ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
হলগুলো হাউসফুল থাকবে

প্রতিষ্ঠিত ও জনপ্রিয় নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম। তাঁর নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র মনপুরা। ভীষণ জনপ্রিয়তা পায় চলচ্চিত্রটি। লম্বা বিরতির পর আবার নির্মাণ করলেন স্বপ্নজাল শিরোনামের একটি চলচ্চিত্র। স্বপ্নজাল ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন সুলতান মাহমুদ সোহাগ

আপনার শুরুর গল্প একটু শুনতে চাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থা থেকেই থিয়েটার করতাম। ১৯৯৩ সালে ঢাকায় আসি পড়াশোনা শেষ করে। মাথায় পোকা, মিডিয়া নিয়েই কিছু করতে হবে। পেয়ে গেলাম মাসুম রেজা আর সালাউদ্দিন লাভলুকে। তিনজন মিলে শুরু করলাম একটা বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান। এর নাম দিলাম স্ট্রিগ প্লাস। ব্যস শুরু হয়ে গেল কাজের জন্য দৌড়ঝাঁপ। নাটক লিখলাম, নির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা। পরিচালক হিসেবে প্রথম নাটক বানালাম বিপ্রতীপ। এটি টিনেজারদের নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নাটক। এভাবেই চলছে। বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে পুরস্কার পাই। কাজের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।

এবার শুনতে চাই স্বপ্নজালের গল্প।
নদীতীরবর্তী ইলিশ ব্যবসাকে কে›ন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সিনেমার গল্প। শুটিং করেছি চাঁদপুর আর কলকাতায়। কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরীমনি ও নবাগত রোহান। এ ছাড়া আছেন ফজলুর রহমান বাবু, শাহানা সুমী, শহীদুল আলম সাচ্চু, মিশা সওদাগর, ফারহানা মিঠু, ইরেশ যাকের। আসছে ফেব্রুয়ারিতে ছবিটি মুক্তি পাবে। সবাইকে আমন্ত্রণ।

‘মনপুরা’ আর ‘স্বপ্নজাল’-এই দুইয়ের মাঝে সময়ের পার্থক্য প্রায় ১০ বছর! এর মাঝে ‘কাজলরেখা’ নামের একটি চলচ্চিত্র বানানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেটা আর হলো না, কারণটা জানতে চাই।
কাজলরেখা বানাতে যে পরিমাণ বাজেট দরকার, সেটি সংগ্রহ করতে পারিনি। বাজেটের কারণেই ছবির কাজ শুরু করতে পারিনি।

‘মনপুরা’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে সিনেমার গানগুলো। ‘স্বপ্নজাল’ নিয়ে আপনি কেমন আশাবাদী?
স্বপ্নজাল নিয়েও আমি সমান আশাবাদী। আসলে দুটি সিনেমার গল্প ও ধরন দুই রকম। মনপুরার মতোই সমান জনপ্রিয় হবে স্বপ্নজাল। আর গানের তো অবশ্যই একটি গুরুত্ব আছে। স্বপ্নজাল-এ ৬টি গান আছে। চরিত্র অনুসারে গানগুলো করা হয়েছে।

দুটি সিনেমার গল্পই গ্রামপ্রধান। শহরের গল্প নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে?
অবশ্যই আছে। ইচ্ছা আছে তৃতীয় চলচ্চিত্র হবে শহরের গল্প নিয়ে। মনপুরা সিনেমায় যে রকম গ্রাম  দেখানো হয়েছে, স্বপ্নজাল-এ সে রকম গ্রাম নেই। একটু শহরের আমেজও আছে।

আপনি দুই বাংলা নিয়ে যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র বানাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে বাণিজ্যের সম্ভাবনা কতটুকু?
বাণিজ্যের বিষয়টিই আমার কাছে আগে। যেহেতু আমার গল্পে দুই বাংলার কথাই আছে, তাই ওখানে যে অংশটুকুর কাজ করলাম, সেটার খরচ ওরা বহন করল।  ওদের বাজার অনেক বড়। ওখানে প্রায় ৪০ কোটি বাঙালি আছে। সবাই নিজের ভাষায় বিনোদিত হতে পছন্দ করে। যদিও সরকারের একটি নীতিমালা ছিল অর্ধেক অর্ধেক শিল্পী নিতে হবে। কিন্তু আমি সেটা করিনি, কারণ আমার সেটার প্রয়োজন নেই।

চলচ্চিত্র নিয়ে আপনার স্বপ্নের কথা শুনতে চাই।
আমাদের মা-বোনেরা আবার সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখবেন, এটাই আমার বড় স্বপ্ন। তাঁরা না  গেলে সিনেমা ভালো ব্যবসা করতে পারবে না। কারণ একজন নারী একা সিনেমা দেখতে যান না। কয়েকজনকে নিয়ে যান। আমার স্বপ্ন সিনেমার হলগুলো হাউসফুল থাকবে। এ জন্য ভালো ভালো সিনেমা বানাতে হবে। সিনেমা হলগুলো মেরামত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিটি উপজেলায় সম্ভব না হলেও জেলাতে একটি করে ভালো সিনেমা হল বানানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

Disconnect