বর্ষায় অসুখ-বিসুখে করণীয়

বর্ষা শুরু হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজতে কারো ভালো লাগে, কারো লাগে না। তবে কাজের জন্য বাধ্য হয়ে আবার বৃষ্টিতে ভিজতেও হয়। যেভাবেই হোক না কেন, এই বৃষ্টির পানিতে জ্বর, হাঁচি, কাশি, সর্দি, মাথাব্যথা, বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া, খোস-পাঁচড়া, ত্বকের নানা রকম অসুখ-বিসুখ শরীরে এসে ভিড় করে। 

জ্বর, সর্দি ও কাশি

জ্বর, সর্দি ও কাশি সাধারণত বৃষ্টির পানি এবং চারদিকে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে বর্ষাকালে খুব বেশি হয়। যাদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কম বিশেষ করে বয়স্ক এবং শিশুরা খুব বেশি আক্রান্ত হয়। ভাইরাসজনিত হবার কারণে পরিবারের একজনের এই রোগ হলে, অন্যরাও ধীরে ধীরে আক্রান্ত হয়।


এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সারা শরীর ম্যাজম্যাজ ও ব্যাথা করে, বার বার হাঁচি হয়, বমি বমি ভাব হয়, চোখ লাল হয়ে যায়, মাথাব্যাথা করে, জ্বর ৩-৫ দিন স্থায়ী হতে পারে। খুব বেশি সর্দি বা ঠান্ডা লাগলে এবং বেশি দিন স্থায়ী হলে নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক রোগ দেখা দিতে পারে। জ্বর ৫-৬ দিনের বেশি স্থায়ী হলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ডায়রিয়া ও আমাশয়

বর্ষাকালে অন্য অসুখের মতো নানা ধরনের পেটের অসুখ যেমন ডায়রিয়া, আমাশয় দেখা দেয়। পানির দ্বারা এই রোগ হয় বলে এটাকে পানিবাহিত রোগও বলা যায়। শিশু ও বয়স্কসহ সব বয়সের মানুষের এই অসুখ হতে পারে। এই রোগ থেকে রেহাই পেতে হলে, বিশুদ্ধ পানি পানসহ খাওয়ার বাসনপত্র, কাপড়-চোপড় পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিতে হবে, অনেক বেশি পানি পান করেতে হবে এবং রাস্তার খোলা খাবার পরিহার করতে হবে।


ডায়রিয়া হলে স্যালাইন এবং স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে। মূলত শিশুরাই এই রোগে আক্রান্ত হয় বেশি। ডায়রিয়ার হাত থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। খাওয়ার আগে পরিষ্কার পানিতে হাত ধোঁয়া ও ফোটানো পানি পান নিশ্চিত করলে তা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। আর এ রোগ সাড়াতে ঘন ঘন স্যালাইন ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে।

ম্যালেরিয়া

বর্ষাকালের সাধারণ রোগ ম্যালেরিয়া। স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশাই ম্যালেরিয়া জীবাণুর বাহক। জলাবদ্ধ জায়গায় বংশবিস্তার করে। সুতরাং বাড়ির আশপাশের জলাধার, ফুলের টব, পানি জমার মতো জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। জ্বর, মাংসপেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা প্রভৃতি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ। ৪-৫ ডিগ্রির বেশি জ্বর থাকলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

ডেঙ্গু

এ সময়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি। এডিস মশাই এ রোগের বাহক। ডেঙ্গুর লক্ষণ হলো, জ্বর, সর্বাঙ্গে ও গিটগুলোতে ব্যথা, চামড়ায় র‌্যাশ বা ছোট লাল স্পট।


মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়ির জলাবদ্ধ জায়গাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে বৃষ্টির পানি জমতে না পারে।

টাইফয়েড

পানিবাহিত রোগের মধ্যে একটি হলো টাইফয়েড। ব্যাকটেরিয়া যুক্ত পানি বা খাবার এই রোগের জন্য দায়ী। হাত ধুয়ে খাবার গ্রহণ করতে হবে। যথাসম্ভব রাস্তার খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

ছত্রাক সংক্রমণ

ঘাম বা পানিতে বেশিক্ষণ ভেজা থাকলে পায়ের আঙুলের ফাঁকে, কুঁচকিতে, মাথায় ও চুলে ছত্রাক সংক্রমিত হয়।


ছত্রাক সংক্রমণে ছত্রাকনাশক ক্রিম এবং চুলে বিশেষ শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে।

কৃমি সংক্রমণ

বর্ষাকালেই কৃমির বেশি প্রাদুর্ভাব হয়। এ সময় পানি আর কাদামাটিতে মিশে থাকে এই পরজীবী জীবাণু। তাই অন্য যে কোনো ঋতুর তুলনায় বর্ষায় খুব সহজেই কৃমির সংক্রমণ ঘটে। এই সময়ে সবারই কৃমির ওষুধ সেবন করা উচিত।

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

<