ফনেটিক ইউনিজয়
সা ক্ষা ৎ কা র
‘গল্পের প্রয়োজনে বাজেটের বিষয়টি আসে’

মিজানুর রহমান আরিয়ান। এ সময়ের একজন জনপ্রিয় নাট্যনির্মাতা। তার নির্মিত বড়ছেলে, বুকের বাঁ পাশে, সংসার’সহ অসংখ্য নাটক ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তবে এখন মনোযোগ সিনেমা নিয়ে। বর্তমান সময়ের কাজ নিয়ে এ নির্মাতার সঙ্গে কথা বলেছেন সুলতান মাহমুদ সোহাগ

‘জনপ্রিয় নাট্য নির্মাতা’ উপাধি কেমন উপভোগ করছেন?
ছোটবেলায় আমরা পড়েছিলাম স্বাধীনতা পাওয়ার চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। এটা সত্যি, আমার কিছু কাজ দর্শকপ্রিয় হয়েছে, তাতে আমার উপর দায়বদ্ধতা অনেক বেড়েছে। কাজ করতে গেলে অনেকবার ভাবতে হয়, কাজটা হালকা হয়ে যাচ্ছে কি না? এছাড়া আমি চাপমুক্ত থেকে কাজ করতে চাই, এতে কাজের মান ভালো হয়।

পড়াশোনা করেছেন টেক্সটাইলে। নাটক নির্র্মাণ এবং গল্প লেখার আগ্রহ এলো কীভাবে?
মূলত জেদ থেকেই নাটক নির্মাণে আসা। ইন্টারমিডিয়েট পাস করে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলাম না, তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম আমাকে অন্যকিছু করে দেখিয়ে দিতে হবে। নাটক নির্মাণ শিখেছি ইউটিউব দেখে, গল্প আগে থেকেই লিখতাম। এভাবে চলতে চলতে একটা গল্প দাঁড় করালাম। ‘আমি তুমি সে’ ২০১২ সালে বানিয়ে  ফেললাম। প্রথমদিকে নির্দেশনা ভালো বুঝলেও ম্যানেজমেন্ট বুঝতাম না, ফলে কিছু সমস্যার মধ্যেও পড়েছিলাম।

প্রথম নির্মাণে সাড়া কেমন পেয়েছিলেন?
অনেক ভালো সাড়া পেয়েছি। আমার প্রিয় কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল প্রথম নির্মাণ। এরপর অনেক নাটক বানালেও প্রথম কাজটি ছিল অন্যরকম ভালোবাসার।

আপনার বেশির ভাগ কাজ ভালোবাসার গল্প নিয়ে, মধ্যবিত্তদের আবেগ নিয়ে। এর কারণ কি?
প্রথমদিকে বেশ কয়েকটি নাটক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বানিয়েছিলাম। নাটকগুলো অনএয়ারে যাওয়ার পরে একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম যে, আমরা অনেক বেশি ইমোশনাল। আমরা হাসতে চাই, কাঁদতে চাই এবং ভালোবাসতে চাই। এগুলো বুঝেই বানালাম ‘ইন এ রিলেশনশিপ’, ‘বড়  ছেলে’, ‘সংসার’।

‘বড়ছেলে’-এর কথা যেহেতু বারবার আসছে, তাই এই নাটকের পেছনের গল্পটা শুনতে চাই?
আমার দাদা, বাবা ও আমি বাড়ির বড় ছেলে। বড়ছেলের অনেক দায়িত্ব থাকে, যদিও আমার কোনো দায়িত্ব পালন করতে হয় না। কিন্তু অনেকের কাছে শুনেছি, দেখেছি নিজের পছন্দমতো অনেক কিছুই করতে পারে না বড়ছেলেরা। এই বিষয়গুলোই নাটকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। গল্পের সিনোপসিসটা প্রডিউসারকে দেয়ার পর তিনি পড়ে বললেন, ‘তুমি এটা কি লিখেছো? আমার চোঁখেতো পানি চলে আসছে।’ কথাটি শোনার পর আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেল। শুটিং করার সময় অনেকেই কেঁদেছে। এডিটিং করার সময় এডিটররা  কেঁদেছে।

প্রচলিত আছে আপনি বেশি বাজেটের নাটক বানান?
এটি পুরোপুরি সত্যি না। গল্পের প্রয়োজনে বাজেটের বিষয়টি আসে। আমি ধরে ধরে কাজ করি। সময় একটু বেশি লাগে, আমার সবচেয়ে বেশি বাজেটের কাজ ‘ব্যাচ-২৭’। আবার ওই ঈদেই তার  চেয়ে অনেক কম বাজেটের কাজ ছিল ‘বড় ছেলে’। দু’টো নাটকই কিন্তু প্রশংসিত হয়েছে।

বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে?
ঈদের আগে তিনটি নাটক বানিয়েছিলাম। এর মধ্যে রয়েছে ‘ফেসবুক ছাড়ার ছয়টি উপায়’, ‘শোক হক শক্তি’, ‘প্রবাসী’। এখন একটু ব্যবসার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। আমার ছোট রেস্টুরেন্ট ব্যবসা আছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি? চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন কবে?
আশেপাশে যতদিন ভালোবাসার গল্পগুলো আছে ততদিন ভালোবাসার নাটক বানিয়ে যাবো। আর সিনেমা ইনশাআল্লাহ্ আগামী বছরের শুরুতেই বানাবো। গল্প রেডি, প্রডিউসার রেডি, শিল্পীদের সঙ্গে কথা চলছে। আমার সিনেমাতেও ভালোবাসার গল্প, পরিবারের গল্প থাকবে। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

Disconnect