ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
মুক্তিযুদ্ধ আমার কাছে অনেক বড় বিষয়

নাটকের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শমী কায়সার। কিন্তু এখন ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত আছেন। ১৯৯৭ সালে গড়ে তোলেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ধানসিঁড়ি প্রোডাকশন। ১৭ বছর পর নতুন একটি ছবিতে অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি। নানা বিষয়ে এই অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন সুলতান মাহমুদ সোহাগ

প্রথমেই জানতে চাই এই মুহূর্তে কী নিয়ে ব্যস্ত?
ধানসিঁড়ি কমিউনিকেশন নিয়ে ব্যস্ত আছি। সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাল্যবিবাহ, মাতৃমৃত্যু ইত্যাদি বিষয়ের ওপর প্রতিরোধ ও গুরুত্ব নিয়ে কাজ করছি।

সুবর্ণা মুস্তাফা তখন তুমুল জনপ্রিয়, আপনার শুরু মাত্র। সে সময় সম্ভবত আনন্দ বিচিত্রায় একটা লেখা প্রকাশ হয়েছিল ‘সুবর্ণার সা¤্রাজ্যে শমীর চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামে। কেমন লেগেছিল লেখাটা পড়ে?
আমি তো অনেক লজ্জা পেয়েছিলাম। পরে সুবর্ণা আপাকে ফোন দিয়েছিলাম। বললাম, আপা, আমি কিছুই জানি না এসব লেখা সম্পর্কে, আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো। আমার খুব খারাপ লাগছে। সুবর্ণা আপা নিজেই আমাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, আরে আমি তো জানি তুই অনেক ভালো কাজ করছিস আর এ জন্য ক্ষমা চাওয়ার কী আছে? এগিয়ে যা।

এত এত অভিনয় করতেন, অনেক জনপ্রিয়তা ছিল আপনার। এখন আর  সে রকমভাবে অভিনয় করছেন না, কতটা মিস করেন সেই সময়গুলো?
অনেক মিস করি। আসলে অভিনয় আমার সব। তবে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। ২০০১ সালে আমাকে বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে কালো তালিকাভুক্ত করা হলো। আমার অভিনীত কোনো নাটক টেলিভিশনে চলতে পারবে না। আমি সত্যিই খুব ভেঙে পড়েছিলাম। অনেক নাটক পড়ে ছিল আমার। এরপর থেকেই আগ্রহটা হারিয়ে ফেলেছিলাম। একদিক থেকে ভালোই হয়েছিল আমার প্রতিষ্ঠান ধানসিঁড়ি কমিউনিকেশনের দিকে নজর দিতে  পেরেছি।

সহশিল্পী হিসেবে জাহিদ হাসান, তৌকীর আহমেদ, মাহফুজ আহমেদের সঙ্গে কাজ করা হয়েছে বেশি। র‌্যাঙ্কিং করতে দেওয়া হলে কাকে কোন পজিশনে রাখবেন?
এটা বলা মুশকিল, সবাই খুব ভালো অভিনেতা। একজনকে বেশি বললে আরেকজন আমাকে পেটাবে। সবচেয়ে বেশি কাজ করা হয়েছে জাহিদ হাসানের সঙ্গে। জাহিদ আমার খুব ভালো বন্ধু। জাহিদের তুলনায় কম কাজ করলেও দর্শক তৌকীর আর আমার জুটিটা ভালোভাবে নিয়েছে। আর মাহফুজের সঙ্গে যে কাজগুলো করেছি, সবগুলোই মাইলস্টোন।

নিজেকে পজেটিভ এনার্জি দেয়, এ রকম কোনো কাজ রয়েছে?
আমার বাবার ছবি। আমি যেখানে ঘুমাই, সেই রুমে বাবার একটা বড় ছবি টাঙানো আছে। আমি প্রায়ই বাবার ছবির সঙ্গে কথা বলি। আমার টেবিলে বাবা ও মায়ের একটা ছবি আছে, সেটাও দেখি। বাবার ডায়েরি পড়ে শক্তি সঞ্চার করি।

আনন্দের বিষয়, আপনাকে আবারও বড় পর্দায় দেখতে পাব, সিনেমার গল্প একটু শুনতে চাই। আর কে কে অভিনয় করছেন?
২০০১ সালে অভিনয় করেছিলাম হাসন রাজা ছবিতে। মুক্তিযুদ্ধ আমার কাছে অনেক বড় বিষয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাবাকে হারিয়েছি। বাবার ভালোবাসা আমি সে রকম করে পাইনি। এই সিনেমার গল্প মুক্তিযুদ্ধ নিয়েই। যুদ্ধশিশু নামে এই সিনেমার পরিচালক শহিদুল হক খান। নাম শুনেই নিশ্চয়ই অনেকটা আঁচ করা সম্ভব গল্পটা কেমন হবে। গল্পটা অনেক ভালো লেগেছে। অনেক দিন পর সিনেমায় অভিনয় করব, সামথিং স্পেশাল তো অবশ্যই থাকতে হবে। ছবিটিতে আরও অভিনয় করছেন পপি, চম্পা, সোহেল রানাসহ আরও অনেকেই।

Disconnect