ফনেটিক ইউনিজয়
চীনের বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা

চীনে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়না (সিপিসি)সহ আরও আটটি রাজনৈতিক দল রয়েছে। এই আটটি দল গঠিত হয়েছিল ১৯৪৯ সালে গণচীন প্রতিষ্ঠার আগে। সংগঠন হিসাবে দলগুলো স্বাধীন এবং তারা চীনের সংবিধানের অধীনে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, সাংগঠনিক স্বাতন্ত্র্য ও আইনগত সমতা উপভোগ করে থাকে। দলগুলো চীনা বিপ্লবের সময় কুওমিনটাং শাসনের অবসান ঘটাতে সিপিসি’কে সমর্থন করেছিল। এই আটটি দল হচ্ছে:
কুওমিনটাংয়ের চীনা বিপ্লবী কমিটি (চায়না রেভ্যুলুশনারি কমিটি অফ দ্য কুওমিনটাং)- ১৯৪৮ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার সময় এই দলটির মূল সদস্যরা ছিলেন কুওমিনটাং দলের গণতন্ত্রপন্থী সাবেক সভ্য ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিবর্গ।
চীনা গণতান্ত্রিক লীগ (চায়না ডেমোক্রেটিক লীগ) গঠিত হয়েছিল ১৯৩৯ সালে। প্রতিষ্ঠার সময়ে দলটির নাম ছিল ভিন্ন; বর্তমান নামটি গ্রহণ করা হয় ১৯৪৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সে সময়ে এটি মধ্যপন্থা ও গণতন্ত্রের সমর্থক বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শক্তির সম্মিলিত রাজনৈতিক সংগঠন ছিল।
চীনা গণতান্ত্রিক জাতীয় বিনির্মাণ সমিতি (চায়না ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৪৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর। প্রতিষ্ঠার সময়ে দলটির অবস্থান ছিল নাগরিকদের মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা, জাতীয় শিল্প-বাণিজ্যের উন্নয়ন ও সুরক্ষা করা এবং কুওমিনটাং দলের একনায়কত্ববাদী শাসনের বিরোধিতা করা।
গণতন্ত্র প্রসারের জন্য চীনা সমিতি (চায়না অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রমোটিং ডেমোক্রেসি) নামের সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৪৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর। দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মূলত গণতন্ত্র প্রসার এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার সংস্কারের জন্য অবস্থানগ্রহণকারী সাংহাইয়ে শিক্ষা ও প্রকাশনার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং শিল্প ও বাণিজ্যে নিয়োজিত দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে। এই দলটি জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়া এবং একটি ঐক্যবদ্ধ ও সাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য কুওমিনটাং দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল।
চীনের কৃষক-শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক দল (চায়নিজ পিজেন্টস’ অ্যান্ড ওয়ার্কার্স’ ডেমোক্রেটিক পার্টি) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৩০ সালের আগস্ট মাসে; যার মূল রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল কুওমিনটাং দলের একনায়কত্ববাদী শাসনের বিরোধিতা এবং জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। দলটির বর্তমান কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বকে গ্রহণ; বহুদলীয় সহযোগিতা এবং শলাপরামর্শ প্রক্রিয়ার প্রতি নিবেদিত থাকা, গণতান্ত্রিকতার চর্চা এবং দলটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের অধিকার ও স্বার্থসমূহকে রক্ষা করা।
চীনা ঝি গং ডাং পার্টি (চায়না ঝি গং ডাং) উত্তর আমেরিকায় বসবাসকারী প্রবাসী চীনারা সানফ্রান্সিসস্কো শহরে দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৯২৫ সালের অক্টোবর মাসে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটি প্রধানত গঠিত হয়েছিল দেশে ফেরত আসা মধ্য ও উচ্চস্তরের চীনা নাগরিক ও তাদের আত্মীয়পরিজনদের নিয়ে। তাদের নীতি ছিল সিপিসি এবং চীনা সরকারকে সহায়তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উন্নয়ন ও সংহতকরণ, দলটির সদস্য ও দেশে ফিরে আসা প্রবাসী ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের অধিকার ও স্বার্থসমূহকে রক্ষা, তাদের অভিমত ও দাবিদাওয়ার প্রতিফলন ঘটানো এবং গণতান্ত্রিকতার অনুশীলন করা।
জিউসান সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৪৬ সালের মে মাসে। দলটির রাজনৈতিক অবস্থান ছিল গণতন্ত্র ও বিজ্ঞানের ধারাকে এগিয়ে নেয়া, গৃহযুদ্ধের বিরোধিতা এবং গণতান্ত্রিক নীতিসমূহের অনুশীলন করা। দলটির বর্তমান কর্মসূচি সেই সাংগঠনিক ধারাই বজায় রেখেছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পর্কিত ক্ষেত্রের মধ্য ও উচ্চস্তরের বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে দলটির সদস্যম-লী গঠিত।
তাইওয়ানের গণতান্ত্রিক স্ব-শাসন লীগ (তাইওয়ান ডেমোক্রেটিক সেল্ফ-গভর্মেন্ট লীগ) ১৯৪৭ সালের ১২ নভেম্বর হংকংয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠালগ্নে দলটি ছিল তাইওয়ানের অধিবাসীদের এবং এটি তাইওয়ান প্রদেশের বাইরে প্রতিষ্ঠিত ও সক্রিয় ছিল। দলটির দাবি ছিল কুওমিনটাং শাসন থেকে মুক্তি; গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং আঞ্চলিক স্ব-শাসন। ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে দলটি তার প্রধান কার্যালয় হংকং থেকে সরিয়ে বেইজিংয়ে নিয়ে আসে।
দলটির বর্তমান রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রয়েছে দেশপ্রেম ও সমাজতন্ত্র, লীগের অন্যান্য সদস্য এবং তাইওয়ানের সহমর্মী সাথীদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়া; সংস্কারকে দ্রুততর ও উন্মুুক্ত করা, সমাজতান্ত্রিক আধুনিকায়ন উদ্যোগের জন্য দৃঢ়তার সাথে সচেষ্ট থাকা; স্থিতিশীলতা ও একতাকে রক্ষা, সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র ও আইনিব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন; মাতৃভূমিক পুনঃএকত্রীকরণ এবং ‘একদেশ, দুই ব্যবস্থা’র বাস্তবায়ন। মূল ভূখ-ের বড় ও মাঝারি আকারের শহরগুলোতে বসবাসকারী তাইওয়ানের উচ্চস্তরের সহানুভূতিশীল ও প্রতিনিধিরা এই সংগঠনটির অধিকাংশ সদস্য।
চীনে সিপিসি’র নেতৃত্বে বহুদলীয় সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক পরামর্শ প্রক্রিয়া রয়েছে। নেতৃত্বাধীনের পূর্বশর্ত মেনে নেবার মধ্য দিয়ে আটটি রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় বিষয়াদির ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আলোচনায়     সিপিসি’র সহযোগিতায় অংশগ্রহণ করে থাকে। রাজনৈতিক ব্যবস্থাটি সিপিসি’র সাথে সহযোগিতা ও পরামর্শমূলক। সিপিসি ও অন্যান্য দলের সাথে সহযোগিতামূলক সম্পর্কটি ‘দীর্ঘস্থায়ী সহাবস্থান এবং পারস্পরিক তত্ত্বাবধান, পরস্পরে সাথে পূর্ণ বিশ্বস্ততা নিয়ে লেনদেন ও জাতীয় সুসময় ও দুঃসময়কে সমভাবে বহন করার নীতির ভিত্তিতে’ প্রতিষ্ঠিত।
রাজনৈতিক পরামর্শর অর্থ হলো সিপিসি’র নেতৃত্বে সকল দল, গণসংগঠন এবং সর্বক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা দেশের বুনিয়াদি নীতিসমূহ এবং রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক ও সংস্কৃতিবিষয়ক ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে পরামর্শে অংশ নেয় এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় যোগ দিয়ে থাকে।
রাজনৈতিক পরামর্শ কর্মটির রূপায়ণ ঘটে চীনা জনগণের রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের             (সিপিপিসিসি) মাধ্যমে। অ-কমিউনিস্ট দলগুলোর সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা, আইন ও বিধিবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নবিষয়ক আলোচনায় অংশ নিয়ে থাকেন; তারা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব বাছাই করার ক্ষেত্রে এবং রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়েও পরামর্শে অংশ নেন। দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিষয়ের মৌলিক নীতিমালা ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবার আগে তা নিয়ে পরামর্শ করে থাকেন এবং গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা করেন।
এছাড়াও সিপিসি’র নেতৃবৃন্দ সাধারণত বছরে একবার অন্যান্য দলের নেতা এবং রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্ট নন এমন প্রতিনিধিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বদের সভাতে আমন্ত্রণ জানান। এমন সভায় সিপিসি’র নেতৃবৃন্দ তাদের কথা শোনেন এবং বড় বড় নীতিমালা ও মৌলনীতি বিষয়ে তাদের অভিমত আহ্বান করেন।  সিপিসি’র নেতৃবৃন্দ অন্যান্য দলের নেতাদের এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্ট নন এমন ব্যক্তিত্বদের ছোটো আকারের সভায় আমন্ত্রণ জানান, যেখানে তারা প্রয়োজন দেখা দিলেই পরস্পরের জন্য সাধারণভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে মতবিনিময় করে থাকেন।
এছাড়াও দলগুলোকে দ্বিমাসিক ভিত্তিতে সিপিসি নেতৃবৃন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে অন্যান্য দলের সদস্য এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্ট নন এমন প্রতিনিধিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিত্বরাও উপস্থিত থাকেন। এসব সভায় সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটি অংশগ্রহণকারীদেরকে প্রধান ঘটনাবলি সম্পর্কে অবহিত করেন, মতবিনিময় করেন, গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি বিলি করেন, অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও পরামর্শ শোনেন অথবা সুনির্দিষ্ট বিষয়সমূহের উপর আলোচনা পরিচালনা করেন। কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে দ্বিমাসিক সভার মধ্যবর্তী সময়েও আলাদা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অ-কমিউনিস্ট দলের নেতা এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্ট নন এমন প্রতিনিধিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিত্বরা তাদের প্রয়োজনমাফিক যেকোনো সময় রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নীতি বা সুনির্দিষ্ট ইস্যু বিষয়ে সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তাদের লিখিত পরামর্শ প্রদান করতে পারেন অথবা তারা সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করে মতবিনিময় করতে পারেন। এই আট দলের নেতাদের সিপিসি’র তত্ত্বাবধান করার বিধানও রয়েছে। এমন গণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধানের অর্থ হলো, বহুদলীয় সহযোগিতা ও রাজনৈতিক পরামর্শ কাঠামোর মধ্যে অ-কমিউনিস্ট দলগুলো সিপিসি এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারী অঙ্গগুলোর উপর তত্ত্বাবধান চর্চা করতে পারে।
তত্ত্বাবধানের কাজগুলো নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে পারে: চীনা জনগণের রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনে (সিপিপিসিসি) সিপিসি’র কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে মতামত, পরামর্শ এবং সমালোচনা প্রদান করে; রাষ্ট্রের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয় সম্পর্কে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের পরামর্শ ও সমালোচনা তুলে ধরে; জাতীয় গণকংগ্রেসের (এনপিসি) অ-কমিউনিস্ট দলগুলোর ডেপুটি এবং চীনা জনগণের রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলনের অ-কমিউনিস্ট সদস্যরা প্রস্তাব, তদন্ত প্রতিবেদন ও বিল উপস্থাপন করে তত্ত্বাবধানের দায়িত্বটি পালন করতে পারেন; এবং অ-কমিউনিস্ট দলের সদস্যরা বিশেষ তত্ত্বাবধায়ক, পরিদর্শক, নিরীক্ষক এবং সরকারের শিক্ষা-তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে ভূমিক গ্রহণের মাধ্যমে তাদের তত্ত্বাবধানমূলক দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
মোট নয়টি রাজনৈতিক দল নিয়ে চীনে পরামর্শ পরিচালনার আরেকটি অনন্য মঞ্চ রয়েছে, যার নাম চীনা জনগণের রাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলন (সিপিপিসিসি)। বিস্তৃত প্রতিনিধিত্ব নিয়ে যুক্তফ্রন্টের এই সংগঠনটি গঠিত। সিপিসি’র নেতৃত্বে বহুদলীয় সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক শলাপরামর্শ পরিচালনার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সিপিপিসিসি’র চারিত্র্যকে সমর্থনকারী সকল রাজনৈতিক দল এবং গণসংগঠন এর জাতীয় বা স্থানীয় কমিটিগুলোতে অংশ নিতে পারে; আলোচনার ভিত্তিতে সম্মতি প্রদানের পর। সিপিসি, অন্যান্য রাজনৈতিক দল, গণসংগঠন এবং সকল ক্ষেত্রের বিশিষ্ট জনব্যক্তিত্বদের প্রতিনিধি; তাইওয়ান, হংকং ও ম্যাকাও’র সহমর্মী অধিবাসীসহ প্রবাস থেকে ফেরত আসা চীনা নাগরিক এবং বিশেষভাবে আমন্ত্রিত মানুষদের নিয়ে এই মঞ্চটি গঠিত হয়েছে। সিপিপিসিসি’র মূল কাজগুলো হচ্ছে রাজনৈতিক শলাপরামর্শ ও গণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধানের কাজ পরিচালনা করা, বিভিন্ন অ-কমিউনিস্ট রাজনৈতিক দল, গণসংগঠন এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের ব্যক্তিত্বদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলো আলোচনা ও তা পরিচালনার জন্য সংগঠিত করা।
সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্ত প্রদেশ, স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, পৌরসভাসমূহ; যেসব শহর জেলা, কাউন্টি, স্বায়ত্তশাসিত কাউন্টিতে বিভাজিত; এবং জেলায় বিভাজিত নয় এমন শহর; শহরের অধীনস্ত জেলায় সিপিপিসিসি গঠনের শর্ত রয়েছে, সেখানে স্থানীয় স্তরের উপযুক্ত সিপিপিসিসি’র সংগঠন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বর্তমানে বিভিন্ন স্থানীয় স্তরে ৩,০০০ সিপিপিসিসি কমিটি রয়েছে এবং এসব কমিটিতে পাঁচ লক্ষাধিক সদস্য রয়েছেন। অংশগ্রহণকারী ইউনিট ও ব্যক্তিদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন করা। মতভিন্নতার ক্ষেত্রে, তারা কঠোরভাবে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করবেন এই পূর্বশর্ত মেনে ভিন্নমত ব্যক্ত করতে পারবেন।
সিপিপিসিসি’র চারিত্র্যকে গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন করা বা স্থায়ী কমিটির বর্ধিত সভার সিদ্ধান্তকে অমান্য করার জন্য অংশগ্রহণকারী ইউনিটসমূহ ও ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে জাতীয় কমিটি বা স্থানীয় কমিটিগুলোর স্থায়ী কমিটি ব্যবস্থা নেবে; শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে অভিযুক্তদের সতর্ক করে দেয়াসহ সিপিপিসিসি’তে তাদের যোগ দেয়ার  যোগ্যতা কেড়ে নেয়া।
বিপ্লবের এবং অর্থনীতির সমাজতান্ত্রিক ধারা প্রবর্তনের জমানা থেকে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটি সাফল্যের সাথে কাজ করে আসছে।
লেখকের ই-মেইল : mssiddiqui2035@gmail.com

Disconnect