ফনেটিক ইউনিজয়
কাজ কমছে নায়ক-নায়িকাদের
বিনোদন প্রতিবেদক

বাংলা চলচ্চিত্র উৎসবকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে, এমন অভিযোগ এখন প্রায়ই শুনতে পাওয়া যায়। কারণ প্রতিবছর শুধু দুটি ঈদকে ঘিরেই মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির সংখ্যা বাড়ে। আর বছরজুড়ে সে পরিমাণ কমই থাকে। আবার ছবিগুলোর মধ্যে দু-একটি গ্রহণযোগ্যতা পায় দর্শকের কাছে। কয়েক বছর ধরেই ঢাকাই চলচ্চিত্রে এ অবস্থা। একসময় বছরে ১০০ ছবিও নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু ২০০৬ সালের পর থেকে এ সংখ্যা কমতে থাকে। আর চলচ্চিত্র নির্মাণ কমে যাওয়ায় নায়ক-নায়িকারা অনেকেই আগে থেকে বেকার হতে শুরু করেছেন। বাধ্য হয়ে তারা অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন ও নিচ্ছেন। এ তালিকায় রয়েছে বর্তমানসহ আগের নায়ক নায়িকাদের নামও। তাদের কারও কারও হাতে একটি ছবিও নেই, কারও হাতে আছে কয়েক বছর আগের পুরনো ছবি।
চিত্রনায়ক রিয়াজ ২০০৮ সাল পর্যন্ত চলচ্চিত্রে সরব ছিলেন। এরপর রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় যুক্ত হন তিনি। চিত্রনায়ক ওমর সানি নব্বইয়ের দশকে দাপিয়ে বেড়ান বড় পর্দা। পরে ছবির অভাবে তিনিও ব্যবসায় মনোযোগ দেন। একসময়ের দর্শকপ্রিয় নায়ক শাকিল খানও ছবির অভাবে ফিরে যান গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে। সেখানে এমএলএল ব্যবসায় যুক্ত হয়ে পড়েন। জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূর রাজধানীতে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল খুলেছেন। নায়িকা রেসি আর নিপুণ খুলেছেন বিউটি পারলার। বাপ্পারাজের রয়েছে বায়িং হাউজের ব্যবসা। মিষ্টি জান্নাতের রয়েছে খাবার আর কাপড়ের দোকান। ছবির অভাবে অন্য পেশায় যাওয়া বা বেকার হয়ে পড়া এসব শিল্পীর তালিকা বেশ লম্বা। এর কারণ হিসেবে সিনেমা হলের মালিকরা বলছেন, এখন নায়কদের মধ্যে একমাত্র শাকিব খানের ছবি চালালে অর্থের মুখ দেখা যায়। ঢালিউডের ছবি সংকটে শাকিব খানই একমাত্র ভরসা হয়ে আছে। এরপর নায়কদের মধ্যে আরেফিন শুভ, বাপ্পী ও সায়মন ছাড়া আর কারও ছবি চলে না। নায়িকাদের মধ্যে বর্তমানে মাহি, বুবলি, জয়া, ববি ছবির চাহিদা রয়েছে। আর নির্মাতারা তাদের সিনেমায় হাতেগোনা নায়ক-নায়িকাদেরই ঘুরে-ফিরে কাস্ট করছেন। ফলে বাকিরা বেকার হয়ে পড়েছেন।
এদিকে সিনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিনেমা নির্মাণের সংখ্যা কমছে। দর্শকরা সিনেপ্লেক্সমুখী হচ্ছে। অথচ এ দেশে এমন সিনেমা হলের সংখ্যা গুটিকয়েক। ফলে দর্শক কমছে, কমছে ছবির সংখ্যাও। আর সিনেমা হলের সংখ্যা ১ হাজার ২৫০ থেকে কমে এখন ২৫০-এর কোঠায় এসে ঠেকেছে।
 প্রযোজকদের বক্তব্য, হাতেগোনা সিনেমা হলে ছবি চালিয়ে লগ্নীকৃত অর্থ তুলে আনা যাচ্ছে না। তাছাড়া অনেক চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। তাই ছবির অভাবে বেকার হচ্ছেন নায়ক-নায়িকারা।

Disconnect