ফনেটিক ইউনিজয়
পর্ব-৫৯
রাজনীতির গপ্পো
মোস্তফা সোহেল

নতুন বছরের প্রথম দিন বিকেলে গুলশানে তুরস্কের খাবারের রেস্টুরেন্টে বসেছে হাসান আর নওশীন। হাসান অর্ডার করে তুরস্কের বেশ কিছু প্রাচীন খাবার। তালিকায় ছিল কাবাব, কফটেজ আর দোলমা। ডেজার্টে ছিল বাখলাভা, রিভানি, লোকমা ইত্যাদি। হাসান হেসে বলে, হ্যাপি নিউ ইয়ার নওশীন।
নওশীন হাসে। তারপর বলে, শুনেছ নিশ্চয়ই দুর্বৃত্তের গুলিতে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ মনজুরুল ইসলাম (লিটন) নিহত হয়েছেন। সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
ব্যাপারটা ভীষণ এলার্মিং।
হুম। অবশ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সাংসদকে মৌলবাদী শক্তি পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। এ জন্য তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীও খুনিদের খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সামনে নিশ্চয়ই এ বিষয়ে আরও আপডেট পাওয়া যাবে।
আচ্ছা হাসান, নিশ্চয়ই শুনেছ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচ এম এরশাদ বলেছেন, তাঁর জীবনের শেষ চাওয়া জাতীয় পার্টিকে আরেকবার ক্ষমতায় নেওয়া। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাপার ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এক মহাসমাবেশে এরশাদ এ কথা বলেন।
আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রতি ইঙ্গিত করে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এইচ এম এরশাদ বলেন, ‘আমি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছি। হয়তো এটাই শেষ নির্বাচন। আমি তোমাদের মাঝে থাকতে চাই। আমাকে বাঁচাতে হলে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। আমাকে নতুন জীবন দাও।’
জাতীয় পার্টি এখন বেশ ইমেজ-সংকটে আছে।
এদিকে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে গিয়ে সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের রীতিমতো শাসালেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি যে ইলেকশন কমিশনের প্রস্তাব দিয়েছি, তোমরা কি পড়েছ সবাই? সবাই পড়োনি। তাহলে তোমরা কিসের ছাত্র? কেন ছাত্রদল করো বা কেন তোমরা যুবদল করবে? বস্তির ছেলেপেলে এনে দল করতে যাবে না। সংখ্যা আমি দেখতে চাই না। আমি দেখতে চাই ভালো, উপযুক্ত ছেলেপেলে আসে কি না।’
আসলে বিগত দুই আন্দোলনে ছাত্রদলের ভূমিকা আশাব্যঞ্জক ছিল না বলে অনেকে মনে করেন। দল গুছিয়ে নেওয়ার স্বার্থে হয়তো তিনি এসব বলেছেন।
দয়া করে এখন একটা পলিটিক্যাল জোক বলবে?
হাসান বলতে শুরু করে, দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা বিষয়ে কথা বলছেন ব্রিটেন ও ভারতের দুই রাজনৈতিক কর্মী।
ব্রিটেনের রাজনৈতিক কর্মী বলেন, ‘গত বছর আমি দলের মধ্যে স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর জোর দিয়ে আমাদের এক কর্মিসভায় বক্তৃতা দিই। আমি বলি, পার্টির নীতিনির্ধারণে সাধারণ কর্মীর মতামতকে মূল্য দিতে হবে। এ কথা বলার পর প্রথম মাসে আমি কোনো উন্নতি দেখলাম না, দ্বিতীয় মাসেও আমি  তেমন উন্নতি দেখলাম না, তবে আমি আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম অব্যাহত রাখলাম।
তৃতীয় মাসে দেখা গেল, পার্টির বড় কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় আমাদের কথাও কিছু শোনা হচ্ছে।’
এবার তৃতীয় বিশ্বের এক রাজনৈতিক কর্মীর পালা। তিনি বললেন, ‘গত বছর আমিও আমাদের পার্টির এক কর্মী সমাবেশে বক্তব্য রাখি। নেতাদের সামনে আমিও আপনার মতোই জোর গলায় বলি, পার্টির নীতিনির্ধারণে আমাদের মতো সাধারণ কর্মীর মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ কথা বলার পর প্রথম দিন আমি কিছু দেখলাম না, দ্বিতীয় দিনও আমি কিছু দেখলাম না, তৃতীয় দিন চোখ মেলে দেখলাম হাসপাতালে শুয়ে আছি।’

Disconnect