ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
ছোট পর্দাতেই আছি, থাকব

নুসরাত ইমরোজ তিশা। নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি বাজিমাত করেছেন চলচ্চিত্রে। অস্তিত্ব সিনেমার জন্য পাচ্ছেন জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার। বিভিন্ন বিষয়ে এ অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন সুলতান মাহমুদ সোহাগ

১৯৯৫ থেকে ২০১৮ সাল। ২৩ বছরের ক্যারিয়ার। কেমন লাগছে কাজ করতে?
শিশু শিল্পী হিসেবে আমার কাজ শুরু। কেমন লাগছে এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, অবশ্যই ভালো লাগছে। কারণ খারাপ লাগা নিয়ে কেউ আসলে এতটা সময় ধরে কাজ করতে পারে না। আরও অনেকদিন কাজ করতে চাই, ঠিক যতদিন দর্শক আমাকে চাইবে।

সেরা অভিনেত্রী হিসেবে আগামী ৮ জুলাই ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ পেতে যাচ্ছেন। কেমন লাগছে?
আসলে যেকোনো প্রাপ্তিই আনন্দদায়ক। অস্তিত্ব সিনেমায় আমার কাজ করার সময়ই মনে হয়েছে, এটা কিছু একটা হচ্ছে। ইউনিটের সবাই প্রচুর পরিশ্রম করেছে। অনন্য মামুন অনেক গোছালো একজন পরিচালক। যেকোনো ভালো কাজেরই প্রতিদান পাওয়া যায়। আমি খুবই খুশি। দায়িত্ব বোধ আরও বেড়ে গেল। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

নতুন কাজের খবর কী?
চেষ্টা করছি ভালো কাজ করতে। এ চেষ্টাটা আমি সবসময়ই করি। প্রতিনিয়ত অভিনয় শিখতে চাই। সর্বশেষ দুটি কাজ হালদা ও ডুব দুটিই বেশ প্রশংসিত হয়েছে। দর্শকের প্রতিক্রিয়া পেলে ভালো লাগে। নতুন কাজ হিসেবে অনেক কাজেরই অফার পাচ্ছি, কিন্তু সব কাজ তো করা সম্ভব হয় না। সম্প্রতি যৌথ প্রযোজনার ছবি হলুদবনি, বালিঘরে কাজ করলাম। সরোয়ারের শনিবার বিকেল শেষ করলাম, এটাও অবশ্য যৌথ প্রযোজনার।

যৌথ প্রযোজনার বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?
বিষয়টি অবশ্যই অনেক বেশি ইতিবাচক হিসেবে দেখি। দুই বাংলার সংস্কৃতি এক, ভাষা এক। কলকাতার স্বনামধন্য নির্মাতা অরিন্দম শীল বলেন, দুই বাংলার ইমোশনও এক, তাহলে সমস্যা কি? এটা আরও বেশি বেশি হওয়া উচিত। আমি তো চাই বিষয়টি আরও ছড়িয়ে যাক। শুধু কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই যেন সীমাবদ্ধ না থাকে।

হালদার সফলতার পর তৌকির আহমেদের সঙ্গে আবারও কাজ করছেন। এ কাজ সম্পর্কে একটু জানতে চাই।
সিনেমার নাম ফাগুন হাওয়া। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৈরি হচ্ছে সিনেমাটি। আমার চরিত্রের নাম দিপ্তী। সেই সময়ের একজন সাহসী নারী। যে খুব ভালো গান করে। মফস্বল একটি শহরে থেকেও থিয়েটার করে। রুচিশীল জীবন যাপন করে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা তার স্বভাবজাত ব্যাপার। ৭০ বছর আগে এক কলেজ শিক্ষার্থীর পোশাক কেমন ছিল, সে কীভাবে কথা বলত, তার চলাফেরার ধরন তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। বিশ্বাস থেকে বলছি, কাজটা অনেক ভালো হবে।

ছোট পর্দার তিশা এখন বড় পর্দায় অনেক ব্যস্ত। কাজ কমিয়ে দিচ্ছেন, নাকি ছোট পর্দা থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন?
ছোট পর্দা থেকে হারিয়ে যাচ্ছি, এ বিষয়টা কখনও হবে না। আমার পরিচয় ছোট পর্দা দিয়েই। তাই ছোট পর্দাকে কখনও না করতে পারব না। না করতে চাইও না।  ছোট পর্দাই আমাকে সবার মাঝে পরিচিত করে তুলেছে। আসছে ঈদে আমার  বেশকিছু ভালো কাজ আসছে। নামগুলো আগেই বলতে চাই না। দর্শক দেখবে, আশা করি অবশ্যই ভালো লাগবে। ছোট পর্দাতেই আছি এবং থাকব।

Disconnect