ফনেটিক ইউনিজয়
লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসব
বাংলাদেশ অংশগ্রহণের শেষ বছর
বিনোদন প্রতিবেদক

দক্ষিণ সুইজারল্যান্ডের পর্যটন শহর লোকার্নো। এ শহর বিশ্বজুড়ে মূলত পরিচিত এখানকার চলচ্চিত্র উৎসবের সুবাদে। ইউরোপের প্রথম সারির চলচ্চিত্র উৎসব বলা হয় লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসবকে। এ বছর ৭১ বছরে পা দিল উৎসবটি। কিন্তু লোকার্নোতে এবারসহ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ তিনবার। ২০১৬ সালে ওপেন ডোর্স কার্যক্রমের আওতায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের একঝাঁক তরুণ নির্মাতা আমন্ত্রিত হয়েছিলেন লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসবে।
১ আগস্ট শুরু হয়েছে এ চলচ্চিত্র উৎসবের ৭১তম আসর।  মর্যাদাপূর্ণ এ আসরের পর্দা নামবে ১১ আগস্ট। এ বছরই ওপেন ডোর্স কার্যক্রমে দক্ষিণ এশীয় দেশের অংশগ্রহণ শেষ হচ্ছে। ২০০৩ সালে ওপেন ডোর্স কার্যক্রম শুরু হলেও ২০১৬ সালে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশ ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও মিয়ানমার তিন বছরের জন্য এখানে সুযোগ পায়। উৎসবের ওপেন ডোর্স বিভাগে তিনটি ধাপে কার্যক্রম চলে। ওপেন ডোর্স হাবে অংশ নেয় নির্মাতাদের পরবর্তী ছবির চিত্রনাট্য। ওপেন ডোর্স ল্যাবে অংশ নেয় প্রযোজকরা। আর ওপেন ডোর্স স্ক্রিনিংয়ে প্রদর্শিত হয় নির্মাতাদের নির্মিত ছবি।  
এ তিন বছরে লোকার্নো উৎসবে জায়গা করে নেন বাংলাদেশের তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজকরা। ২০১৬ সালে হাবে দুটি চিত্রনাট্য ছিল বাংলাদেশের। ইশতিয়াক জিকোর সিনেমা সিটি অ্যান্ড ক্যাটস, অন্যটি কামার আহমাদ সাইমনের ডে আফটার টুমরো। এর মধ্যে কামারের চিত্রনাট্যটি পুরস্কার পায়। ওপেন ডোর্স ল্যাবে অংশ নেন তিনজন প্রযোজক। আর স্ক্রিনিংয়ে প্রদর্শিত হয় মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর টেলিভিশন, কামার আহমাদের শুনতে কি পাও আর রুবাইয়াত হোসেনের আন্ডার কনস্ট্রাকশন ছবি। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের একমাত্র অংশগ্রহণ ছিল ওপেন ডোর্স হাবে রুবাইয়াত হোসেনের চিত্রনাট্য মেড ইন বাংলাদেশ। এ বছর  নির্বাচিত হয়েছে মাহদী হাসানের স্যান্ড সিটি চিত্রনাট্য। ল্যাবে অংশ নিয়েছেন প্রযোজক আরিফুর রহমান। আর স্ক্রিনিংয়ে বাংলাদেশ থেকে পূর্ণদৈর্ঘ্য বিভাগে দেখানো হয় আবদুল্লাহ মুহাম্মদ সাদ পরিচালিত ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ (২০১৬) চলচ্চিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য বিভাগে দেখানো হয় মাহদী হাসানের ‘ডেথ অব আ রিডার’ (২০১৭) ও অং রাখাইনের ‘দ্য লাস্ট পোস্ট অফিস’ (২০১৮)। এর মধ্যে লাইভ ফ্রম ঢাকা ও  ডেথ অব আ রিডার আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশ নিয়ে প্রশংসিত হয়েছে। অন্যদিকে ওপেন ডোর্সের স্ক্রিনিং বিভাগে দ্য লাস্ট পোস্ট অফিস ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হচ্ছে। এ বিভাগে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো  মোট আটটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও ১৩টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি দেখানোর কথা রয়েছে। এ আয়োজন সম্পর্কে পুরস্কার পাওয়া কামার আহমাদ সাইমন বলেন, ‘লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসবের ওপেন ডোর্সে অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মের কাছে বাতিঘরের মতো।’

Disconnect