ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
আমাদের চলচ্চিত্র আরও ঘুরে দাঁড়াবে

অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন। সম্প্রতি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬তে সেরা কণ্ঠশিল্পী নির্বাচিত হয়েছেন। হুমায়ূন আহমেদের রচনা অবলম্বনে নির্মিত ‘কৃষ্ণপক্ষ’ ছবির জন্য এ সম্মাননা পাচ্ছেন শাওন। সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গে তার সঙ্গে কথা বলেছেন এনআই বুলবুল

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬তে সেরা কণ্ঠশিল্পী নির্বাচিত হয়েছেন। অনভূতি কেমন?
হুমায়ূন আহমেদ থাকলে তিনি বেশি খুশি হতেন। তার উৎসাহেই মূলত গান করি। তিনি প্রায়ই বলতেন, আমি এ গানের জন্যই স্বীকৃতি পাব। আমার এ প্রাপ্তিতে তিনি যেখানে থাকেন, নিশ্চয়ই খুশি হয়েছেন বলতে পারি।

হুমায়ূন আহমেদের গল্প নিয়ে ফের সিনেমা নির্মাণ করবেন বলেছিলেন। সেটি কবে শুরু করছেন?
হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘নক্ষত্রের রাত’ অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণ হবে। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও ইউনিলিভারের যৌথ প্রযোজনায় নির্মাণ হবে ছবিটি। ছবিতে নায়ক হিসেবে দেখা যাবে রিয়েলিটি শো ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি ম্যান-চ্যানেল আই হিরো’র বিজয়ী বাঁধনকে।

এ সময়ের চলচ্চিত্র নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
এখন আমাদের নানা ধরনের গল্পের চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি সাহিত্য ও গল্পনির্ভর ছবিগুলোও দর্শক দেখছে। তবে সিনেমা হলের পরিবেশ ভালো হলে দর্শকের সংখ্যা বাড়বে। এছাড়া এখন চলচ্চিত্রে অনেক সচেতন ছেলেমেয়ে আসছে। আমাদের চলচ্চিত্র আরও ঘুরে দাঁড়াবে বলে বিশ্বাস করি।

হুমায়ূন আহমেদের গল্প-উপন্যাস নিয়ে অনেকেই নাটক-চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চান। এ প্রসঙ্গে আপনার মন্তব্য কী?
হুমায়ূন আহমেদের গল্প-উপন্যাস থেকে কেউ যদি সঠিকভাবে নাটক-চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য এগিয়ে আসেন, তাহলে আপত্তি নেই। অনুমতিসাপেক্ষে কেউ ভালো কিছু নির্মাণ করতে আগ্রহী হলে সেটি সবার জন্য ভালো। কিন্তু সেটিকে অন্যভাবে ব্যবহার করার অধিকার কারও নেই।

হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে আপনার অভিপ্রায় জানতে চাই।
সবাই বছরের নির্দিষ্ট দিনগুলোয় তাকে স্মরণ করেন। আমি প্রতিটি দিনই হুমায়ূন আহমেদের শূন্যতা অনুভব করি। তার সঙ্গের প্রতিটি দিন আমার কাছে স্মৃতিময়। আমার সন্তানরা তাদের  বাবাকে সবসময় মিস করছে। তার শূন্যতা ভাষা দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয় আমার।

হুমায়ূনভক্তদের জন্য কী বলবেন?
দেশ-বিদেশে হুমায়ূন আহমেদের অগণিত ভক্ত রয়েছে। তাকে নিয়ে প্রায়ই ভক্তদের নানা রকম আয়োজন চোখে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে তাদের নানা রকম পোস্ট দেখা যায়। অনেকেই নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে হুমায়ূন আহমেদের ছবিও দেন। তিনিও গল্প-উপন্যাস, নাটক ও চলচ্চিত্র দিয়ে ভক্তদের খুব গভীরে প্রবেশ করেছেন। ভক্তদের অন্তরেই হুমায়ূন আহমেদ আজীবন বেঁচে থাকবেন।

হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে আপনার পথচলা শুরু হয় কীভাবে?
১৯৯১ সালে আমি প্রথম হুমায়ূন আহমেদের নাটক করি। তখন তার পরিবারের কাউকেই চিনতাম না। বাংলাদেশ টেলিভিশনে অডিশন দিয়ে তার ‘জননী’ ডকুমেন্টারিতে অভিনয়ের সুযোগ পাই। পরবর্তীতে তার অনেক নাটকে অভিনয় করি। তখন আমি ভিকারুন্নিসা নূন স্কুলে পড়ি। পরে তার সঙ্গে আমার সখ্যতা বাড়ে।

Disconnect