প্রথমে নিজেকে মানুষ ভাবতে হবে: নাহরীন চৌধুরী

নাহরীন চৌধুরী

নাহরীন চৌধুরী

‘সফলতার জন্য একটা ভালো স্বপ্নের প্রয়োজন। আবার স্বপ্নের কাছে যাওয়ার জন্য সিঁড়ির দরকার। আবার সিঁড়িটাকেও কিন্তু সঠিক সিঁড়ি হিসেবে বেছে নিতে হবে। দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা যাবে না। আবার চলমান সিঁড়িতে যাওয়া যাবে না। ধীরে ধীরে আস্তে আস্তে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হবে। তাহলে আপনার কাছে সফলতা আসবেই।’ 

কথাগুলো এ প্রজন্মের ফ্যাশন ডিজাইনার নাহরীন চৌধুরীর, যিনি বর্তমানে ওকোড এনার্জিপ্যাকের হেড অব ইনোভেশন হিসেবে কর্মরত আছেন। 

সফলতা শব্দটা অনেক ভারী। শুধু কর্মজীবনে সফল হলেই হবে না। সব মাধ্যমেই সফল হতে হবে। নাহরীন চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি রংপুর হলেও জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। শান্ত-মারিয়াম থেকে গ্র্যাজুয়েশন ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করেন। 

একদম ছোটবেলা থেকে নতুন কিছু করার প্রতি আগ্রহ ছিল নাহরীনের। ডিজাইন তার অন্যতম পছন্দের। পড়াশোনা শেষ করে নাহরীন জয়েন করেন নিউএজ গার্মেন্টস মার্চেন্ডাইজার হিসেবে, এরপর জয়েন করেন হাইক এ তারপর জুরহেম ও ২০১৭ সালে জয়েন করেন ওকোড-এ। শুরুতে ম্যানেজার হিসেবে জয়েন করলেও এখন তিনি ওকোড বাই এনার্জি প্যাকের হেড অব ইনোভেশন। 

একটা প্রবাদ খুব বিশ্বাস করেন নাহরীন, তা হচ্ছে ‘যে নারী রাঁধে সে চুলও বাঁধে’ নারীদের একটু বেশিই কাজ করতে হয়, এজন্য কোনো অভিযোগ না থাকাই ভালো। একজন নারী কিন্তু একজন মা। আমিও একজন মা। আমার সাত বছরের একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান আছে। তারদিকেও কিন্তু আমার শতভাগ মনোযোগ রাখতে হবে। আমার কন্যাকেও একজন স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে তৈরি করতে চাই। যদিও এখন সে অনেক ছোট। তবুও নিজের খাওয়াটা নিজে তৈরি করে নেয়া, নিজের চুল বাঁধা, নিজের ঘর গোছানো, নিজের কাপড় পড়া, নিজের যা যা করণীয় কাজ নিজে করতে পারে- এভাবেই আমি ওকে গড়ে তুলছি। 

সফল হওয়ার জন্য ভালো স্টুডেন্ট হতে হবে, এমন কি কোনো নিয়ম আছে? এ ধরনের প্রশ্নে নাহরীন চৌধুরী বলেন, আসলে ভালো স্টুডেন্ট হতে হবে তা না; কিন্তু অবশ্যই তাকে পড়াশোনা করতে হবে। পাঠ্য বইয়ের জ্ঞান অবশ্যই অর্জন করতে হবে। সুতরাং পড়াশোনা ছাড়া সফল হওয়াটা কষ্টকর। 

একজন করপোরেট নারী হিসেবে কোনো বাধার সম্মুখীন হয়েছেন কিনা এ ধরনের প্রশ্নে নাহরীন বলেন, চাকরি জীবনে মেয়ে হিসেবে আমি এখনো কোনো বাধার সম্মুখীন হয়নি। আমি আমার কাজকে শুধু কাজ হিসেবে দেখেছি ও আমার আশপাশে যারা আছেন, ছিল তারা আমাকে সহকর্মী হিসেবেই দেখেছে। আমি কখনোই শুনিনি যে, ও মেয়ে, ও এটা করতে পারবে না। দেশের ও ঢাকার বাইরে প্রচুর যাওয়া হয় আমার। ফ্যাক্টরি ভিজিট করতে হয়, ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের। আমি কিন্তু কখনোই অনুভব করিনি যে, আমি একজন মেয়ে। 

কর্মজীবী মেয়েদের সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমত মেয়ে ভাবা যাবে না। নিজেদের মানুষ ভাবতে হবে। যদি একটা টিমে ১০টা ছেলে থাকে আর আপনি একা মেয়ে থাকেন, সেখানেও আপনাকে স্বাভাবিক থাকতে হবে। নিজের অবস্থানটা নিজে তৈরি করে নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

<