ফনেটিক ইউনিজয়
চলচ্চিত্রে বৃটিশ শাসন
বিনোদন প্রতিবেদক

১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে পরাজিত হলে কার্যত উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা ঘটে। বাংলা অধিকারের পর ক্রমান্বয়ে ব্রিটিশরা সমগ্র ভারতবষর্ষ দখল করে নেয়। ভারতবর্ষে ব্রিটিশ রাজ নিয়ে বহু ভাষায় সাহিত্য, চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। ব্যতিক্রম ছিলেন না সত্যজিৎ রায়ও। উর্দু ভাষায় নির্মাণ করেন ছবি ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’। এ ছবিতে তিনি দেখিয়েছেন আওয়াধ রাজ্যের শাসক ওয়াজিদ আলী শাহের ক্ষমতা হারানোর গল্প। নির্মাণ করেছেন ‘ঘরে বাইরে’ চলচ্চিত্র। এ সিনেমায় তুলে ধরেছেন সেই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে।

শতরঞ্জ কি খিলাড়ি (১৯৭৭)
বিখ্যাত নির্মাতা সত্যজিৎ রায় লেখক মুন্সী প্রেমচাঁদের ছোট গল্পকে বেছে নেন এই ছবির জন্য। এ ছবিটিই তার ক্যারিয়ারের প্রথম কোনো উর্দু ছবি নির্মাণ। ১৮৫৬ সালের ব্রিটিশ রাজের সময়কার কাহিনীতে দু’টো গল্প সমান্তরালভাবে  দেখিয়েছেন পরিচালক। হালকা মেজাজের প্রথম গল্পে তৎকালীন দু’জন বিত্তবানকে দেখা যায় তাদের সংসারধর্ম ছেড়ে মজে আছেন দাবা খেলায়। অন্যদিকে ভারী মেজাজের গল্পে দেখানো হয় ব্রিটিশদের আওয়াধ রাজ্য দখল করে শাসক ওয়াজিদ আলী শাহকে ক্ষমতাচ্যুত করার গল্প। ছবিটির ধারা বর্ণনায় ছিলেন বলিউড সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চন। ছবির মূল চরিত্রে দেখা গেছে আমজাদ খান, সঞ্জীব কুমার, সাঈদ জাফরি, শাবানা আজমি, রিচার্ড স্যামুয়েল অ্যাটনবারা ও ফরিদা জালালকে। ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ অস্কারের বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র হিসেবে অংশগ্রহণ করে।
ছবিতে দেখা যায়, নবাব ওয়াজিদ আলী শাহ্’কে ক্ষমতা থেকে হটাতে ইংরেজদের পরিকল্পনা ও এর বিরুদ্ধে নবাবের প্রতিক্রিয়া। ছবিতে দেখানো ঘুড়ি ওড়ানো, মোরগ কিংবা মেষের লড়াই যেন সেই সময়টাকেই পর্দায় ফুটিয়ে তোলে।

ঘরে বাইরে (১৯৮৪)
১৯১৬ সালে চলিত ভাষায় স্বদেশি আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা উপন্যাস ‘ঘরে বাইরে’। উপন্যাসের প্রধান তিন চরিত্র বিমলা, নিখিলেশ চৌধুরী ও সন্দীপ মুখার্জি। উপন্যাসটির নামের সঙ্গে হুবহু মিল রেখে নির্মাতা সত্যজিৎ রায় ১৯৮৪ সালে নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র ‘ঘরে বাইরে’। জানা যায়, এ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য তিনি লিখে রেখেছিলেন তার প্রথম ছবি ‘পথের পাঁচালী’ নির্মাণেরও আগে। এই ছবিতে অভিনয় করেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়, জেনিফার কাপুর ও স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত। ছবিতে নারীমুক্তির বিষয়কে অন্য আঙ্গিকে দেখানো হয়েছে, আর দেখানো হয়েছে স্বদেশি আন্দোলনের নেতিবাচক দিক।
চলচ্চিত্রটিতে একটা বিষয় ভীষণভাবে দেখানো হয়েছে, আর তা হলো ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ব্যবহৃত ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগানটি ভারতবর্ষের সব ধর্মের মানুষ আপন করে নেয়নি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও স্বীকার করেন বিষয়টি। এছাড়া নিম্নবিত্ত, গরিব কৃষক, মজুরদের এই আন্দোলনের মূলধারায় কখনও আনা যায়নি। ইতিহাস বলে, স্বদেশি আন্দোলন ভারতবর্ষের কিংবা বাঙালির জন্য না, কিন্তু কলকাতাবাসীর কোনো এক গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত স্বার্থেই ব্যবহার হয়েছিল এটি। এসব তিক্ত দিকই  দেখনো হয়েছে পুরো ছবি জুড়ে।

Disconnect