ফনেটিক ইউনিজয়
তারকাদের শৈশবের রঙিন ঈদ

ঈদ মানেই আনন্দ। কি শৈশবে কি বড়বেলায় ঈদের স্মৃতি সত্যিই রঙিন। তারকাদের সেসব রঙিন স্মৃতির গল্প শোনালেন সুদীপ্ত সাইদ খান

মাসুমা রহমান নাবিলা
আমার শৈশব কেটেছে সৌদি আরবের জেদ্দায়। ছোটবেলায় ঈদের দিনগুলো কেটেছে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গেই। বিকালে ফ্রেন্ডদের বাসায় যেতাম এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রত্যেকের বাসায় বাসায় ঘুরতাম। বড়দের কাছ থেকে সেলামি নিতাম। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাতের ১০টা বেজে যেত। খুবই আনন্দের ছিল দিনগুলো। আমাদের বিল্ডিংয়ে সব বাঙালি থাকত। ফলে মনে হতো না বিদেশে ঈদ করছি।

আইরিন সুলতানা
ঈদের স্মৃতি অনেক। শৈশবে এক রকম বড়বেলায় আরেক রকম। তবে সবটাই মজার। ছোটবেলায় ঈদ এ নতুন জামা পরার আনন্দ ভুলবার নয়। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি, হইহুল্লোড় থাকতই। মজার ব্যাপার হলো, ঈদের সময় কেউ পড়ালেখা করতে বলত না, এটা খুব ভালো লাগত।

অমৃতা খান
ছোটবেলার যে ঘটনাটা আমার এখনও মনে পড়ে সেটা হচ্ছে, ঈদের পোশাক ঈদের আগের দিনই কিনতাম। আর প্যাকেট খুলতে দিতাম না। নতুন নতুন ব্যাপারটার জন্য। আর কেউ দেখে ফেললে কান্না করতাম।

শবনম বুবলি
ছোটবেলার ঈদ সবসময় অন্য রকম। আমি ফ্যামিলির সবচেয়ে ছোট ছিলাম। আহ্লাদটাও বেশি ছিল। তখন তিনটা করে ড্রেস কিনতাম। কারণ সকালে, বিকালে ও রাতে পরব। ড্রেস কিনে কাউকেই দেখতে দিতাম না। এক ঈদের একটা গল্প বলি। তখন আমরা উত্তরায় থাকতাম। সেবার ঈদের দিন সকালে আমার বান্ধবীরা বাসায় চলে এসেছে। খেয়াল করলাম, এক বান্ধবীর ড্রেসের কালারের সঙ্গে আমার ড্রেসের কালার মিলে গেছে। আমি বললাম একই কালারের ড্রেস পরব না। মা দুপুরে পরার ড্রেস এনে বলল এটা পরো, এটা তো অন্য কালারের। আমি বললাম না, দুপুরেও তো মিলে যাবে। আমাকে অন্য কালারের নতুন ড্রেস এনে দিতে হবে। তারপর কান্নাকাটি শুরু করলাম। আব্বু অনেক বুঝিয়েও কাজ হলো না। এরপর উনি আমাকে রাজলক্ষ্মীতে নিয়ে গেছেন। গিয়ে দেখি একটি দোকান খোলা। তখন আব্বু গিয়ে বলল, দেখো ভাই, তোমাদের কাছে কোনো ড্রেস আছে কিনা? পছন্দ-অপছন্দ কিছু না, শুধু কালার চেঞ্জ হলেই চলবে।

বিপাশা কবির
শৈশবের ঈদ কাটত খুব আনন্দে। আমি নানুর কাছে বড় হয়েছি। ফলে আমার ঈদ কাটত নানু বাড়িতেই। সকালে উঠেই নতুন জামা পরতাম। খালা-মামা-সবার কাছ থেকে সেলামি নিতাম। বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাফেরা, আড্ডা তো ছিলই। বিকালে বাবা-মা আসতেন। রোজার ঈদের একটা মজার ঘটনা বলি, একবার নানু এসে মেহেদি দিয়ে বললেন, মেহেদি দিয়ে হাত সাজাও। তারপর ইচ্ছেমতো হাত রাঙাই। পরে মেহেদি হাতেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। এরপর ঘুমের ভেতর মুখের ওপর হাত রেখেছিলাম। ঘুম ভাঙলে দেখি মেহেদির পুরো ছাপ আমার মুখের ওপর লেগে আছে। হা হা হা।

পিয়া বিপাশা
ছোটবেলার ঈদ ছিল অন্য রকম। ছোটবেলায় ফ্রেন্ডদের সঙ্গে ঘুরতাম। তখন ১০-১২ হাজার টাকা সেলামি পেতাম। এখন উল্টো সেলামি দিতে হয়। বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরতেও ভালো লাগত। ছোটবেলার ঈদের স্মৃতিই ভালো ছিল।

নিরব
ছোটবেলার ঈদ মানেই তো অন্য রকম মজা। তখন আমরা ক্যান্টনমেন্টে থাকি। সারাদিন বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাফেরা, আর বড়দের কাছ থেকে সেলামি আদায়ের প্রতিযোগিতায় নামা। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, নানাবাড়ি আর দাদাবাড়ির সবাই একত্রিত হতাম।

Disconnect