ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
‘নিষ্ক্রিয় সমিতিতে না থাকাই ভালো মনে করি’

জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী। গুণী এই অভিনেত্রী জনপ্রিয়তার সঙ্গে প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। সম্প্রতি শিল্পী সমিতির কার্যকরী পরিষদ সদস্য থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি। তাঁর এ সিদ্ধান্তের কারণ ও সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন সাম্প্রতিক দেশকাল-এর সঙ্গে

শিল্পী সমিতির কার্যকরী পরিষদের সদস্য থেকে পদত্যাগের কারণ কি?
ব্যক্তিগত নানাবিধ কারণে উক্ত পদ থেকে আমি সরে দাড়িয়েছি। আমার মনে হয়েছে এই সমিতির সঙ্গে থেকে আমার চলচ্চিত্রের জন্য কিছু করা সম্ভব নয়। এছাড়া শিল্পী সমিতির কোনো মিটিং কিংবা আয়োজন আমাকে জানানো হয়না। এই বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিল্পী সমিতির সাম্প্রতিক কার্যক্রম নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এই সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানতে চাই।
সাম্প্রতিককালে শিল্পী সমিতির কর্মকাণ্ড সবার কাছে প্রশ্নবোধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি নায়করাজ রাজ্জাককে নিয়ে কটুক্তি করা হয়েছে। অথচ শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আলমগীর সাহেব চলচ্চিত্র বোঝেননা বলে মন্তব্য করা হয়েছে। এতেও শিল্পী সমিতি নিরব। বাপ্পারাজের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। এতো কিছুর পরেও শিল্পী সমিতি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। নিষ্ক্রিয় সমিতিতে না থাকাই ভালো মনে করি।

নির্বাচনের দিন থেকেই শিল্পী সমিতির নতুন কমিটি বিভিন্নভাবে সমালোচিত হয়ে আসছে। এই বিষয়ে আপনি কি বলবেন?
এবারের নির্বাচন সমালোচনায় ঠাসা নির্বাচন। নির্বাচনের রাতে শাকিব খানকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। অথচ কেউ তার প্রতিবাদ করেনি। একজন শিল্পীকে অপমান করা মানেই সবাইকে অপমান করা। ক্ষমতার জন্য আমরা একে অন্যকে সম্মান দেওয়া ভুলে গেছি। এই বিষয়ে এর বেশি কিছু বলতে চাইনা।

সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। চলচ্চিত্র নিয়ে তিনি কি বলেছেন?
আমাদের গুণী চলচ্চিত্র পরিচালক আজিজুর রহমানের চিকিৎসার বিষয়ে আমি ও শাবানা ম্যাডাম এবং চলচ্চিত্র পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার ভাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি বরাবরই আমাদের চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্রের শিল্পীদের জন্য আন্তরিক। তিনি আজিজুর রহমানের চিকিৎসার ব্যয় ভার গ্রহণের দায়িত্ব নিয়েছেন। এছাড়া আমাদের চলচ্চিত্রের আরো উন্নয়নের জন্য তিনি কাজ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

শাবানার সঙ্গে আপনি বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার সর্ম্পকে কিছু বলুন?
শাবানা ম্যাডাম শিল্পী হিসেবে যেমন অনেক উঁচু মানের, তেমনি ব্যক্তি হিসেবেও অসাধারণ। তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন না। কিন্তু সবসময় চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্রের মানুষগুলোর খোঁজ খবর রাখেন। তাদের পাশে এসে দাঁড়ান। খুব অবাক হয়েছি, আমাদের চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে একটিবার শুভেচ্ছা জানানোর প্রয়োজনও মনে করেনি। এমন একজন লিজেন্ডকে যদি সম্মান প্রদর্শনে কার্পণ্যতা থাকে, সেখানে শিল্পী সমিতির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন জাগতেই পারে।

যৌথ প্রযোজনার বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
আমাদের দেশে যৌথ প্রযোজনায় অনেক আগে থেকেই ছবি নির্মাণ হয়ে আসছে। সেই ছবিগুলো সঠিক নিয়মের মধ্য দিয়েই নির্মাণ হয়েছে। দু’দেশের শিল্পী কলাকুশলীদের সমান বণ্টন ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর এই নিয়মনীতি অমান্য করা হয়েছে। একজন শিল্পী হিসেবে চাইবো সঠিক নিয়মের মধ্য দিয়েই যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র নির্মাণ হোক। আমাদের চলচ্চিত্রের ক্ষতি হোক, এমন কিছু কোনো শিল্পীরই প্রত্যাশা নয় বলে মনে করি।

অভিনয়ের পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন। কেমন চলছে ব্যবসা?
রেস্টুরেন্ট ব্যবসাটি মূলত আমার ছেলে স্বাধীনের জন্য করা হয়েছে। এই ব্যবসার প্রতি সে অনেক আন্তরিক। আমি এবং সানি কিছুদিন এটি দেখাশোনা করব। তারপর পুরোপুরিভাবে এটি পরিচালনা করবে স্বাধীন। ব্যবসাও সবার দোয়ায় ভালো চলছে।

আপনার বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে?
এখন ‘খায়রুন সুন্দরী’ খ্যাত পরিচালক এ কে সোহেলের ‘পবিত্র ভালোবাসা’ শীর্ষক একটি ছবির শুটিং করছি। এই ছবিতে আমার বিপরীতে অভিনয় করছেন ফেরদৌস। এছাড়া বর্তমানে হাতে রয়েছে মনতাজুর রহমান আকবরের ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ ও বদিউল আলম খোকনের ‘হারজিৎ’।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এন আই বুলবুল

Disconnect