক ধাঁচে রূপ দিয়ে সময় উপযোগী করার চেষ্টা করছি।  আরও একক অ্যালবামের কাজ করতে চাই। সিনেমায় প্লে-ব্যাক করার ইচ্ছে রয়েছে। এটা আমার স্বপ্নও বলতে পারেন। চলচ্চিত্র সংগীত পরিচালক তুষার আদিত্যের সঙ্গে ইতিমধ্যে কথাও হয়েছে।

Disconnect