ফনেটিক ইউনিজয়
আনিসুল হক
চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়...
মান্নাফ সৈকত

আনিসুল হক। অস্থির ছুটেছেন আজীবন। ক্ষণিকের তরে যেখানেই দাঁড়িয়েছেন, এ ফুল সেখানেই সুবাস ছড়িয়েছেন। তাই ফেরার দেশে চলে গেলেও তিনি বেঁচে থাকবেন অগণিত মানুষের হৃদয়ে মহান এক মানুষ হয়ে। একজন আনিসুল হক, যিনি নগরের ভালো-মন্দ দেখভালে ব্যস্ত ছিলেন জীবনের শেষ ভাগে। উপাধি পেয়েছিলেন নগরপিতার। বাংলাদেশের বাণিজ্য সাম্রাজ্যকে যিনি গতিময় করে তুলেছিলেন, সেই তিনি ছিলেন ঔজ্জ্বল্যে ভরপুর সংস্কৃতিমনা একজন আলোকিত মানুষ।
দেশের মানুষের কাছে আনিসুল হকের পরিচিতির শুরুটা বিটিভির কয়েকটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে। বিশেষ করে আশির দশকে ‘বলা না বলা’ ও ‘জানতে চাই’ নামের অনুষ্ঠান দুটি উল্লেখযোগ্য। উপস্থাপক হিসেবে আনিসুল হক আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পান ‘সবিনয়ে জানতে চাই’ নামের একটি এক পর্বের অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে। ১৯৯১ সালের আলোচিত নির্বাচনের আগে আগে তাঁর এই অনুষ্ঠানে প্রথম ও শেষবারের মতো মুখোমুখি বসেন দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক নেতা শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া। এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনিসুল হক সে সময় জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যান। তবে ১৯৯৫ সালের ঈদে ‘জলসা’ নামের একটি গানের অনুষ্ঠান উপস্থাপনার পর আর তেমন কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থাপকের আসনে পাওয়া যায়নি এই প্রাণবন্ত মানুষটিকে।
উপস্থাপক আনিসুল হক ব্যবসায়িক ব্যস্ততা এবং পরে মেয়রের পাহাড়সম দায়িত্বভার নিয়েও বরাবরই নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে। শিল্পীদের সাহায্যের জন্য তিনি একক উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন ‘শিল্পীর পাশে ফাউন্ডেশন’। তিনি বলেছেন, ‘কোনো শিল্পীকে চিকিৎসার জন্য আর কারও কাছে হাত পাততে হবে না। এই ফাউন্ডেশনই শিল্পীদের পাশে থাকবে।’ হয়েছেও তা-ই। তিনি উপদেষ্টা হয়ে গড়ে দিয়ে গেছেন উপস্থাপকদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম। নাম দিয়েছেন প্রেজেন্টারস প্ল্যাটফর্ম অব বাংলাদেশ।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনিসুল হকের শেষ উদ্যোগের নাম ‘নাগরিক টিভি’। যে টিভি চ্যানেলটি নিয়ে তাঁর স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। এই টিভি চ্যানেল দিয়ে তিনি পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশীয় গৎবাঁধা টেলিভিশন মাধ্যমের ধারা। চ্যানেলটি সম্প্রচারে আসার কথা ছিল তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পরই। তবে তাঁর সে স্বপ্ন আজ শুধুই স্বপ্ন।
কারণ, গত ৩০ নভেম্বর ৬৫ বছর বয়সে আনিসুল হক দেশবাসীকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না-ফেরার দেশে। এ মানুষটির মৃতুতে শিল্পী মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ফেসবুকের নিজ নিজ ওয়ালে তাঁরা জানাচ্ছেন সে  শোক। জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ লিখেছেন, ‘আনিস, এভাবে তুমি চলে গেলে! আমি নিতে পারছি না বন্ধু।’ অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি লিখেছেন, ‘আপনাকে বড্ড বেশি প্রয়োজন ছিল আমাদের সবার! ভাবতে পারছি না...!’ অভিনেতা অপূর্ব লিখেছেন, ‘খুব কষ্ট হচ্ছে...খুব...মানতে পারছি না...একদম না...।’

Disconnect