ফনেটিক ইউনিজয়
নির্বাচনী প্রস্তুতি
রাজপথের কর্মসূচিতে ছাড় দেবে না সরকার
অভিজিত বনিক
দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের রেলযাত্রা
----

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির বিদায়ী সভা হয়েছে। সংসদের বিদায়ী অধিবেশনও শুরু হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে নির্বাচনী প্রস্তুতি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ছাড়া বড় রাজনৈতিক দলগুলোর তেমন প্রকাশ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মসূচি নেই বললেই চলে। তবে ভেতরে ভেতরে তারাও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তাদের জোট শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে আসবে কিনা, বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়। কারণ বিএনপি চেয়ারপারসন এখনও কারাগারে বন্দি। তাকে রেখে বিএনপি নির্বাচন করবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তাই নির্বাচনকেন্দ্রিক এক ধরনের সংশয় থেকেই যায়। যদিও নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে নির্বাচনের পুরো প্রস্তুতি আছে তাদের।
এদিকে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির হেভিওয়েট বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তবে তারা দলের সাংগঠনিক বিষয়ে কথা বললেও বির্তক এড়াতে নাম প্রকাশ করতে চান না। জানা গেছে, বিএনপি নির্বাচনে আসবে, এমনটা ধরে নিয়েই একাদশ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করছে আওয়ামী লীগ। তবে জোট মহাজোটের স্বার্থে কম করে হলেও ৬৫টি আসন আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিতে পারে জোট সঙ্গীদের। শুধু তা-ই নয়, দলের ঐক্য ধরে রাখতে আগামী কয়েক সপ্তাহ বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে আওয়ামী লীগ। তাই নতুন করে আন্দোলনের নামে রাজপথ দখলের কোনো কর্মসূচি বাড়তে দেবে না দলটি। এজন্য সরকার পরিস্থিতি বুঝে কঠোর থেকে কঠোরতর হতেও পিছপা হবে না।
এ প্রসঙ্গে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম বলেছেন, ‘নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। তাই কারও শক্তি নেই নির্বাচন প্রতিহত করার। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। কেউ আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে সরকার।’
আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড মনে করে, শেষ মুহূর্তে কর্মীদের চাপে হলেও নির্বাচনে আসবে বিএনপি। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে কঠোর কোনো কর্মসূচি দিলে সরকার তা প্রতিহত করবে। তবে সুশৃঙ্খল কোনো প্রতিবাদ সমাবেশ করলে সরকার তাদের বাধা দেবে না বলেও জানা গেছে। এছাড়া রাজনীতিতে নতুন সংযোজন যুক্তফন্টের বিষয়ে সরকার বেশ সর্তক অবস্থানে রয়েছে। যুক্তফন্টের নামে দেশে ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টির কোনো কর্মসূচি সরকার করতে দেবে না। এমনকি নতুন করে কোটা আন্দোলন, চাকরিপ্রার্থীদের বয়স বাড়ানোর আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নামে যেকোনো কমসূচি প্রতিহত করা হবে। এ ব্যাপারে সরকার আর ছাড় দিতে নারাজ বলেও জানা গেছে।  
এদিকে সরকারের পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবে দলকে চাঙ্গা করতে প্রথমবারের মতো রেলযাত্রা করে প্রচারণায় নেমেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। শনিবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে নীল সাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে করে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা প্রচারাভিযান শুরু করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে নীলফামারীর উদ্দেশে রেলযাত্রা কর্মসূচি শুরু হয়। যাত্রাপথে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার অন্তর্ভুক্ত রেলস্টেশনগুলোয় পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও রাখেন। আওয়ামী লীগের নতুন সংযোজন এ রেলযাত্রা কর্মসূচিতে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএম মোজাম্মেল হক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, সদস্য আনোয়ার হোসেনসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা সাধারণ সম্পাদকের সফরসঙ্গী। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, রেলযাত্রা কর্মসূচি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এভাবে কর্মসূচি অব্যাহত রাখলে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবেন বলেও তারা জানান।
এদিকে অক্টোবরের প্রথম দিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। এজন্য বেশ ব্যস্ত সময় পার করছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। ভোটের সম্ভাব্য তারিখও চূড়ান্ত করেছে তারা। এ লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নিজেদের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও শেষ করে ফেলেছে। তবে কৌশলগত কারণে তারা কারও নামই আগেভাগে প্রকাশ করবে না বলে বিশ^স্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, এক আসনের বিপরীতে গড়ে প্রায় ১০ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা এখন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেবিলে। তিনি অনুমোদন করলেই মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘নির্বাচন যথাসময়ে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একাদশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেবে। শত বাধাবিপত্তির পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে কাজ করে যাচ্ছে ১৪ দল। দুর্নীতি ও হাওয়া ভবন থেকে দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে ১৪ দলীয় জোট গঠিত হয়েছিল। সে লক্ষ্য সামনে রেখেই আওয়ামী লীগ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।’

Disconnect