ভ্যাকসিন মিলতে পারে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহে

মহামারি করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) ভ্যাকসিন আর মাত্র চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। 

সোমবার (১৩ জুলাই) তথ্য জানিয়েছেন তিনি। জেরুজালেম পোস্ট এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সিএনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন চারটি কভিড-১৯ ভ্যাকসিন কর্মসূচিকে অপারেশন র‍্যাপ স্পিড প্রোগ্রামের আওতায় আর্থিক সহায়তা করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উৎপাদন কারখানার সুবিধা বাড়ানো ও কাঁচামাল সংগ্রহে কোম্পানিগুলোকে সাহায্য করা হচ্ছে। তাদের লক্ষ্য, আগামী বছর নাগাদ ৩০ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ তৈরি করা।

সোমবার অনলাইন কনফারেন্স কলে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, কবে নাগাদ ভ্যাকসিনের বিভিন্ন উপাদান উৎপাদন ও প্রস্তুতের কাজ শুরু হবে, সে সম্পর্কে বলতে গেলে বলা যায়, চার থেকে ছয় সপ্তাহ লাগতে পারে। এর মধ্যে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হবে গ্রীষ্মের শেষে।

কয়েক মিলিয়ন থেকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ সাহায্য পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন, মডার্না, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও নোভাভ্যাক্স।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রিজেনেরন ফার্মাসিউটিক্যাল নামের একটি কোম্পানির সঙ্গে কভিড-১৯ থেরাপি উদ্ভাবনের জন্য ৪৫ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফল পাওয়া যাবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, দ্রুতগতিতে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে, যা ইতিহাসে আগে কখনো হয়নি। থেরাপি আরো দ্রুত উদ্ভাবন হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো প্রতিষ্ঠানে ভ্যাকসিন তৈরির জন্য তহবিল জোগাবে মার্কিন প্রশাসন।

এদিকে করোনার ভ্যাকসিন প্রাথমিক হিউম্যান ট্রায়ালে বিশ্বে প্রথমবারের মতো সফল হওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা স্পুটনিক-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশটির সেশনভ ফার্স্ট মস্কো স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এ সাফল্য দেখিয়েছেন।

গত ১৮ জুন রাশিয়ার গামালেই ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজির তৈরি এই করোনা ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল শুরু হয়েছিল। পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে ভ্যাকসিনটি উত্তীর্ণ হয়েছে।

রাশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি করোনা ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন করার দাবি করেছে একটি রুশ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটিই বিশ্বে প্রথম কোনো করোনা ভ্যাকসিনের সফল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। রুশ সংবাদমাধ্যম স্পুটনিক এ খবর জানিয়েছে।

করোনাভাইরাসে বিশ্বের ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৬৯ হাজার মানুষের। করোনার কোনো চিকিৎসা আবিষ্কৃত না হওয়া ভ্যাকসিনকেই মহামারি মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্বে শতাধিক ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে অল্প কয়েকটি ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছে।

খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়ার গামালেই ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি-এর উদ্ভাবিত করোনা ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফলভাবে শেষ হয়েছে। এই পরীক্ষা ১৮ জুন শুরু হয়েছিল। পরীক্ষাটি পরিচালনা করে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেচেনভ ফার্স্ট মস্কো স্টেট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি।

সেচেনভ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল প্যারাসাইটোলজি, ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ভেক্টর বর্ন ডিজিসেস-এর পরিচালক অ্যালেক্সান্দ্রা লুকাসেভ জানান,  ভ্যাকসিন পরীক্ষার এই পর্যায়ের মূল লক্ষ্য ছিল মানব দেহে তা কতটা নিরাপদ তা পর্যবেক্ষণ করা। এটা সফলভাবে শেষ হয়েছে। 

তিনি বলেন, এই ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ নিরাপদ। বর্তমানে যেসব ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হচ্ছে সেগুলোর সঙ্গে এই করোনা ভ্যাকসিনের সামঞ্জস্য আছে।

লুকাসেভ আরো জানান, ভ্যাকসিনটির উদ্ভাবন এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যে উদ্ভাবকরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভাইরাসের কারণে মহামারি পরিস্থিতির জটিলতা ও সম্ভাব্য উৎপাদন বাড়ানো।

রাশিয়ার ইনস্টিটিউট অব ট্রান্সন্যাশনাল মেডিসিন অ্যান্ড বায়োটেকনোলজির পরিচালক ভাদিম তারাসোভ বলেন, সেচেনভ ইউনিভার্সিটি বিশ্বে প্রথমবারের মতো স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

তারাসোভ জানিয়েছেন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকদের প্রথম দলকে বুধবার ও দ্বিতীয় দলকে ২০ জুলাই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হবে।

তারসোভ বলেন, মহামারি পরিস্থিতি সেচেনভ ইউনিভার্সিটি শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে তা নয়, তারা বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। ফলে তারা ওষুধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল কিছু উদ্ভাবনের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পেরেছে। আমরা শুরু থেকেই এই ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে কাজ করছি। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আগের গবেষণা, প্রটোকল উন্নয়নে কাজ করেছি। আর এখন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলমান আছে।

রুশ বার্তা সংস্থা তাস এর আগে জানিয়েছিল, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অংশ হিসেবে ১৮ জুন ১৮ জন এবং ২৩ জুন ২০ জন স্বেচ্ছাসেবীর দেহে তা প্রয়োগ করা হয়। এই পরীক্ষার ফলাফল আগস্টে প্রকাশিত হতে পারে। এরপর দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তা মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেবে ভ্যাকসিনটি ব্যবহারের বিষয়ে।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ৩৩ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ। বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে ৫ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ৩০ লাখ ৩৬ হাজার ৬১০। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৭৫ লাখ ৮২ হাজার ৪২৬ জন।

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh