ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
চ্যালেঞ্জিং কাজের প্রতি আগ্রহ থাকতে হবে

অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। টিভি নাটকের পাশাপাশি ২০০৬ সালে তৌকীর আহমেদ পরিচালিত রূপকথার গল্প দিয়ে চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক হয়। ২০১০ সালে তিনি মনপুরা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। বর্তমান ব্যস্ততা ও সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গে কথা হলো তাঁর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এনআই বুলবুল

প্রতিদিনই আপনাকে শুটিং করতে হয়। অভিনয়ে ক্লান্তি আসে না?

প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২ দিন শুটিং করতে হয়। কাজের মধ্যেই দিন কেটে যায়। প্রতিদিনই নানা রকম চরিত্রের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কাজকে আমি বেশ উপভোগ করি। দর্শকদের ভালোবাসায় আমি এই পর্যায়ে এসেছি। দর্শকদের জন্যই কাজ করতে চাই।

একজন শিল্পীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য করণীয় কী মনে করেন?
দর্শকদের মনে রাখার মতো কাজ করতে হবে। গতানুগতিক কাজের বাইরে চ্যালেঞ্জিং কাজের প্রতি আগ্রহ থাকতে হবে। একই চরিত্রে বারবার দর্শকদের সামনে উপস্থাপন না করা। এখনকার দর্শক অনেক সচেতন। সুতরাং একজন শিল্পীকে কাজের সময় তার চরিত্রের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। গল্পের চরিত্র দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে।

এখন সাহিত্যনির্ভর নাটক নির্মাণ হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে, আপনি কী মনে করেন?
সাহিত্যনির্ভর নাটক তুলনামূলক অনেক কম হচ্ছে। এ ধরনের নাটকের প্রতি দর্শকদের সব সময় আগ্রহ থাকে। আমাদের নির্মাতাদের এই সাহিত্যনির্ভর নাটক নির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে। তবে সাহিত্যনির্ভর নাটক নির্মাণ করা অনেক কঠিন। এর জন্য নির্মাতাকে দক্ষ হতে হয়।

সম্প্রতি আরটিভিতে আপনার নতুন একটি ধারাবাহিক প্রচার শুরু হয়েছে। এই ধারাবাহিকে বিশেষত্ব কী আছে?
আরটিভিতে প্রচার শুরু হয়েছে  মজনু একজন পাগল নহে শীর্ষক একটি ধারাবাহিক। বৃন্দাবন দাসের রচনায় ধারাবাহিকটি পরিচালনা করেছেন সঞ্জিত সরকার। ধারাবাহিকটি দর্শকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলবে বলে মনে করছি। এই ধারাবাহিকে সমাজের কিছু বাস্তব প্রতিচিত্র তুলে ধরা হয়েছে। অন্য সব ধারাবাহিকের চেয়ে এটির গল্প অনেক শক্তিশালী। গতানুগতিক গল্পের বাইরে এই ধারাবাহিকের প্রেক্ষাপট।

চলমান ধারাবাহিকগুলো সম্পর্কে জানতে চাই?
বিভিন্ন চ্যানেলে ডুগডুগি পোস্ট গ্র্যাজুয়েটসহ বেশ কিছু ধারাবাহিক প্রচার হচ্ছে। এ বছরে ধারাবাহিকগুলোর জন্য দর্শকদের কাছ থেকে সাড়া পাচ্ছি। কিন্তু আমাদের ভালো নাটকগুলো দর্শকদের কাছে ভালোভাবে পৌঁছায় না। বিশেষ দিবসের বাইরে নাটকের প্রচার-প্রচারণা কম। কোন নাটক কখন টিভিতে প্রচার হচ্ছে, অনেক দর্শকই জানেন না।

এই সময়ের ধারাবাহিক নাটক নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
দর্শক এখন বিভ্রান্ত হচ্ছেন নাটক দেখে। ধারাবাহিকগুলোর গল্প নেই। এদিকে নাটকও নকল করা শুরু হয়েছে। গ্রামীণ পটভূমির নাটকগুলো একেকটি একেক নাটকের ছায়া অবলম্বনে নির্মাণ করা হচ্ছে। কোনো নতুনত্ব নেই। সস্তা বিনোদনের প্রতিযোগিতায় সবাই উঠে পড়ে লেগেছে।

নাটকের এই সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ কী?
একটি ভালো কাজের জন্য ভালো বাজেট, ভালো পরিচালক, স্ক্রিপ্ট রাইটার ও অভিনয়শিল্পীর প্রয়োজন। এখন এগুলোর কোনো সমন্বয় হচ্ছে না। দর্শক নাটক দেখেও কোনো আনন্দ পাচ্ছেন না। দর্শকদের নাটকবিমুখ হতে এটি প্রধান কারণ। গল্পের পাশাপাশি আজকাল নাটকের লোকেশনেও কোনো বৈচিত্র্য নেই। একই ধরনের লোকেশনে কাজ করতে শিল্পীরাও অনিহা প্রকাশ করছেন। নির্মাতাদের কাজ করার দক্ষতা থাকলে একই লোকেশনেও বৈচিত্র্য দেখানো সম্ভব বলে মনে করি।

দীর্ঘদিন থেকে শোনা যাচ্ছে চ্যানেলগুলো বাজেট দিচ্ছে না। কিন্তু চ্যানেলগুলোর এই উদাসীনতা কেন?
আমি একজন শিল্পী। আমার কাজ অভিনয় করা। চ্যানেলগুলো কেন বাজেট দিচ্ছে না, সেটি চ্যানেল কর্তৃপক্ষরাই ভালো বলতে পারবে। তবে আমি মনে করি চ্যানেল কর্তৃপক্ষদের বাজেটের বিষয়ে আন্তরিক হতে হবে। ভালো নাটক নির্মাণের জন্য বাজেট খুব প্রয়োজন।

চলচ্চিত্রের কাজ প্রসঙ্গে জানতে চাই-
দেবী ছবির শুটিং শেষ করেছি। হুমায়ূন আহমেদের দেবী উপন্যাস অবলম্বনে সরকারি অনুদানে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ হচ্ছে। এই ছবিতে হুমায়ূন আহমেদের আলোচিত চরিত্র ‘মিসির আলী’তে আমাকে দেখা যাবে। চরিত্রটি আমার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

আপনার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র?
অমিতাভ রেজার আয়নাবাজি আমার অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি। ছবিটি সিনেমা হলে নতুন দর্শক তৈরি করতে পেরেছে। মুক্তি প্রতীক্ষিত ছবিটিও সব ধরনের দর্শক গ্রহণ করবে বলে মনে করি।

Disconnect