ফনেটিক ইউনিজয়
ধনিকগোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার বাজেট
হামিদ সরকার

দেশের মধ্যবিত্তশ্রেণিকে ভ্যাটের চাপের মধ্যে রেখে সরকার ধনিকগোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার বাজেট দিয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা। করপোরেট ট্যাক্স ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমিয়ে সেই সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এটা ব্যাংকিং খাতে নৈরাজ্য আরও বাড়াবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনী বছরে এটা সরকারের ‘রাজনৈতিক অর্থনীতির বাজেট’ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, একমাত্র ব্যাংকিং খাতের জন্যই কমানো হয়েছে, এটা কোনোভাবেই জনবান্ধব নয়। এর সঙ্গে শর্ত জুড়ে দেয়ার প্রয়োজন ছিল। এখাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় কমবে, খাতেরও কোনো উন্নতি হবে না। ব্যাংক মালিকরা যা চাইছেন, সেটাই পাচ্ছেন।
করমুক্ত আয়ের সীমা না বাড়িয়ে ভোটের আগে ভ্যাটের চাপে রাখা হচ্ছে দেশের নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষকে। প্রবৃদ্ধি বাড়ছে এটা ঠিক। প্রবৃদ্ধির সুবিধা গরিব মানুষ পাচ্ছে না। প্রবৃদ্ধি হলেও আয়বৈষম্যটা বাড়ছে। সরকারের পক্ষে এ বাজেট বাস্তবায়ন করা অবাস্তব। করপোরেট ট্যাক্স কমানোর কারণে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। ঝুঁকতে হবে সঞ্চয়পত্রের ওপর। নির্বাচনের পর যে সরকারই আসবে, তাকে এসআরও বা বিধিবদ্ধ প্রজ্ঞাপন দিয়ে করহার বাড়াতে হবে। আগামী অর্থবছরে সরকার ৭ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে প্রাক্কলন করেছে, তা অবাস্তব। বাস্তবায়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি না পাওয়ার কারণে ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে বাজেট বাস্তবায়ন হার ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে। বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন করা না গেলে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ‘একটা স্বপ্নমাত্র’ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ বাজেট থেকে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বিষয় হলো, বাজারমূল্য কেমন হবে। চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। চালের দাম যাতে বেশি নেমে না যায়, সেজন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে হয়তো উৎপাদকের কিছুটা উপকার হবে। কিন্তু যারা বাজার থেকে চাল কিনে খান, তাদের খুব বেশি সুবিধা হবে না। এ উদ্যোগের সঙ্গে ভোক্তা ও উৎপাদকের স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে। আবার উবার, পাঠাওয়ের মতো উঠতি ব্যবসায় করারোপ করা যুক্তিসঙ্গত হয়নি। যানজটের তীব্র সংকটে এ ধরনের রাইড শেয়ারিং ব্যবস্থা চালু হওয়ায় লোকজন উপকার পাচ্ছিল।
আগামী অর্থবছরে ৪২ হাজার কোটিরও বেশি টাকার ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্কের অতিরিক্ত বোঝা চাপছে জনগণের ওপর। বাজেটে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের মাধ্যমে আহরণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরে এ খাতের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৭ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮২ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে সম্পূরক শুল্ক থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রাও ব্যাপক হারে বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ খাত থেকে আগামী অর্থবছরে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে ১৪ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সম্পূরক শুল্ক থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে তা ১৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৪৮ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা। ফলে আগামী অর্থবছরে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আহরণের টার্গেট করা হয়েছে ৪১ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা।
বাজেট ডকুমেন্টে দেখা গেছে, চার অর্থবছরের ব্যবধানে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক থেকে রাজস্ব আয় বাড়ানো হয়েছে প্রায় আড়াই গুণ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ছিল ৪৫ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এ খাত থেকে রাজস্ব আহরণের প্রাক্কলন করা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। চার বছরের ব্যবধানে এ খাত থেকে রাজস্ব আয় বাড়ানো হয়েছে ৬৫ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। শতকরা হারে এ বৃদ্ধির হার ১৪৪ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সম্পূরক শুল্ক থেকে রাজস্ব আয় হয় ২১ হাজার ৮০ কোটি টাকা।
বাজেট সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বাজেটের প্রতিশ্রুতিগুলো রাজনৈতিক। অর্থনৈতিক বাস্তবতার সাথে এর দূরত্ব অনেক। দুর্বল অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর ঘোষিত হয়েছে বাজেট। ফলে এ বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়।’ তার মতে, ‘সংশোধিত বাজেটে অনেক কিছুই কমাতে হবে। দেশের অর্থনীতিতে প্রধান সমস্যা হলো, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। কিন্তু বিনিয়োগ বাড়াতে যে ধরনের সংস্কার ও উৎসাহমূলক পদক্ষেপ দরকার, এবারের বাজেটে তা অনুপস্থিতি রয়েছে। ফলে বিনিয়োগ বাড়বে বলে আমি মনে করি না। এছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন, আয়বৈষম্য কমানো হবে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। শুনেছি ব্যাংকের আমানতের ওপর করারোপ হচ্ছে, যা ব্যাংকিং খাতে প্রভাব ফেলবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাজেটের খারাপ দিক হলো, প্রতিবছরই মানুষকে দেখাতে হবে, অনেক বড় বাজেট দেয়া হলো। তাই উন্নয়ন বাজেট বিশাল আকারের হয়ে থাকে। কিন্তু বছর শেষে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রায় এ আকার কমানো হয়। এটি মোটেই যৌক্তিক নয়। বাজেটে রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু চলতি বছরের সংশোধিত বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। এটিকে কঠিন বললে উদার বিশ্লেষণ করা হবে। কেননা এটি একেবারেই অসম্ভব। সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।’
প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘আগামী অর্থবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই অর্জন করা সম্ভব হবে না। প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিনিয়োগ। সেটা কোনো লক্ষণ দেখছি না। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য যে ধরনের পরিবেশ ও অবকাঠামো দরকার, সেটা এখনও সৃষ্টি হয়নি। ফলে এটা এক স্বপ্নই মাত্র।’
সার্বিকভাবে বাজেটটি গতানুগতিক হয়েছে বলে মনে করছেন ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তার বিশ্লেষণ, ‘ব্যাংকের মুনাফার ওপর করপোরেট কর কমানোর কোনো অর্থনৈতিক যুক্তি নেই। এটি বড়লোকদের পক্ষে গেছে। ব্যাংকমালিকরা ধনী লোক, তাদের সুবিধা দেয়া হয়েছে। আবার বড়লোকদের বিপক্ষে গেছে, এমন উদ্যোগও আছে। যেমন দুটি গাড়ি থাকলে সারচার্জ দিতে হবে। কিন্তু এ সারচার্জ আদায়ের উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কেননা এখন গাড়ি থাকে কোম্পানি, স্ত্রী-সস্তানদের নামে।’
মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ১৩-১৪ শতাংশ হবে। রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি বড়জোর ১৬-১৭ শতাংশ হতে পারে। রাজস্ব প্রবৃদ্ধি কিছুতেই ৩০-৩২ শতাংশ হবে না। রাজস্ব খাতে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, তাতে মোটাদাগে রাজস্ব আয় কমতে পারে। ব্যাংকিং খাতে করপোরেট করহার কমানোর ফলে এ খাতে বড় অঙ্কের কর কমবে। আবার তামাক খাতে কর বাড়িয়ে তা পোষানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কতটা পোষানো সম্ভব হবে? আবার ভ্যাটেও রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্য অর্জন অনিশ্চিত। কেননা কিছু পণ্য ও সেবায় যেমন ভ্যাট বৃদ্ধি করা হয়েছে, আবার কিছু পণ্যে কমানো হয়েছে। একই অবস্থা শুল্ক খাতেও।
‘নবীন দেশের প্রবীণ বাজেট’ হিসেবে উল্লেখ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশ্লেষণ হলো, ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় চিড় ধরেছে। এটা আরও বাড়বে। ভ্যাটের চাপে থাকবে মধ্যম ও নিম্নমধ্যম আয়ের মানুষ। ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে, তা অর্জন করা কঠিন। এটা করতে হলে প্রয়োজন ব্যক্তিখাতের ১ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে মোট বিনিয়োগ প্রয়োজন ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার। আর তাতে পুঁজির উৎপাদনশীলতা কমে যাবে। আমরা বারবার বলেছি যে, বিড়াল বড় হতে পারে বা ছোট হতে পারে, কিন্তু তাকে ইঁদুর ধরতে হবে। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির হার উঁচু হতে পারে, নিচু হতে পারে।
কিন্তু প্রবৃদ্ধিতে গরিব মানুষের দারিদ্র্য বিমোচন হতে হবে, তাদের বেশি পেতে হবে। আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে পূর্ব-পশ্চিম ভাগ তৈরি হয়েছে। একদিকে সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকা, অন্যদিকে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী। একদিকে উন্নততর বাংলাদেশ, আরেকদিকে দরিদ্রতর বাংলাদেশ। আমরা দেখছি, সম্পদ, ভোগ এসব ক্ষেত্রে বৈষম্য বেড়েছে। বিশেষ করে আয়বৈষম্য বাড়ছে।
তিনি জানান, যারা সবচেয়ে গরিব, গত পাঁচ বছরে তাদের ৬০ শতাংশ আয় কমেছে। অন্যদিকে সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশ মানুষের ৫৭ দশমিক ৪ শতাংশ আয় বৃদ্ধি ঘটেছে। এখানে যার শ্রম ও উদ্যোগ আছে, তার তুলনায় যার পুঁজি আছে, তারা আয় করার বেশি সুযোগ পাচ্ছে। শ্রম ও উদ্যোগের তুলনায় পুঁজি ও সম্পদকে বেশি পুরস্কৃত করছেন। এটা মেধাভিত্তিক অর্থনীতির জন্য ভালো খবর বলে মনে হচ্ছে না। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে ধরা হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, এটি প্রকৃতপক্ষে ৪০ শতাংশ। রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে এটি একটি অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা। আয়করের চেয়ে ভ্যাটের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ার কারণে যাদের আয় কম, তাদের ওপর বেশি চাপ পড়বে। মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্তদের ওপর চাপ পড়বে বেশি, কিন্তু উচ্চবিত্তদের ওপর ততটা চাপ পড়বে না। বৃহৎ করদাতা ইউনিটির (এলটিইউ) লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে। আমাদের মনে হয়, ব্যাংকের করপোরেট কর কমানোর ফলে এলটিইউর লক্ষ্যমাত্রা কমেছে।
তিনি বলেন, ‘নীতিগতভাবে কালো টাকা সাদা করার সুবিধা দেয়ার বিরোধিতা করি। কারণ এতে কালো টাকা মূলধারায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। আবার ছোট ছোট ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে চাপ কমছে বলে মনে হচ্ছে না। ই-কর্মাস ও আইটি সেবার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট, বিকাশমান খাতটির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। উবার ও পাঠাওয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ভ্যাট শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের উপরে চলে যায় কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. রাশেদ আল তিতুমীরের মতে, ‘বাজেট বাস্তবায়নই বর্তমানে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। বাস্তবতা হলো, এ বাজেট প্রায় ২০ শতাংশ অবাস্তবায়িত থেকে যাচ্ছে। গত বছর ২১ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়নি। তাহলে প্রস্তাবিত বাজেট আসলে ৩ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকার। ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে বাজেট বাস্তবায়নের হার ক্রমেই কমছে। ওই বছর বাজটের ৯৩ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়, যা পরবর্তী বছরগুলোয় আরও কমে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭৮ শতাংশ হয়।’
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘অনিয়ম, দুর্নীতি ও যোগসাজশের ফলে ধুঁকতে থাকা ব্যাংকিং খাত সংস্কারে বাজেট প্রস্তাবনায় কোনো উদ্যোগ না থাকা, আমানতকারীদের আস্থার সাথে সরকারের প্রতিশ্রুতির অন্যায্য বরখেলাপ। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় খেলাপি ঋণ ও যোগসাজশের সাথে দুর্নীতিবাজ, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার উদ্যোগ না নিয়ে বিদ্যমান করপোরেট করহার কমানোর প্রস্তাব অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক। এছাড়া বাজেট প্রস্তাবনা বিশেষ কৌশলে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অর্থাৎ জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার উদ্যোগকে যেমন অসাংবিধানিক তেমনি অনৈতিক, বৈষম্যমূলক ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি সহায়ক। এ ধরনের সুযোগদানের মাধ্যমে সততাচর্চাকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’

Disconnect