মার্কিন অর্থে পাকিস্তানে জঙ্গি প্রশিক্ষণ: ইমরান খান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ফাইল ছবি

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ফাইল ছবি

তালেবান বিদ্রোহীদের মোকাবেলায় আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর পাশে থাকার প্রশ্নে তাদের নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল বলেই মনে করছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। 

তিনি বলেছেন, ‘যে সব জঙ্গি এক সময়ে পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল, এখন তারাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চলে গেছে।’

রাশিয়ার একটি টিভি চ্যানেলকে গত বৃহস্পতিবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন কথাই বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। গত দুই দশক ধরে আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে মার্কিন সৈন্যরা।

বিষয়টি বিশদে বোঝাতে গিয়ে ইমরান বলেছেন, ‘আশির দশকে আফগানিস্তানে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে লড়াই চালাতে‌ তালেবান গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল পাকিস্তান। সে জন্য অর্থ জুগিয়েছিল মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ। ওই সময়ে আমরা এই সব জঙ্গিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি সোভিয়েতের বিরুদ্ধে লড়তে। কারণ রুশ প্রশাসন আফগানিস্তানের দখল নিয়েছিল। তাই জঙ্গিদের তৈরি করতে সিআইএ’র পুঁজি নিয়ে নেমেছিল পাকিস্তান।’ 

তাঁর দাবি, আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা যখন ঢোকে এবং তালেবান জঙ্গিদের হারাতে শুরু করে, তখন পাকিস্তানের নিরপেক্ষ থাকা উচিত ছিল। সিআইএ’র মদতে যারা সোভিয়েতের বিরুদ্ধে সে দিন লড়েছিল, প্রশিক্ষণ দিলেও তাদেরই এখন সন্ত্রাসবাদী তকমা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এক দশক পরে তালেবান এখন বলতেই পারে, মার্কিনরা আফগানিস্তানে এসেছে, এবার ওদের কাছে আমাদের লড়াইটা আর জিহাদ নয়, সন্ত্রাস।’ 

ইমরানের কথায়, ‘এটা একেবারেই স্ববিরোধী বিষয়। আমার ভীষণই মনে হচ্ছে, পাকিস্তানের উচিত ছিল নিরপেক্ষ থাকা। কারণ ওই গোষ্ঠীগুলো এখন আমাদের বিরুদ্ধে চলে গেছে।’ 

নিরপেক্ষ না থাকার জন্য পাকিস্তানকেই ভুগতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইমরান। তাঁর মতে, ‘এ জেরে ৭০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছেন এবং পাকিস্তানের অর্থনীতি ধুঁকছে ১০ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতিতে। শেষমেশ আফগানিস্তানে সাফল্য না পাওয়ার দায়ও আমাদের উপরেই চাপিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এটা পাকিস্তানের জন্য একেবারেই অন্যায্য।’  

সম্প্রতি ভারতশাসিত কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের প্রতিবাদে পাকিস্তান বারবার জাতিসংঘসহ যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার জন্য আরজি জানিয়েছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে ইসলামাবাদকে সন্ত্রাসের মদতকারী বলে কোণঠাসা করছে। তাই কূটনীতিকদের অনুমান, এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনেই যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার পাশাপাশি পাকিস্তানের ভূখণ্ড সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহার হয়ে আসছে, তা পরোক্ষে স্বীকার করে নিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। -আনন্দবাজার পত্রিকা ও টাইমস অব ইন্ডিয়া


মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh