ফনেটিক ইউনিজয়
কলকাতার ডায়েরি
কলকাতায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বৃদ্ধাশ্রম

এখনও কলকাতার বাজারে, অলিগলিতে সকালের নাশতা হিসেবে জনপ্রিয় লুচি আর ডাল। নামি রেস্তোরাঁ থেকে গলির মোড়ের হোটেলগুলোয় লুচি-ডাল বা সবজি খুবই জনপ্রিয় খাবার। বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে কিশোর-তরুণ পর্যন্ত সব বয়সের ক্রেতাই এ খাবারের ভক্ত। কলিকাপুরের পূর্বাচল বাজারে গিয়ে দেখা গেল কাঁচাবাজারের আগে সারিবদ্ধ কয়েকটি দোকান। এখানে সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণির লোকজন রীতিমতো লাইনে দাঁড়িয়ে সকালের নাশতায় লুচি আর ডাল খাচ্ছে। এক একটা লুচির দাম সাড়ে ৩ টাকা। সঙ্গে বুটের ডাল ফ্রি। আবার এ শহরেই আরসালানের মতো বড় রেস্টুরেন্টেও বিক্রি হচ্ছে কলকাতার বিখ্যাত লুচি আর ডাল। সারা কলকাতা শহরেই লুচি আর ডাল একরকম কমন খাবার হয়ে গেছে। অন্য জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে ইডলি, সাম্বার আর দোসা।

উবার আর উলা এখন জনপ্রিয়
কলকাতাবাসী বা অতিথি যেই হোক, নিত্য চলাফেরার জন্য এ মুহূর্তে এখানে সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবহন হচ্ছে উবার ও উলা। উবার বিদেশি কোম্পানি হলেও উলা কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের কোম্পানি। দুটোরই সহজলভ্য অ্যাপ ডাউনলোড করে যেকোনো জায়গা থেকে মাত্র ৫-১০ মিনিটের মধ্যে উবার বা উলা পাওয়া যায়। দুই পক্ষের হাতে মোবাইলে বিল-সংক্রান্ত তথ্য থাকার কারণে ঝামেলাও কম হয়। তার ওপর  নেই গাড়ি পার্কিংয়ের ঝক্কি বা নিজের গাড়ি দুর্ঘটনার কোনো আশঙ্কা। তবে কলকাতাবাসীর অনেকেই বলেছে, জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে এরা ভাড়াও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে সরকারও উদ্বিগ্ন। সরকার ৪৫ ভাগের কম ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে তাদের। কিন্তু এখনও কোনো ফল হয়নি। উবার ও উলার পাশাপাশি এখানে হলুদ ও সাদা ট্যাক্সি ও সিএনজি চলছে। তবে এদের সাথে দামদর নিয়ে এখনও যাত্রীদের মাঝে মাঝে ঝামেলার কথা শোনা  যায়।

বৃদ্ধাশ্রম জনপ্রিয় হয়ে উঠছে
বুড়ো মা-বাবার দায়িত্ব পুণ্য হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশীদের মধ্যে এখনও যে  পরিবারতন্ত্রের সংস্কৃতি রয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে কলকাতাবাসী। কলকাতার বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ্যে বৃদ্ধাশ্রমে থাকার বিজ্ঞাপনগুলো দেখলেই বোঝা যায়, বৃদ্ধাশ্রম বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ব্যারাকপুর ও শ্যামনগরে দেবাঙ্গ বৃদ্ধাবাস, দমদমে স্বপ্ননীড়, গড়িয়ায় বৃদ্ধাশ্রম, হাওড়া ও অশোকনগরে স্বপ্নদ্বীপ এসব বৃদ্ধাশ্রমের বিজ্ঞাপনগুলো সব পত্রিকায়ই কমবেশি দেখা যায়। অঞ্জলি নামে একজন কর্মজীবী জানালেন, এ শহরে শুধু ছেলে-মেয়েদের ব্যর্থতার কারণেই বৃদ্ধাশ্রমগুলোর ব্যবসা বাড়েনি, বরং অনেক বৃদ্ধ বাবা-মা নিজেরাই শেষ জীবনটা এভাবে কাটাতে চান। একজন জানালেন, মাত্র ৩ থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যেই বৃদ্ধদের এসব ওল্ডহোমে রাখা হয়। এছাড়া প্রবীণদের জন্য আনন্দময় পরিবেশে বিভিন্ন পরিষেবাসহ আবাসিক প্রকল্পে মাসিক ভিত্তিতে রাখারও ব্যবস্থা করেছে কোনো কোনো কোম্পনি।

রিকশাচালকদের মোবাইল ফোন
কলকাতার অধিকাংশ রিকশাচালক এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। অনেকের নির্দিষ্ট ক্লায়েন্টও রয়েছে, যারা প্রয়োজনে মোবাইলে তাদের ডেকে নিতে পারেন। রিকশাচালক সুমন্ত মিস্ত্রি জানালেন, তার অবশ্য রিকশা চালানোর পাশাপাশি লরির ব্যবসা আছে। বাড়ি বাড়ি বিশুদ্ধ পানি সাপ্লাই দেন তিনি। একজন জানালেন, আমাদের লক্ষ্য হলো মাল্টিপারপাস ইনকাম। প্রতিদিন দুই শিফট রিকশা চালিয়ে ৪০০-৫০০ রুপি পাই। মোবাইল ফ্লেক্সিলোডের দোকানে বসি রাতে। বিগ বাস্কেটে (হোম সাপ্লাই) মালও সাপ্লাই দিই। তাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করাটা খুবই মামুলি ঘটনা তাদের কাছে।

Disconnect