ফনেটিক ইউনিজয়
আসছে দুদকের বিশেষ অভিযান
অভিজিত বনিক

সারা দেশে ঘাপটি মেরে থাকা দুর্নীতিবাজদের ধরতে এবার বিশেষ অভিযান শুরু করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ জন্য কমিশনের উদ্যাগে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যাপক প্রস্তুতি। যদিও দুদক কর্মকর্তাদের দাবি, এ উদ্যোগ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের রুটিন প্রস্তুতি। তবে দুদকের একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছে, নতুন বছরে কমিশনকে আরও বেশি গতিশীল করতে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দুর্নীতির বিষয়ে দুদকে কোনো অভিযোগ এলে তা দ্রুততার সঙ্গে তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির তথ্য তাৎক্ষণিক জানাতে দুদক হটলাইন (১০৬) নম্বরকে ডিজিটাল করা হচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে জনবল ও যানবাহন। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
দুদকের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে হেভিওয়েটদের নাম এলে তাঁরা কেউ যেন অভিযানে ছাড় না পান, এ জন্য সারা দেশে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। জেলায় জেলায় দুদকের উদ্যোগে দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হচ্ছে। যে কর্মকর্তারা তালিকা করছেন, তাঁদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে দুদক কর্মকর্তারা জানান।
সূত্র আরও জানিয়েছে, সারা দেশে প্রশাসনসহ সর্বত্র দুর্নীতির যে মাত্রা বিরাজ করছে, তা নিরাময় ও এর লাগাম টেনে ধরতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবুজ সংকেত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দুদককে স্বাধীন থেকে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে অনুরোধ করেছেন। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন জোট কিংবা দলের কোনো হেভিওয়েট নেতার নাম এলেও তাঁদের ব্যাপারে কোনো তদবিরে কান না দিয়ে গ্রেপ্তার করতে অনুরোধ করেছেন। দেশের দুর্নীতি দূর করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবুজ সংকেত পাওয়ার পর দুদক সারা দেশে দুর্নীতিবাজদের ধরতে চলমান অভিযান আরও বেশি জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সরকারি দল ও  বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের নামে যেসব দুর্নীতির মামলা রয়েছে, সেগুলোর সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের দুটি মামলার রায় আসতে পারে কয়েক মাসের মধ্যে। এমনটি ধারণা করছেন খোদ বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সিনিয়র সদস্য সাম্প্রতিক দেশকালকে বলেন, ‘বেগম জিয়ার সাজা হবে, এটা বেগম জিয়া নিজেও জানেন।’ বিএনপি নেত্রী ও তাঁর দলের সিনিয়র নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনের বাইরে রাখতে সরকার আদালতে প্রভাব সৃষ্টি করছে।
তবে এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. নাসিম সাম্প্রতিক দেশকালকে বলেন, আইন অনুযায়ী বিচার হচ্ছে বেগম জিয়ার। খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে বিচার বিভাগে সরকার হস্তক্ষেপ করেনি, আর করবেও না।
এদিকে দুর্নীতিবাজদের ধরতে দুদককে দিনে-রাতে যেকোনো সময় অভিযান চালাতে হয়। এ জন্য দুদকের কর্মকর্তারা সব সময় পুলিশের সাহায্য নিয়ে থাকেন। অনেক সময় এ কাজে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতার কারণে গ্রেপ্তার অভিযান ব্যর্থ হয়। এসব বিবেচনা করে দুদকের জন্য পৃথক আর্মড ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এর ফলে বিশেষ অভিযানে গতি আসবে বলে মনে করেন দুদক কর্মকর্তারা।
সূত্র জানিয়েছে, বিরোধী রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন জোটের অনেক নেতার দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তালিকা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলাভিত্তিক তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, দুদকের বিশেষ অভিযানে পাড়া-মহল্লার দুর্নীতিবাজদেরও ছাড় না দিয়ে বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কোনোভাবেই যেন কোনো দুর্নীতিবাজ সরকারের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সরকারও সবুজ সংকেত দিয়েছে।
দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তারে দুদকের নিজস্ব সশস্ত্র ইউনিটকে আরও দক্ষ করা হচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। দুদক ২০ সদস্যের এ সশস্ত্র টিমের পাশাপাশি পুলিশ, র‌্যাবের সহযোগিতা নিয়ে সারা দেশে দুর্নীতিবাজদের আস্তানায় হানা দেবে। এ ক্ষেত্রে  সারা দেশে অভিযান পরিচালনা করার সময় দুদকের শীর্ষ কর্মকর্তারা সঙ্গে থাকবেন। বিশেষ তালিকা করার পর অভিযান চলবে ব্যাপকভাবে।
এ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাম্প্রতিক দেশকালকে জানান, ‘অভিযান চলছে। অভিযান চলবে। চাইলেও একসঙ্গে সব দুর্নীতিবাজকে ধরা সম্ভব নয়। এ জন্য জনবল আমাদের নেই। আমাদের কাছে অভিযোগ আসামাত্রই অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে দুদকের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলমান। উপযুক্ত তদন্ত ও প্রমাণ সাপেক্ষে যার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যাবে, তাকে আইনের আওতায় আনব। কোনো দুর্নীতবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ জন্য দুদক গবেষণা করে, নিখুঁত তদন্ত করে অভিযোগে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’

Disconnect