ফনেটিক ইউনিজয়
কালোর অন্তরালে আলো
মান্নাফ সৈকত

অপরাহ উইনফ্রে। তাকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী নারী। টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বের একশোজন সর্বোচ্চ প্রভাবশালী মানুষের তালিকায় অপরাহ উইনফ্রে একমাত্র ব্যক্তি, যিনি টানা আটবার নির্বাচিত হয়েছেন। যেখানে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও হিলারি ক্লিনটন নির্বাচিত হয়েছেন পাঁচবার। টকশো ‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো’, যা মার্কিন  টেলিভিশনের ইতিহাসে সর্বাধিক প্রচারিত অনুষ্ঠান হিসেবে গণ্য। অপরাহ উইনফ্রে মূলত এই শো-এর প্রযোজক এবং উপস্থাপক হিসেবেই সর্বাধিক পরিচিত।
এবার চলে যাই একটু আগে। যুক্তরাষ্ট্রের এক দরিদ্র্য আফ্রো-আমেরিকান পরিবারে জন্ম অপরাহর। বাবা ছিলেন নরসুন্দর এবং মা গৃহপরিচারিকা। তার বাল্যকালেই বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। তার শৈশব ছিল দারিদ্র ও যন্ত্রণাপূর্ণ। অন্যদিকে মাত্র ৯ বছর বয়সেই নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের শিকার হন তিনি। ১৩ বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন একটি বস্তিতে। সেখানে গিয়েও রেহাই মেলেনি কৃষ্ণাঙ্গ এ নারীর। আবারো যৌন নির্যাতনের শিকার হন। চৌদ্দ বছর বয়সে এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। জন্মের কিছুদিন পর শিশুটি মারা যায়। দুঃখ-কষ্টের জীবন যেন আরো দুর্বিষহ হয়ে উঠে তার। তবে থেমে থাকেননি তিনি। এরপর বাঁক বদল। টেনেসিতে বসবাস শুরু করেন বাবার সঙ্গে। লেখাপড়া করতে থাকেন কৃত্বিত্বের সঙ্গে। গণমাধ্যমের উপর ব্যাপক আগ্রহ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নেন গণযোগাযোগ বিষয়ের উপর। এরপরই পেয়ে যান ভালো একটি চাকরি। বিখ্যাত এক টেলিভিশন চ্যানেলের একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা সহকারি হিসেবে। জীবনের এ বাঁকে এসে কিছুটা স্বস্তি মেলে অপরাহর।
মানুষের জীবনের গল্প শুনতে ভালোবাসেন তিনি। আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। আর সেটাকেই কাজে লাগিয়ে শুরু করেন ‘অপরাহ উইনফ্রে শো’। ২৫ বছরে এই টেলিভিশন শো পুরো দুনিয়ায় এক নামে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কালো মেয়ে অপরাহ তার সহানুভূতি দিয়ে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের রাণী হয়ে ওঠেন।
টকশোর পাশাপাশি ১৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন অপরাহ উইনফ্রে। আগামী বছর মুক্তি পাচ্ছে তার নতুন আরেকটি ছবি ‘অ্যা রিংকল ইন টাইম’। তার অভিনীত অন্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আনটাইটেলড রিচার্ড প্রায়র বায়োপিক’, ‘গ্রিনলিফ’, ‘সেলমা’, ‘লি ড্যানিয়েলস দ্য বাটলার’, ‘বিলাভেড’, ‘বিফোর উইমেন হ্যাড উইংস’, ‘দেয়ার আর নো চিলড্রেন হেয়ার’ ইত্যাদি। অধিকাংশ ছবিতেই তিনি মূল চরিত্রের অভিনেত্রী ছিলেন।

Disconnect