ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
বর্তমান সময়টাকে ধরার চেষ্টা করেছি

ক্লোজআপ তারকা মৌসুমী আক্তার সালমা। ফোক গানে তাঁর জনপ্রিয়তা দারুণ। অনেকে তাঁকে লালনকন্যা বলেও ডাকেন। তবে নিজেকে সব ধরনের গানের শিল্পী হিসেবেই ভাবতে পছন্দ করেন সালমা। স্টেজ শো ও গান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গে কথা হলো তাঁর সঙ্গে

বর্তমানে গানের প্রেক্ষাপট কেমন মনে করছেন?
এখন আগের চেয়েছে ভালো গান হচ্ছে। কিন্তু গেল বছরের চেয়ে এই বছর গান তৈরির সংখ্যা কিছুটা কম। এ ছাড়া এখন গান প্রকাশের মাধ্যমে অনেক পরিবর্তন এসেছে। শিল্পীরাও গান করার জন্য উৎসাহিত হচ্ছেন। বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নতুন প্রকাশে অর্থলগ্নী করছে। আশা করছি আবারও গানে সুদিন ফিরবে।

নতুন শিল্পীদের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য কেউ শ্রোতাদের মন জয় করতে পারছে না। আপনার মন্তব্য কী?
দু-একটি গান শ্রোতাপ্রিয় হলেই কোনো শিল্পী জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন না বলে মনে করি। অনেক সময় অনেকের দু-একটি গান চারদিকে শোনা যায়। কিছুদিন পর আবার সেই গান হারিয়ে যায়। শিল্পীও হারিয়ে যান। একজন শিল্পীকে টিকে থাকার জন্য সব সময় ভালো গান করতে হবে। সস্তা জনপ্রিয়তায় নিজকে ভাসিয়ে দিলে সে অবশ্যই হারিয়ে যাবে।

লালন-কন্যা হিসেবে নিজেকে কীভাবে পর্যবেক্ষণ করেন?
আমি লালনকে আমার মধ্যে ধারণ করি। জানি না কতটুকু ধারণ করতে পেরেছি। আমার চিন্তাধারায় লালন বাস করেন। তাঁর বাণীগুলো সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই। লালনকে বুঝতে হলে আগে তাঁর সম্পর্কে জানতে হবে। আত্মশুদ্ধির জন্য লালনচর্চা প্রয়োজন। লালন যার মধ্যে থাকবেন, সে কোনো প্রকার অপরাধের সঙ্গে জড়িত হবে না বলে মনে করি।

লালনের গানের সুর বিকৃতির অভিযোগ রয়েছে। আপনি কি জানেন?
এই সময়ের অনেক শিল্পী লালনের গান করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তাঁরা লালনের জনপ্রিয় গানগুলো ফিউশন করছেন। আধুনিক সংগীতায়োজনে গান করাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু সুর বিকৃতি করা ঠিক নয়। কারণ লালন নিজেই তাঁর গানগুলোর সুর দিয়ে গেছেন। সেই ক্ষেত্রে সুরে পরিবর্তন করা মানে গানের আবেদন নষ্ট করা।

সম্প্রতি আপনাকে ফোক গানের বাইরে রক ও আইটেম গানে পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে জানতে চাই?
ঠোকর চলচ্চিত্রে ‘সেলফি কুইন কমলা’ শিরোনামের একটি আইটেম গানে কণ্ঠ দিয়েছি। আমি বর্তমান সময়টাকে ধরার চেষ্টা করেছি। সময়ের সঙ্গে আমাকে বিভিন্ন ধারার গান করতে হবে। তবে আমার মূল ফোক। এটি থেকে কখনো সরে যাব না। চলচ্চিত্রের আইটেম গানের বাইরে ‘যাদু’ শিরোনামের একটি রক গান করেছি। এটি লিখেছেন শাহরিয়ার সজিব। সুর করেছেন জিয়া উদ্দিন আলম। গানটির জন্য শ্রোতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।

গানের চেয়ে শিল্পীরা মিউজিক ভিডিওর প্রতি এখন বেশি মনোযোগী। এটিকে কীভাবে দেখছেন?
মিউজিক ভিডিও এখন সময়ের দাবি। কিন্তু এর অর্থ এই নয়, গানের চেয়ে মিউজিক ভিডিওর প্রতি মনোযোগী হতে হবে। আগে একটি ভালো গান তৈরি করতে হবে। তারপর গানের সঙ্গে মিল রেখে মিউজিক ভিডিও নির্মাণ হলে দর্শক-শ্রোতা সেটি গ্রহণ করবে। এ ছাড়া মিউজিক ভিডিও শ্রোতাদের কাছে সহজে পৌঁছে যায়।

স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ততা কেমন?
আমার মেয়ে ছোট থাকার কারণে এবং পারিবারিক কিছু সমস্যা থাকায় মাঝে কয়েক বছর তেমন স্টেজ শো করতে পারিনি। এখন নিয়মিত করছি। স্টেজ শোর মধ্য দিয়ে দর্শকদের কাছাকাছি আসা যায়। শীতকালে আমাদের দেশে স্টেজ শোর আয়োজন বেশি হয়। আশা করছি এবার ভালো কিছু শো করতে পারব। এ ছাড়া দেশের বাইরেও কনসার্টের বিষয়ে কথা হচ্ছে। চূড়ান্ত হলে সবাইকে জানাব।

গান নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো পরিকল্পনা রয়েছে?
সব সময় গান করব। তবে লালনের গানগুলো সবার মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে লালনের আরও কিছু গান নিয়ে কাজ করার। বিশেষ করে অপ্রকাশিত গানগুলো নিয়ে করার অনেক আগ্রহ আমার।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এনআই বুলবুল

Disconnect