ফনেটিক ইউনিজয়
সীমানা পেরোনো তারকারা
মান্নাফ সৈকত
ফেরদৌস, জয়া আহসান, নুসরাত ফারিয়া
----

অতীতের চেয়ে বর্তমানে চলচ্চিত্রের ব্যবসার সীমানা বেড়েছে। অভিনয়শিল্পীরাও দেশের সীমানা পেরিয়ে ভিন দেশে গড়ছেন শক্ত অবস্থান। তবে এ ধারা শুধু বর্তমানের নয়, চলচ্চিত্রের আগের ইতিহাস দেখলে বোঝা যায় এই সময়ের নায়ক-নায়িকারা তাদের সিনিয়রদেরকেই অনুসরণ করে চলেছেন।  
এ সময়ের জনপ্রিয় নায়ক ফেরদৌসের কলকাতায় বাংলাদেশি শিল্পী হিসেবে রাজকীয় অভিষেক ঘটেছিল ১৯৯৮ সালে বাসু চ্যাটার্জি পরিচালিত ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ ছবির মাধ্যমে। ব্যতিক্রমী এক প্রেমের গল্পে এ ছবি দিয়ে কলকাতার দর্শকের মনে স্থায়ী আসন গড়ে নেন ফেরদৌস।  ওপার বাংলায় শক্তিশালী অবস্থান গড়ে নিয়েছেন বাংলাদেশের নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান ও ঢালিউডের কিং খানখ্যাত চিত্রনায়ক শাকিব খান। ২০১৬ সালে ‘শিকারি’ ছবি দিয়ে কলকাতার সিনেমায় পা রাখেন শাকিব। এরপর গেল বছরে মুক্তি পাওয়া ‘নবাব’ ছবিটিতে শাকিবকে লুফে নেয় কলকাতার দর্শক।  এদিকে বলা হয়, টালিউডের ছবিতে এই মুহূর্তে বাংলাদেশি নায়িকাদের মধ্যে সবচে’ এগিয়ে রয়েছেন জয়া আহসান। গত বছর ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকা টলিউড নায়িকাদের নিয়ে যে শীর্ষ তালিকা তৈরি করেছে, সেখানে জয়া আহসানের নাম ছিল সবার উপরে। ২০১৩ সালে টলিউডে জয়া অভিনীত প্রথম ছবির নাম ‘আবর্ত’। এরপর তিনি ‘রাজকাহিনী’, ‘বিসর্জন’, ‘আমি জয় চ্যাটার্জি’, ‘একটি বাঙালি ভূতের গপ্পো’, ‘ঈগলের চোখ’, ‘ক্রিসক্রস’ ছবিতে অভিনয় করেছেন।
জয়ের পথ ধরে এগিয়ে চলেছেন বাংলাদেশের ছোট ও বড় পর্দার আরেক অভিনেত্রী সোহানা সাবা। টলিউডে ২০১৫ সালে অয়ন চক্রবর্তীর পরিচালনায় ‘ষড়রিপু’ নামের একটি ছবিতে প্রথম কাজ করে প্রশংসিত হন। এরপর ওপার বাংলার হরনাথ চক্রবর্তীর ‘এপার ওপার’ ছবিতে অভিনয় করেন সাবা। এ ছাড়া কলকাতার আরও বেশকিছু ছবি নিয়ে তার কথা চলছে  সেখানকার নির্মাতাদের সঙ্গে। এদিকে নায়িকা নুসরাত ফারিয়া ‘যৌথ প্রযোজনার আশিকি’ ছবিতে কাজ করার পর ‘হিরো ৪২০’, ‘বাদশা’, প্রেমী ও প্রেমী’, ‘বস টু’ নামের ছবিগুলোতো জনপ্রিয়তা ধরে রাখেন। জানা যায়, অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি অভিনীত কলকাতার প্রথম ছবি ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ মুক্তি পেতে চলেছে। এছাড়া লাক্স তারকা অরিন গত বছর ‘অপরাজেয়’ ছবির মাধ্যমে কলকাতায় কাজ শুরু করেন।  
মূলত আশির দশকের মাঝামাঝি থেকেই টালিগঞ্জের সিনেমায় রাজত্ব করেছেন ঢাকাই সিনেমার নির্মাতা ও  শিল্পীরা। এপারের মেধা সমৃদ্ধ করেছে ওপারের সিনেমাকে। কলকাতায় সফল অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন নায়করাজ রাজ্জাক, শাবানা, ববিতা, আলমগীর, চম্পাও। ‘বাবা কেন চাকর’ ছবি দিয়ে ওপার বাংলাতেও তুমুল জনপ্রিয়তা পান রাজ্জাক। এরপর তিনি কাজ করেন ‘অন্নদাতা’, ‘জন্মদাতা’ ইত্যাদি ছবিগুলোতে। সেখানেও তিনি দেখিয়েছেন শক্তিমান অভিনেতার প্রতাপ। চিত্রনায়ক আলমগীরও বাজিমাত করেছেন কলকাতার ইন্ডাস্ট্রিতে। নব্বই দশকে তিনি কলকাতায় নির্মাণ করেন ‘মায়ের আশীর্বাদ’। এটি বাংলাদেশে মুক্তি পাওয়া ‘মায়ের  দোয়া’ সিনেমার রিমেক ছিল। যৌথ প্রযোজনার এ ছবিতে আলমগীরের বিপরীতে ছিলেন কলকাতার দেবশ্রী রায়। ১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবি দিয়ে কলকাতায় অভিনয়ের কারিশমা দেখিয়েছিলেন ঢাকাই সিনেমার মিষ্টি মেয়ে কবরী। এটি নির্মাণ করেছিলেন ঋত্বিক ঘটক। কলকাতার চলচ্চিত্রে সফল বাংলাদেশিদের তালিকায় উজ্জ্বল আরও একটি নাম অঞ্জু ঘোষ। ১৯৯৬ সালের পর থেকেই তিনি কলকাতায় নিয়মিত কাজ করছেন। এখনও করে যাচ্ছেন।

Disconnect