বদহজম রুখতে হলে...

বদহজম রুখতে অবশ্যই জাঙ্কফুড এড়িয়ে চলতে হবে

বদহজম রুখতে অবশ্যই জাঙ্কফুড এড়িয়ে চলতে হবে

কায়িক পরিশ্রম কমে যাওয়ায় ফলে বদহজমের সমস্যা এখন আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়েছে। তার সঙ্গে যদি যুক্ত হয় বিয়ের মরসুম আর জাঙ্ক ফুডের ওভারডোজ়, তাহলে আর রক্ষা নেই। 

ষাটের ঊর্ধ্বে যাদের বয়স, তাদের ক্ষেত্রে হজমের সমস্যা একটু বেশিই দেখা যায়। তবে জীবনযাপনের ধরন ও খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাসে বড়সড় পরিবর্তন আসায়, যুব প্রজন্মের মধ্যেও হজমের গোলযোগ এখন রোজের সমস্যা।

হজমের গোলমালের নেপথ্যে যে কারণগুলো মূলত দায়ী, তা চিহ্নিত করেছেন ভারতের কলকাতার ডায়াটিশিয়ান কোয়েল পালচৌধুরী। 

তার মতে, দু’টি মিলের মাঝে বিরতির মেয়াদ যদি অনেকটাই বেশি থাকে, তবে বদহজমের সম্ভাবনা বাড়তে থাকে। আর ওই বিরতির পরে ফাস্ট ফুড খেলে শরীরের আরো ক্ষতি হয়। তাই অফিসে বা ফিল্ডে যারা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেন, তারা যেন স্ন্যাকস সঙ্গে রাখেন। স্ন্যাকস বলতে অবশ্যই প্রোটিন স্ন্যাকস যেমন, ছোলা, আমন্ড, ছাতু। স্ন্যাকসে মিষ্টিজাতীয় দ্রব্য না থাকাই বাঞ্ছনীয়।

দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার ফলে ঠিকমতো প্রাতরাশ অনেকেই করেন না। সেটিও বদহজমের বড় কারণ। সে ক্ষেত্রে সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে ভারি ব্রেকফাস্ট করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ডিনারের পরেও হালকা হাঁটাচলা, ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ় করলে হজমের সুবিধা হয়। তবে এ সবই হচ্ছে সমস্যার আগের সতর্কতা। 

কিন্তু বদহজম হলে কী করবেন?

বদহজম হলেই গলা জ্বালা, চোঁয়া ঢেকুর, বুকে-পিঠে ব্যথা, মাথায় যন্ত্রণার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। প্রথমে ঈষদুষ্ণ পানি পান করে দেখুন। খালি পেটে কিছুক্ষণ থাকার পরেও লক্ষণ না কমলে অল্প শুকনো মুড়ি খান।

সমস্যা বাড়লে অনেকের আবার ডায়রিয়ার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে ফাইবার জাতীয় খাবার, ডাল একেবারে বন্ধ করতে হবে। কাঁচকলা সিদ্ধ, লাউয়ের শুক্তো, নুন ও পানি দিয়ে মাখা ভাত খেতে হবে।

আবার যারা নিয়মিত বদহজমের সমস্যায় ভোগেন, তাদের কোষ্ঠকাঠিন্যও হতে পারে। তখন ফাইবার জাতীয় খাবারের পরিমাণ ডায়েটে বাড়িয়ে দিতে হবে। খোসাসহ শসা, থোড়, ওটস, দানাশস্য জাতীয় খাবার খেতে হবে।

দুর্ভোগ এড়াতে আগাম সচেতনতা

- বদহজম হয়ে যাওয়ার পরে যে খাবারগুলো ডায়েট থেকে বাদ দেবেন, তাহলো ময়দা, দুগ্ধজাত দ্রব্য, প্যাকেট ফুড, ফাস্ট ফুড।

- লিভার ফাংশন সুষ্ঠু রাখার জন্য কাঁচা হলুদ বেশ উপযোগী। সকালে উঠে একটুখানি কাঁচা হলুদ চিবিয়ে পানি খেয়ে নিন।

- দু’টি মিলের মধ্যে যাতে বিরতি বেশিক্ষণের না হয়, তার জন্য প্রোটিন স্ন্যাকস সঙ্গে রাখুন।

- অনুষ্ঠানবাড়িতে গ্রেভি বাদ দিয়ে মাছ, মাংস, পনির খেতে পারেন।

- সকালে উঠে এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানি খান।

- অনুষ্ঠানবাড়ি থেকে ফিরে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া বাঞ্ছনীয়। আর পরপর কয়েক দিন নিমন্ত্রণ থাকার পরে যখন বাড়িতে খাবেন, তখন ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমিয়ে দিন। অর্থাৎ দুটো রুটি বরাদ্দ হলে, একটা রুটি খান। পেট ঠান্ডা রাখতে ডাবের পানি খেতে পারেন।

ষাটের ঊর্ধ্বে ও তার চেয়ে কমবয়সিরাও টানা ১৫-২০ এই পথ্য ব্যবহার করলে হজমের ক্ষমতা বাড়বে।

পান্তা ভাত: পান্তা ভাত বাঙালিদের অন্যতম পছন্দের খাবার। তবে এই ঘরোয়া টোটকাটি অনেকেরই জানা নেই। রান্না করা ভাতের দু’চামচ রাতে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে ওই পানি ও ভাত খেয়ে নিন। এতে হজমের ক্ষমতা বাড়ে।

জোয়ানের পানি: জোয়ান সিদ্ধ করে সেই পানি খেলেও বদহজমের সমস্যা এড়ানো যায়। সকালে উঠেই এটা আগে খেয়ে নেবেন।

জিরার পানি: জিরা সিদ্ধ করা পানি হজম ক্ষমতা বাড়ানোয় উপযোগী। সকালে খালি পেটেও এটা খাওয়া যায়। আবার কিছু খাওয়ার পরেও তা খেতে পারেন।

এলাচ: বদহজম রুখতে এলাচ চিবিয়ে খাওয়া খুবই উপকারী। 

সিদ্ধ আপেলের রস: আপেল সিদ্ধ করে সেই রস খেলেও হজমের ক্ষমতা বাড়ে।

পেঁপে পাতা: ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই পথ্য দেয়া হয়। তবে অনেকেই জানেন না, এই পাতা হজমক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। দু’টি পেঁপে পাতা এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে সিদ্ধ করুন। তারপরে ওই পানি আধ গ্লাস হলে খেয়ে নিন। 

বদহজম হলেই যে সব  খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেবেন, তা ঠিক নয়। মিল বাদ দেয়া বা অসময়ে ভারী খাবার খাওয়ার মতো অভ্যাস বর্জন করলেও হজমের সমস্যা এড়ানো যায়। ডায়েটে অবশ্যই পানির পরিমাণ বাড়াবেন। - আনন্দবাজার পত্রিকা

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh