ফনেটিক ইউনিজয়
পহেলা বৈশাখ উদযাপনে নেই জনসাধারণের সঙ্গে মানসিক সম্পৃক্তি
আবুল কাসেম ফজলুল হক

বাংলা সাহিত্যের অনেক গবেষকের মতে, অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত পালদের রাজত্বকালে নববর্ষ পালনের কোনো ব্যাপার ছিল না, পালরা ছিল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। এরপর সেনরা এ অঞ্চলে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর সংস্কৃতকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং পূজা উপলক্ষে মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালানোসহ এসব কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করেন। কাজেই সেনরা যেহেতু বহিরাগত ছিল, তাই তারা বলতে চায়, এ সংস্কৃতি বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি নয়। ইতিহাসের ক্ষেত্রে বিষয়টা হলো এ রকম যে, বৌদ্ধ ধর্ম কিন্তু উত্তর ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। সমাজের সাধারণ মানুষ যারা নিপীড়িত, নির্যাতিত ও জাতিভেদ প্রথায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত ছিল, তারা ব্যাপকভাবে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন। আর বৌদ্ধ ধর্মটাই ব্রাহ্মণ্য থেকে বিদ্রোহ করে আত্মপ্রকাশ করেছিল। ব্রাহ্মণ্য ধর্মের যারা অভিজাত শ্রেণী ছিল, তাদের সঙ্গে লড়াই করে বৌদ্ধ ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, বিকশিত হয়েছিল এবং টিকে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ভারতবর্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা টিকতে পারেনি, আবার ব্রাহ্মণ্যবাদীরা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যে জিনিসটি আমরা দেখি সেটা হচ্ছে, ব্রাহ্মণ্য ধর্ম আর্যদের প্রভাবে প্রথম পর্যায়ে এখানে বিস্তার লাভ করেছে বটে, কিন্তু খুব সুদৃঢ় রূপ লাভ করেনি। তার পরই বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপক বিস্তারের ইতিহাস পাওয়া যায়। বাংলার ইতিহাস পালদের সময় থেকে ধারাবাহিকভাবে পাওয়া যায়, তার আগে খুব সামান্যই পাওয়া গেছে। বৌদ্ধদের মধ্যে যেহেতু জাতিভেদ প্রথাটা ছিল না, সেহেতু পালদের সময়ে ছিল কিনা তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। এসব বিষয় হয়তো আরও পরবর্তীতে ব্যাপ্তি লাভ করেছে। এগুলো ব্যাপ্তি লাভ করেছে সেন রাজাদের সময়ে কিংবা আরও পরে শ্রী চৈতন্য দেব আত্মপ্রকাশ করে এসবের প্রচলন করেন এবং তিনি ব্যাপকভাবে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের সংস্কার করেন। তিনি জাতিভেদ প্রথা তুলে দেন। তাছাড়া পূজা-পার্বণ এসবও তিনি তুলে দেন। এক হরিনাম সংকীর্তনকে গুরুত্ব দেন এবং জাতিভেদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তো এসবের মধ্য দিয়ে আমাদের দেশের স্থানীয় যে সংস্কৃতি ছিল বা সংস্কার ছিল, তা বৈষ্ণব ধর্মের মধ্যে রূপলাভ করে। বৈষ্ণব ধর্ম তৎকালীন পটভূমিতে অনেক বেশি প্রগতিশীল ছিল এবং বৈষ্ণব ধর্ম তৎকালীন সময়ে ইসলামের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত ছিল। শ্রী চৈতন্য ইসলাম ও মুসলমানদের লক্ষ্য করেই হিন্দু ধর্মের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন।
এখানে পহেলা বৈশাখে সেন রাজাদের সময় নানা রকম পার্বণ বা প্রথা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একথা ঠিক। সেনরা ব্রাহ্মণ্যবাদী ছিলেন এবং জাতিভেদ প্রথা থেকে শুরু করে পরবর্তীকালে যে হিন্দু ধর্ম রূপ লাভ করেছে, তার অনেক কিছুই সেনদের আমলে প্রবর্তিত হয়। যদিও বাংলার বিভিন্ন স্থানে সেন রাজরা খুব বেশি দিন রাজত্ব করেননি। খুব বেশি হলে ৭০-৭৫ বছর রাজত্ব করেছেন। আর ঠিক ওই সময়টাতে আমাদের দেশে ব্রাহ্মণ্য ধর্ম আসল রূপ লাভ করে। তখন পালদের ওপর, বৌদ্ধদের ওপর ব্রাহ্মণ্যবাদীরা কঠোর নির্যাতন চালিয়েছিল। বৌদ্ধদের সাথে ব্রাহ্মণ্যবাদীদের রায়ট হয়েছে, লুটতরাজ হয়েছে। সে সময় বৌদ্ধরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ইসলাম ধর্মে আকৃষ্ট হয়।
আমাদের সামনে যদি গোটা ইতিহাস থাকে পাল রাজাদের আমল, বৌদ্ধদের সময়- সেটাই তো বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহাসিক যুগের ভিত্তি। তারপর সেন রাজাদের সময় ব্রাহ্মণ্য ধর্মের রূপ পাই। তারপর তুর্কি, পাঠান, মোগল মুসলিম শাসন আমল। সে সময় অনেক কিছু পরিবর্তিত হয়েছে। এরপর শ্রী চৈতন্যের নেতৃত্বে হিন্দু ধর্মের ব্যাপক সংস্কার করা হয়। তখনকার হিন্দু ধর্মের উচ্চশ্রেণির লোকেরা উপলব্ধি করেন যে, সবাই তো মুসলমান হয়ে যাবে। আর তা থেকেই ব্রাহ্মণ্য ধর্মকে বা হিন্দু সমাজকে রক্ষার জন্যই সমাজতাত্ত্বিকভাবে শ্রী চৈতন্য ও বৈষ্ণব ধর্মের আবির্ভাব বা আত্মপ্রকাশ ঘটে, এটা বলা যায়। ঐতিহাসিক দিক থেকে ধারাবাহিকভাবে আমাদের সংস্কৃতির বিকাশ দেখা খুব দরকার। তাতে ঐতিহাসিকভাবে প্রথমে আমরা পাই পালদের ও বৌদ্ধদের কথা। বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদকে আমরা পাই। আর এটি বৌদ্ধদের সৃষ্টি। এক্ষেত্রে বাঙালি বৌদ্ধদের ইতিহাস আমাদের বোঝা দরকার। তারপর ব্রাহ্মণ্য ধর্ম কীভাবে সুদৃঢ় রূপ লাভ করল, আমাদের সভ্যতার বিকাশে তার ঐতিহাসিক ভূমিকা কী, এখানে মুসলিম রাজত্ব প্রতিষ্ঠা ও তার প্রভাব কী হয়েছে এবং সর্বোপরি ইসলামের বিস্তার ও তার মধ্যে দিয়ে কীভাবে সংস্কৃতি বদলে গেছে, মুসলমান সমাজ নতুনভাবে গড়ে উঠেছে, হিন্দু সমাজও তো আগের মতো থাকেনি, বৌদ্ধদের অনেকেই ইসলামে দীক্ষিত হয়েছে- এ পরিবর্তনগুলো কীভাবে হয়েছে, আমাদের সংস্কৃতিকে বোঝার জন্য এটা খুব দরকার। তারপর ইংরেজ শাসন এবং সে সময়ে ইউরোপীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান ও পাশ্চাত্য শিক্ষার সঙ্গে আমাদের পূর্বপুরুষেরা কীভাবে পরিচিত হয়েছে এবং তার ফলে কি হিন্দু সমাজ বা মুসলিম সমাজের জীবনযাপন, দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাভাবনা, ধর্মবিশ্বাসের পরিবর্তন ঘটেছে- এ ব্যাপারগুলো পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে আমাদের বোঝার চেষ্টা করা উচিত। আর এমনটা হলে, আমাদের চিন্তাভাবনা, আমাদের যে সামাজিক বিরোধ বা সামাজিক বিভেদ ও অনৈক্য- এগুলোর অনেক কিছু কেটে যেত।
এটা স্বাভাবিক যে, ধর্মের ভিন্নতার জন্য সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও ভিন্নতা দেখা যায়। বাঙালি হিন্দুদের সংস্কার, বিশ্বাস, জীবনযাত্রা ও ধর্মের সঙ্গে বাঙালি মুসলমানদের ক্ষেত্রে এগুলোর বেশকিছু পার্থক্য সুস্পষ্ট। আর এটা খুবই স্বাভাবিক যে, মুসলমানদের অনুষ্ঠান পালনে কিছুটা ভিন্নতা থাকবে। আর এ ভিন্নতা জোর করে মুছে ফেলার চিন্তা একটা মস্তবড় ভুল। আবারও বলছি, এ ভিন্নতা থাকবেই এবং এসব ভিন্নতা নিয়ে এগোতে এগোতে যখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিস্তারের সাথে সাথে নতুন নতুন চিন্তা বা বিষয় সামনে আসবে, প্রকৃতিরও পরিবর্তন হবে, তখন ভবিষ্যৎটা অন্য রকম হবে। তবে তখনও ব্যবধান ও পার্থক্য থাকবে। কিন্তু সেই পার্থক্যের রূপ এখনকার চেয়ে ভিন্ন হবে।
হিজরি সনের সাথে সম্পর্ক রেখে বিভিন্ন প্রয়োজনে কিছু পরিবর্তন করে মোগল সম্রাট আকবর তার শাসন আমলে বাংলা সন প্রবর্তন করেছিলেন। আমাদের দেশে এই সন ফসলি সন হিসেবে পরিচিত ছিল। গ্রামাঞ্চলে কৃষকরা কোন ফসল কখন বুনবে, সে কাজের জন্য প্রথমে বাংলা সন ব্যবহৃত হতো। আর সেই কাজে বাংলা সন ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এখন বাংলা সন নিয়ে উৎসবের যে ব্যাপার, সেটা আমাদের অনুসন্ধান করে দেখা দরকার। আমি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লক্ষ করেছি, শহরগুলোয় বাংলা নববর্ষের উৎসব ছিল না। গ্রামাঞ্চলের কোথাও কোথাও পহেলা বৈশাখে মেলা হয়েছে। দেশজুড়ে সব অঞ্চলে বর্তমানে পহেলা বৈশাখে বা নববর্ষের মেলা হয়েছে, এমন প্রমাণ আমি পাইনি। বাংলা নববর্ষের এ মেলায় সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার ছিল, ছোটরা নানা রকম খেলনা মেলা থেকে কিনত, মিষ্টিদ্রব্য যেমন জিলাপি বা অন্যান্য খাবার জিনিস কিনত, আবার কোনো কোনো জায়গায় মেলাকে কেন্দ্র করে মেলার মধ্যে অথবা চারপাশে জুয়া খেলা, তাড়ি খাওয়া, নানা রকম গানের আসর বসা ইত্যাদি ছিল। আমিও কোথাও কোথাও এ ধরনের চিত্র দেখেছি, বিশেষ করে পাকিস্তান আমলে। শহরের লোকেরা বিশেষ করে ঢাকা শহরের লোকেরা বাংলা নববর্ষের মেলা উদযাপনে বা কোনো অনুষ্ঠান করায় উৎসাহী ছিল না। আমি আমার নিজ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এটা দেখেছি, ১৯৫০-এর দশকে শহরের লোকেরা শহুরে নাগরিক হয়ে ওঠার প্রাণপণ চেষ্টা করেছে। তো সেই অবস্থায় পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষের যে উৎসব তাকে গ্রাম্য উৎসব বা গ্রাম্যতাই মনে করা হতো।
আরেকটা বিষয় হলো, পঞ্চাশের দশকে এমনকি ষাটের দশকের প্রথম দিকেও পহেলা বৈশাখের উৎসব বা মেলা ঢাকা শহরে উদযাপিত হয়নি। আমার ধারণা, অন্যান্য শহরেও হয়নি। কোনো পরিবার পারিবারিকভাবে যে এ অনুষ্ঠান করেছে, এমন প্রমাণও নেই। ষাটের দশকের শেষ দিক থেকে এ পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠান শুরু হয়। আমার মনে পড়ে, ১৯৬৯-এর অভ্যুত্থানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে অনুষ্ঠান করেছিল এবং সে অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মাদ এনামুল হক বাংলা নববর্ষ উদযাপন বিষয়ে একটি প্রবন্ধ পাঠ করেছিলেন। তিনি তার প্রবন্ধে বলতে চেয়েছিলেন, পাকিস্তান যে জাতীয়তাবাদ নিয়ে দাঁড়াতে চাইছে, সেটি ঠিক নয়। পূর্ব পাকিস্তানের সর্বাধিক স্বায়ত্তশাসনের ব্যবস্থা করে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে পুনর্গঠিত করতে হবে। আর পাকিস্তানের মধ্যে বাঙালি সংস্কৃতি থাকবে। তার এ বক্তব্য তখনকার পত্রপত্রিকায় খুব প্রচার লাভ করে। ঠিক একই সময় বা তার একটু আগেও হতে পারে ‘ছায়ানট’ পহেলা বৈশাখে রমনা বটমূলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তাদের সে অনুষ্ঠানে আলোচনা বা অন্য কিছু ছিল না, কেবলই গানের অনুষ্ঠান ছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল গানের মাধ্যমে মানুষের চিন্তা-চেতনাকে পরিশোধিত করা যায়, গানের মাধ্যমে জাতীয় চেতনা বিকশিত করা যায়। এনামূল হকের প্রবন্ধে যে ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির কথা বলা হয়েছে, এ ধরনের একটি জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ছায়ানট তার পর থেকে প্রতি বছর অনুষ্ঠান করতে থাকে। ঢাকা শহরে এভাবে পহেলা বৈশাখ আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হতে থাকে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান অনেক বেশি ব্যাপ্তি লাভ করে।
আরেকটা দিক হলো, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অল্প কিছুদিন পর পহেলা বৈশাখ শহরের বড় লোকদের বিলাসী বা ভোগবাদী ফ্যাশনে পরিণত হয়। এখন থেকে ২০-২৫ বছর আগে থেকে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে ১০০ টাকা, ২০০ টাকা দরে এক শানকি পান্তা কিনে খাচ্ছেন একশ্রেণির লোক, আবার কিছু লোক এসব পান্তা বিক্রি করছেন। এ ধরনের কিছু ফ্যাশনেবল ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় পহেলা বৈশাখে। শহরের বড় লোকদের ড্রয়িং রুমে দেখা যায় তালের পাখা, ধানের ছড়া, ছোট ঢেঁকি বা কুলা। অনুকরণীয় হিসেবে তারা এসব তাদের ড্রয়িং রুমে সাজিয়ে রাখছেন। এগুলো দিয়ে তারা বাঙালি সংস্কৃতির কথা বলতে চাইছেন। এসবের মধ্যে অনেক কিছুই খুব আন্তরিক কোনো বিষয় নয়, লোক দেখানো ব্যাপার, আবার অনেকগুলো বিলাসিতার ব্যাপার।
জনসাধারণের সঙ্গে মানসিক সম্পৃক্তি নিয়ে একটা জাতির জাতীয় সংস্কৃতি যেভাবে বিকশিত হওয়া দরকার বা করা দরকার, সে রকমটা হচ্ছে না। কিন্তু পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সুস্থ তেমন কিছু করা হচ্ছে না, এতে ফ্যাশনেবল বা দর্শনীয় নানা কিছু করার চেষ্টা হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের জাতীয় জীবন অনেক সমস্যায় আচ্ছন্ন। এসব সমস্যা থেকে মুক্তির চেতনা পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অভিব্যক্ত হওয়া উচিত। আমি এ রকমটি উপলব্ধি করি।
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর এ রকম ঘটনা কখনও কখনও ভীষণভাবে দেখা গেছে। বিশেষ করে ১৯৮০ দশকে মৌলবাদবিরোধী আন্দোলন যখন শুরু হয়, সে আন্দোলনে বিদেশী রেডিও বেশ উসকানিমূলক প্রচার চালায়। তাতে উৎসাহিত হয়ে এবং আরও নানা কারণে আমাদের দেশের কোনো কোনো মহল থেকে এ সিঁদুর দেয়া, মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালানো- এ ধরনের কিছু বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়। আর এসব আমাদের দেশে পুরনো কোনো কোনো ধর্মীয় ধারা। ইসলাম এ দেশে ব্যাপ্তি লাভের অনেক আগে থেকেই এসব ধারা এ দেশে ছিল। সেই জিনিসগুলো একসময় বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে বিলুপ্তই হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের মধ্যে এগুলো আদৌ ছিল না, এমনকি হিন্দু সমাজেও এগুলোর প্রচলন খুব কম ছিল। সেই জায়গায় পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে কোনো কোনো বছর আমি শুনেছি ‘হরে রাম হরে রাম’ বলা হচ্ছে। এ ধরনের কাজগুলো উসকানিমূলক। ধর্মনিরপেক্ষতার কথা যারা খুব জোর দিয়ে বলেন, তারা গণতন্ত্র বা অন্য কোনো রাজনৈতিক আদর্শকে বিকশিত না করে শুধু ধর্মীয় বিশ্বাস, ধর্মীয় সংস্কার, এমনকি সামগ্রিকভাবে ধর্মকে আক্রমণ করার একটা প্রবণতাই এমন একশ্রেণির বুদ্ধিজীবীর মধ্যে লক্ষ করা যাচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি হয় এবং মানুষের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করা হয়।

Disconnect