ফনেটিক ইউনিজয়
বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হতে পারে বামপন্থীদের
আদম মালেক

নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যেতে চায় বামপন্থীরা। দাবি আদায়ে নিজস্ব শক্তি নিয়ে মাঠে থাকবে। সরকারকে বাধ্য করতে আগ বাড়িয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে হাত মেলানোর কোনো ইচ্ছে নেই জোটের নেতাদের। তবে বিএনপি যদি আন্দোলনকে বেগবান করতে পারে, সেক্ষেত্রে রাজপথে বিএনপির সঙ্গে কর্মসূচিগত ঐক্য গড়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন বাম গণতান্ত্রিক জোট নেতারা।
জোটের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, জনগণের অন্তরের আকাক্সক্ষার প্রতিধ্বনিত করাই জোটের লক্ষ্য। সেটাকে ভোটের সংখ্যায় রূপান্তর করার জন্যও তাদের প্রচেষ্টা থাকবে। কিন্তু এ জোট ভোটসর্বস্ব জোট না। নির্বাচনটা সামগ্রিক আন্দোলনের অংশ।
গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, বিএনপির বাইরে আমরা একটি তৃতীয় শক্তি হিসেবে লড়াই করছি। একটি সমাজতান্ত্রিক সমাজ আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। নির্বাচন আমাদের আন্দোলনের একটি অংশ। আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তবে এ মুহূর্তে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের যেমন সম্ভাবনা নেই, তেমনি নিকট ভবিষ্যতে ঐক্যের সম্ভাবনা উড়িয়েও দেয়া যায় না। বিএনপি যদি আন্দোলন সংগ্রামে সরকারকে আতংকিত করে তুলতে পারে, তাহলে জোটের সব সদস্যের সম্মতিতে রাজপথে তাদের সঙ্গে কর্মসূচিভিত্তিক ঐক্য গড়ে উঠতে পারে।’
বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামানও দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এজন্য তিনি সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ ভেঙে দিয়ে একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি তোলেন।               
তিনি বলেন, ‘নির্দলীয় সরকারের জন্য আমরা নিজস্ব শক্তি দিয়েই লড়ব। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটও একই দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। এ মুহূর্তে তাদের সঙ্গে ঐক্য করতে আমাদের আগ্রহ ও আলোচনা কোনোটাই নেই। তাদের কর্মকা- আমাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।’
এজন্য নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার চায় বাম গণতান্ত্রিক জোট। দাবি তুলেছে সরকারের পদত্যাগের। সংসদ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সদস্যদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাবনাও রয়েছে তাদের। প্রস্তাবে আরও রয়েছে নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন, বিচার বিভাগ সংস্কার, পুলিশ প্রশাসনসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে ঢেলে সাজানো। এজন্য প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করা জরুরি বলেও মনে করেন তারা।
দলীয় সরকারের অধীনে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বেশ কয়েকটি বাম সংগঠন নির্বাচন বর্জন করে। এবার এসব দল দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে ভরসা পাচ্ছে না। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন জোটের নেতারা। তারা বলেন, প্রহসনমূলক নির্বাচনের বিরুদ্ধে এ জোট একটি শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে চায়। নির্বাচন কমিশনসহ যেসব জায়গায় প্রয়োজন, সেখানে লাগাতার অবরোধসহ শক্তিশালী আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শুধু ঢাকাতেই নয়, সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার কথা জানিয়েছেন নেতারা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারের নির্যাতন-দুর্নীতি-লুটপাটের বিরুদ্ধে এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে গত ২৪ জুলাই ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। ৪ আগস্ট ভোটাধিকার নিশ্চিত করা ও বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলন জোরদার করার লক্ষ্যে ৭ থেকে ১১ আগস্ট দেশের সাতটি বিভাগীয় শহর যথাক্রমে চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী,ময়মনসিংহ ও কুমিল্লায় গণসংযোগ গড়ে তোলা হয়।
গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনে জনজীবন ওষ্ঠাগত। জনগণ এ অনির্বাচিত সরকারের কবল থেকে মুক্তি চায়। এজন্য রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পতন ঘটাতে হবে অনির্বাচিত সরকারের। তাহলেই নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’ গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আমরা লড়াই করছি। দাবি আদায়ে লড়াই আরও জোরদার করতে হবে। এ তৎপরতার অংশ হিসেবে যেকোনো দলের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে।’
বাসদের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে জনমত গড়ে তোলায় আমাদের জোট কাজ করছে। আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করার জন্য এ মুহূর্তে বিএনপির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই।’
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ কাফি রতনও আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের পদত্যাগের পাশাপাশি সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সংস্কার আনা জরুরি। এজন্য আন্দোলন সংগ্রামের কোনো বিকল্প নেই।’

Disconnect