ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে

অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা তৌকির আহমেদ। অষ্টম সার্ক চলচ্চিত্র উৎসবে তার পরিচালিত ছবি ‘হালদা’ সেরা চলচ্চিতের উপাধি পেয়েছে। পুরস্কার ও সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গে এ নির্মাতার সঙ্গে কথা বলেছেন এনআই বুলবুল

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাই।
এটি আমার জন্য বড় আনন্দের। একই সঙ্গে দেশের জন্য বড় প্রাপ্তি। পুরস্কার ঘোষইার সময় যতবার বাংলাদেশের নাম শুনেছি, ততবার গর্বে বুকটা ভরে গেছে। সেরা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ছবিটি যে সেরা চিত্রগ্রাহক, সেরা সম্পাদক ও সেরা আবহ সংগীত বিভাগেও পুরস্কার লাভ করবে ভাবিনি। উৎসবে প্রতিযোগিতা বিভাগের সমাপনী চলচ্চিত্র হিসেবে ‘হালদা’ প্রদর্শিত হয়। ছবিটি নিয়ে উপস্থিত সবার বেশ আগ্রহ ছিল।

সার্ক চলচ্চিত্র উৎসব কেমন ছিল?
এবার উৎসবে সার্কভুক্ত দেশগুলোর ২৬টি চলচ্চিত্র জায়গা পেয়েছে। উৎসবটিতে বাংলাদেশের ‘হালদা’ ছাড়া আরও ছিল আকরাম খানের ‘খাঁচা’ ও মোরশেদুল ইসলামের ‘আঁখি ও তার বন্ধুরা’। উৎসবে বাংলাদেশের ছবিগুলো দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। সার্কভুক্ত দেশগুলো এখন জানে আমাদের চলচ্চিত্র কতটা উন্নতি লাভ করেছে।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে যদি বলেন...
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অবস্থা আগের চেয়ে ভালোর দিকে যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অনেকে এগিয়ে আসছে। তবে আমারা যে ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী, সেগুলো সিনেমা হলে প্রদর্শনে অনাগ্রহ দেখা যায়। কিন্তু নতুন প্রজন্মের আগ্রহ দেখা যায় বেশি।

অনেকেই বলেন, আমাদের কিছু চলচ্চিত্র শুধু উৎসবগুলোয় প্রদর্শনের জন্যই নির্মিত হয়। এ সম্পর্কে কী বলবেন?
সব চলচ্চিত্রই পুরস্কার অর্জন করতে পারে না। নির্মাতারা চান তার ছবিটি যেন দর্শক গ্রহণ করে। আমাদের হলমালিকরা শুধু বাণিজ্যিক ছবি প্রদর্শনে আগ্রহ দেখান। ফলে ‘হালদা’ কিংবা এ ধরনের ছবিগুলো দর্শক ইচ্ছে করলেও সঠিক সময়ে দেখতে পারে না। কিন্তু ‘আয়নাবাজি’, ‘অজ্ঞাতনামা’ ছবিগুলো নতুন দর্শকদের সিনেমা হলে এনেছে। তাই যারা বলেন উৎসবের জন্য ছবি নির্মাণ হয় তারা অনেক কিছু না জেনেই বলছেন।

আপনার ‘ফাগুন হাওয়া’ ছবিটি কোন পর্যায়ে?
 শুটিং শেষ করেছি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে ‘ফাগুন হাওয়া’ সিনেমার গল্প। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে ছবিটি টিটো রহমানের ছোট গল্প ‘বউ কথা কও’-এর অনুপ্রেরণায় তৈরি হচ্ছে। এটিতে অভিনয় করছেন আবুল হায়াত, নুসরাত ইমরোজ তিশা, সিয়াম আহমেদ, ফজলুর রহমান বাবু, রওনক হাসান, তন্বী ও বলিউডের ‘লগান’খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা যশপাল শর্মাসহ অনেকে।

আপনার প্রতিটি ছবি একেকটি গল্পনির্ভর। এ ধরনের কাজের প্রতি আগ্রহের কারণ কী?
আমি প্রতিটি ছবিতে একটি মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করি। চলচ্চিত্র একটি বড় মাধ্যম। এখানে অনেক মানুষ একসঙ্গে দেখে। এর মাধ্যমে সহজে যেকোনো তথ্য সবার কাছে পৌাঁছানো যায়। শিল্পী হিসেবে দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। দেশের জন্য কিছু করতে চাই বলেই এ ধরনের গল্প নিয়ে কাজ করি।

ঈদে আপনার অভিনীত একটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে। এটি সম্পর্কে জানতে চাই।
ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘কমলা রকেট’ ঈদে মুক্তি পাবে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন নুর ইমরান মিঠু। আমার চরিত্রের নাম আতিক। গল্পে দেখা যাবে, ব্যবসায়ী আতিক নিজের ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগিয়েছে ইন্স্যুরেন্সের টাকা পাওয়ার আশায়। আগুনের ঘটনা যখন সারা দেশের মূল খবরে পরিণত হয়, তখন সে ঢাকা থেকে স্টিমারে করে মংলায় বন্ধুর বাসায় আত্মগোপন করে।

Disconnect