ফনেটিক ইউনিজয়
বিশেষ সাক্ষাৎকার
‘আমাদের দেশেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব’

মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান। স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর সাহসিকতার জন্য ‘বীরপ্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। নির্বাচন, রাজনীতিসহ অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে সাম্প্রতিক দেশকালের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান সাইদুল

আগামী নির্বাচন উপলক্ষে আপনাদের প্রস্তুতি কেমন?
আমরা আলাদা বা একদম এককভাবে নির্বাচন করব এমন সম্ভাবনাও কম। আমাদের মূল ফোকাস হচ্ছে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করা। ফলে এখন আমাদের সব চেষ্টা ঐক্যের দিকে। ২০০৮ সালে আমরা বেশ কয়েকটি আসনে নির্বাচন করেছি। যদিও সফল হতে পারিনি। তবুও জনগণকে ধন্যবাদ জানাই। এবারও আশার আলো দেখছি। দেখা যাক সামনে কী হয়!

অনেকেই মনে করছেন বাংলাদেশে এখন ক্রান্তিকাল চলছে, আপনি কি মনে করেন?
সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থা ভালো- এমনটা বলা যাবে না। কথা বলার স্বাধীনতা নেই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। চারদিকে গুম-খুনের খবরই দেখা যায়। দেশের কী অবস্থা, আমরা প্রতিদিন খবরের কাগজ ঘাঁটলেই বুঝতে পারি।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কবিতা খানম বলেছেন পৃথিবীর কোথাও শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আপনি কি তার বক্তব্য সমর্থন করেন?
পৃথিবীর কোথাও শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় কেন? এমন প্রশ্ন আমার। সুষ্ঠু ধারার রাজনীতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন অবশ্যই সম্ভব। তিনি কোন প্রেক্ষিতে এ বক্তব্য দিয়েছেন, তা আমার জানা নাই। আমরা আশা করছি, আমাদের দেশেও সুষ্ঠু ধারার নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ সম্ভব।

দেশ স্বাধীন হয়েছে। এ স্বাধীনতা ধরে রাখতে শক্তিশালী প্রজন্ম তৈরি করতে পারছেন কি?
সমস্ত সমাজদেহে অপরাজনীতি বিস্তার লাভ করেছে। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন, আদর্শকেন্দ্রিক লড়াই, গণতন্ত্র, সাম্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মাধ্যমেই প্রতিবাদী প্রজন্ম তৈরি হবে।

আপনারা কোন বিবেচনায় বিএনপিকে সঙ্গে চাইছেন?
বিএনপি ১০ দফা কর্মসূচি দিয়েছে। এর লক্ষ্য একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করা। আমাদের দলও একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণায় বিশ্বাস করে। এ বিষয়গুলো নিয়ে বিএনপি’র সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং হচ্ছে। আমরা আসলে সব ক্ষেত্রেই ভারসাম্য রক্ষা করতে চাইছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতার অবসান চাই। পার্লামেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও বিরোধী দলের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য চাই।

সেনা মোতায়েনের জন্য অনেকে দাবি করছেন- আপনি কি তা সমর্থন করেন?
অবশ্যই সমর্থন করি। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনা মোতায়েন করতে সমস্যা কোথায়? জনগণ তার ভোট যাকে খুশি দেবে। আমার দাবি, আগামী নির্বাচন সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হোক। এবং সঠিকভাবে সেনা মোতায়েন করা হোক।
 
আপনি কি মনে করছেন- আমাদের দেশে সেনা মোতায়েনের জন্য পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে?
হ্যাঁ। আমি তা মনে করি! জনগণ যেন তাদের নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন সেজন্য সঠিকভাবে দায়িত্বের সঙ্গে সেনাবাহিনী কাজ করবে, এটা আমার প্রত্যাশা। সুষ্ঠু নির্বাচনে যে জয়ী হোক আপত্তি কিসে?

বিএনপি যদি কোনো কারণে নির্বাচনে না আসে তবে আপনারা কি যাবেন?
বিএনপি যদি নির্বাচনে না যায়, তবে কোনো না কোনো কারণ থাকবে। বিএনপি যে সিদ্ধান্তই নিক, তারা নিশ্চয়ই তা নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলবে। পরিস্থিতির বাস্তবতা ও যৌক্তিকতা বিবেচনা করেই আমরা সিদ্ধান্ত নেবো। বাংলাদেশে এখনো আওয়ামী লীগের বাইরে মানুষ বিএনপিকেই বোঝে। রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি বলতে যা বোঝায়, তা এখনো গড়ে ওঠেনি।

বাম দলগুলো নিয়ে আপনার অভিমত কি?
বাম দলগুলো নিয়ে এক সময় আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের বৃহত্তর ঐক্যের ধারণায় বিশ্বাস করে না। সাম্প্রতিক সিটি নির্বাচনে বাম দলগুলো অংশ নিয়েছিল। এভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা ভালো কিছু করতে পারেনি।

কেমন বাংলাদেশ দেখে যেতে চান?
গণতান্ত্রিক-মানবিক বাংলাদেশ দেখে যেতে চাই। যেখানে থাকবে না গুম। ঘটবে না কোনো হত্যাযজ্ঞ। মানুষ তার মত প্রকাশ করতে পারবে, এমন একটি দেশ দেখে যেতে চাই।

Disconnect