ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
বাঙালি হিসেবে এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া-সাদিয়া নাবিলা

বাংলাদেশের মেয়ে, সরাসরি বলিউডে! ভাবা যায়? কিন্তু এই অসাধ্য কাজটিই সাধন করেছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মেয়েটি। হ্যাঁ, বলিউড নায়িকার তকমা গায়ে জড়ানো সাদিয়া নাবিলা জানালেন তার বলিউড যাত্রার গল্প। অনলাইনে সে গল্প শুনলেন সুদীপ্ত সাইদ খান

সাম্প্রতিক দেশকাল: শৈশব কৈশোরের গল্প...
সাদিয়া নাবিলা: ৬ বছর বয়সেই প্রথমবারের মতো স্টেজে নাচের পারফরম্যান্স করেছিলাম। আমার সাংস্কৃতিক চর্চার শুরু তখন থেকেই।  এরপর ভর্তি হয়ে যাই নাচ আর গানের একাডেমিতে। পড়াশোনায় সব সময় আল্লাহর রহমতে ভালো রেজাল্ট হতো। ফলে সংস্কৃতিচর্চা কখনোই বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

সাম্প্রতিক দেশকাল: পরিবার থেকে সাংস্কৃতিক চর্চায় কোনো সমস্যা হতো কিনা?
সাদিয়া নাবিলা: দেশে প্রচুর ক্রিয়েটিভ মানুষ আছে। যারা অনেক ট্যালেন্টেড কিন্তু এসব বিষয়ে তারা বাবা মার সাপোর্ট পায় না। আমার ক্ষেত্রে ছিল উল্টো। সব সময় বাবা মা-ই নানা শো আর কম্পিটিশনের জন্য আমাকে নিয়ে দৌঁড়াদৌড়ি করতেন। তাই সংস্কৃতির সাথে সেই পিচ্চি কাল থেকেই আমি জড়িত। ছোট বেলার সব স্মৃতি এসব নিয়েই।

সাম্প্রতিক দেশকাল:  শোবিজে কাজ করার ইচ্ছেটা কি হুট করেই নাকি দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা ছিল?
সাদিয়া নাবিলা: এখনো মনে পড়ে  ছোটবেলায় খালি মাকে বলতাম ‘আমি বড় হলে নায়িকা হবো’ হা হা। আর এখন বলি আমি জাস্ট ভালো অভিনয়শিল্পী হতে চাই। আমি জানতাম আমি মিডিয়া অঙ্গনেই থাকব কিন্তু ভাগ্যক্রমে ঢাকার বদলে যাত্রা আরম্ভ হলো অস্ট্রেলিয়া থেকে।

সাম্প্রতিক দেশকাল: মিস ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ডওয়াইড প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
সাদিয়া নাবিলা: ২০১৭তে সুন্দরী প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমনটা ঘটল যে, বাংলাদেশের একজন প্রতিযোগীকে সাব কন্টিনেন্টাল কান্ট্রির প্রতিযোগী হিসেবে সিলেক্ট করা হয়। ফলে আমার জন্য অনেক বড় একটা পাওয়া এটা। আমি ফাইনালে জাস্ট ১০০% দিতে চেয়েছিলাম, জিতবো অথবা কোনো পজিশন পাব এমনটা আশাও রাখিনি মনে। কিন্তু যখন রেজাল্ট ঘোষণা করা হলো আমি ফাস্ট রানারআপ- তখন একদম স্বপ্নের মতো একটা মুহূর্ত ছিলো আমার জন্যে। বাঙালি হিসেবে আমার কাছে এটা অনেক বড় একটা পাওয়া।

সাম্প্রতিক দেশকাল: বলিউডে সুযোগ পাওয়ার পেছনের গল্প জানতে চাই...
সাদিয়া নাবিলা: মিস ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ডওয়াইড প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হওয়ার পর আমার সঙ্গে একটা সিনেমার অডিশনের জন্য কন্টাক্ট করা হয়। তখন অনেক এক্সাইটেড থাকলেও একটু নার্ভাসও ছিলাম। কারণ এতো ইন্ডিয়ান আর্টিস্ট থাকতে আমাকে তারা আদৌ পছন্দ করবে কিনা? কিন্তু মা সবসময় শিখিয়েছেন নিজের চেষ্টাটুকু সবসময় পুরোপুরি করবার জন্য। আর বাকি সব সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা। ফলে অডিশনটা দিয়েই ফেললাম। পরপর তিনটি অডিশন হয় আমার। কারণ বাঙালি হওয়ার কারণে আমার হিন্দি বলাতেও বাংলা একটা টান ছিল। শেষে মুভির শুটিংয়ের আগে অনেক ওয়ার্কশপ করে ইমপ্রুভমেন্ট আনা হলো।

সাম্প্রতিক দেশকাল: ‘পেরেশান পারিন্দা’ ছবিতে কাজের সময়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? কোনো সমস্যায় পড়তে হয়েছে কিনা?
সাদিয়া নাবিলা: অভিজ্ঞতা অনেক মজার ছিল। আমি একাই ছিলাম বাঙালি আর আমার প্রথম মুভি, তাও আবার বলিউডের; হিন্দি ভাষায়। হিন্দি শেখার অভিজ্ঞতাটা বেশ মজার ছিল (হাহা)। এত এত নতুন জিনিস শিখেছি যা আমার ভবিষ্যতে খুব কাজে লাগবে।

সাম্প্রতিক দেশকাল: ‘হিন্দি ভাষা’ আয়ত্ত করলেন কীভাবে?
সাদিয়া নাবিলা: আমরা বেশিরভাগ মানুষই কিন্তু ছোটবেলা থেকে টুকটাক বলিউড গান শুনি অথবা মুভি দেখি। ফলে আমার হিন্দি ভাষাটা অল্পস্বল্প জানা ছিল। কিন্তু কখনো কারো সাথে হিন্দি ভাষায় কথা বলিনি দেখে হিন্দি চর্চাটা ছিল না। তাই শুটিংয়ের আগে ওয়ার্কশপ করায় অনেক সুবিধা হয়েছে।

সাম্প্রতিক দেশকাল: বাঙালি হয়ে বলিউডের ছবিতে কাজ করেছেন, ভাবলে কেমন লাগে?
সাদিয়া নাবিলা: বাঙালি হিসেবে এটা আমার জন্য অনেক বড় একটা পাওয়া। নিজেকে আর নিজের দেশকে আরেকটা দেশে, আরেকটা প্লাটফর্মে রিপ্রেজেন্ট করতে পারলাম। এবার নিজের দেশে কাজ করবার পালা।

সাম্প্রতিক দেশকাল: বাঙালি হওয়ায় কোনো বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে কিনা?
সাদিয়া নাবিলা: একদমই না। তারা আনকমফোর্টেবল ফিল করার কোনো সুযোগই দেননি। আমি একাই বাঙালি ছিলাম। এই জন্য তারা হয়তো আরও বেশি খেয়াল রাখবার চেষ্টা করেছেন।

সাম্প্রতিক দেশকাল: বলিউডে পরবর্তী কাজের খবর কী?
সাদিয়া নাবিলা: আরেকটা বলিউড মুভিতে কাজ করার কথা চলছে, যার পুরো শুটিংটাই ইন্ডিয়াতে হওয়ার কথা। আমি এখনো কিছু জানাই নি এ ব্যাপারে। একটু সময় নিচ্ছি।

সাম্প্রতিক দেশকাল: ঢালিউডে কাজ করার ইচ্ছে আছে কিনা?
সাদিয়া নাবিলা: অবশ্যই ইচ্ছে আছে। সত্যি বলতে কি আমার দেশের কাজের উপরেই ঝোঁক বেশি। এখানে সবসময় কাজ করি দেখে অনেকে ভাবেন আমি হয়তোবা দেশে কাজ করতে আগ্রহী না। একদম ভুল। আমি দেশে ভালো কাজের সুযোগ পেলে, ওখানে নিয়মিত কাজ করতে দ্বিধাবোধ করব না।

সাম্প্রতিক দেশকাল: অস্ট্রেলিয়ায় কী নিয়ে ব্যস্ততা? সেখানকার মিডিয়ায় কাজ কেমন চলছে?
সাদিয়া নাবিলা: অস্ট্রেলিয়ায় আপাতত মডেলিং নিয়েই ব্যস্ত আছি। এ ছাড়া থিয়েটারও করা হয় টুকটাক।

সাম্প্রতিক দেশকাল: জন আব্রাহামের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন? বলিউডের আর কার কার সঙ্গে আপনার পরিচয় রয়েছে?
সাদিয়া নাবিলা: জন আব্রাহামের সঙ্গে পরিচয় আসলে মিস ইন্ডিয়া ওয়ার্ল্ডওয়াইড থেকেই। পরবর্তীতে অন্য শোতেও কাজ হয়েছে একসাথে। বলিউডের রাজীব খান্দেলওয়ালের সাথে ভালো পরিচয় আছে। উর্মিলা মাতন্ডকরের সাথেও পরিচয় হয় সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে।

সাম্প্রতিক দেশকাল: বাংলাদেশে আপনার প্রিয় নায়ক-নায়িকা?
সাদিয়া নাবিলা: আমার আসলে প্রিয় নায়ক-নায়িকা বলতে কেউ নেই। যখন যার কাজ ভালো লাগে, সেটাই দেখি। আমাদের দেশে অনেক ভালো আর্টিস্ট আছেন, নাম বলে শেষ করা যাবে না।  

সাম্প্রতিক দেশকাল: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা?
সাদিয়া নাবিলা: দেশে ভালো কাজ করার ইচ্ছা। অনেকে জানতেন না যে আমি বাংলাদেশি। নিউজ হওয়ার পর অনেকে আমার সঙ্গে কন্টাক্ট করেছেন। আমি অস্ট্রেলিয়ায় একটা ফ্যাশন এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত আছি। তাই এখানে যখন কাজ হয় তখন কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল মাপের কাজগুলোই করা হয়। কিন্তু আমি যখন দেশে কাজ করব তখন ইনশাআল্লাহ সব ধরনের লুকেই কাজ করবার ইচ্ছা আছে। শুধু যে গ্ল্যামারাস বা ফ্যাশন রিলেটেড কাজ তা নয়, চ্যালেঞ্জিং কাজ করতেও পছন্দ করি। কারণ অনেক কিছু শেখা যায়।

Disconnect