ফনেটিক ইউনিজয়
পা ঠ অ ভি জ্ঞ তা

জিয়নকাঠি
হামীম কামরুল হক
(উৎসর্গ : সায়মা রহমান লাবণ্যকে)

পথটা কী? What is the way?
এগোও! Go!
-জেন ভাবনা


পাঠ, পথ, শপথ, স্বপথ-এই কয়েকটি কথার ভেতরে কোথাও মিল আছে, হয়তো একটা পরম্পরাও আছে। পাঠই পথ-এমনটা মনে করতে পারলে ভালো বোধ করতাম, কিন্তু তা তো নয়। পড়া দিয়ে সব সম্ভব নয়। কাজ চাই। পড়লে কাজটা জুতসই হতে পারে। যে কাজের পেছনে জ্ঞান নেই, সেই কাজ তো ভয়ংকর। জ্ঞান কী? মানুষের কল্যাণে যা কাজে লাগে, কোনো না কোনোভাবে কাজে লাগে।-এভাবে দেখতে চাই। সরাসরিভাবে। যা কিছু ক্ষতিকর, তা-ই অজ্ঞান ও মূর্খতা। দার্শনিক-ভাবুক জিদ্দু কৃষ্ণমূর্তির মতে, জ্ঞানী লোক কখনো খারাপ লোক হতে পারে না, খারাপ লোক জ্ঞানী হতে পারে না। জ্ঞানী কিন্তু খারাপ লোক, সে আসলে জ্ঞানীই না। সেই ‘দুর্জন বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য’ কথাটাই বলেছেন তিনি।
পড়ার ভেতর দিয়ে জ্ঞান এবং জ্ঞানকে প্রজ্ঞার স্তরে, দ্রষ্টার স্তরে নিতে পারলে কাজ হয়। কাজ নিজে না করেও অন্যকে দিয়ে করানো যায়। গুরুরা কাজ করেন না। তাঁদের শুধু কথা আর কথা। সেই কথায় প্রাণিত-অনুপ্রাণিত হয়ে কত কত মানুষ কাজ করে। সফলতা বিত্ত-বৈভব সুখ-শান্তির চূড়ায় ওঠে। আর পাঠ মানুষকে পোড়াতেই থাকে। দগ্ধ করে। এই দগ্ধানিতে কেউ কেউ পড়ে পড়ে বিদগ্ধ হয়।
আমার সব পড়াকে একটা কাজে লাগতে চাই, সেটা হলো লেখা। পড়া ও লেখাটা যদি ভালোভাবে বাঁচবার পথ তৈরি না করে দেয় তো পড়ে কী লাভ? তাও ভাবি। বছরখানিক আগে পেয়েছিলাম রাইট লাইক হেমিংওয়ে। বইটির লেখক আর অ্যান্ড্রু উইলসন। নির্ঘণ্ট আর ছোট্ট করে লেখক পরিচিতি মিলিয়ে ২৫৫ পৃষ্ঠার বই। পুরো বইটাই মূলত হেমিংওয়ের লিখন-প্রক্রিয়া নিয়ে। বেশ সুখপাঠ্য বই। কিন্তু পড়া হয়েছিল ১২২ পৃষ্ঠা। তারপর এদিক-ওদিক গিয়ে আর এ বই ধরা হয়নি, তাই পড়াও হয়নি। সম্প্রতি সংগ্রহ করেছি রিচার্ড কোহেনের লেখা হাউ টু রাইট লাইক টলস্টয়। এ বই কেবল তলস্তয় নয়, বিশ্বের বিখ্যাত অনেক লেখকের লিখন ও পঠন-অভিজ্ঞতা নিয়ে। ঠিক এর আগে আগে পাই রোবার্তো বোলানোর ২৬৬৬ উপন্যাসটি। ৮৯৩ পৃষ্ঠার বিশাল বই। প্রতিটি পৃষ্ঠায় গড়ে ৪০০ শব্দ হলে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শব্দের বই। পড়তে শুরু করে ছাড়তে পারছি না। ধুমসে পড়া হচ্ছে, তাও না। এক দু-পৃষ্ঠা পড়ে রেখে দিই, ফের হাতে তুলে নিই। এর ভেতরে অন্যান্য বই থেকে ঘুুরে আসার কাজ হয়। এবং যেমন অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পঞ্চাশটি গল্প বা অ্যান্থনি বার্জেসের আর্থলি পাওয়ার্স।-এগুলো সবই আকারে বড় বই। বিশাল বই। তবে বিশাল বিরাট বই পড়ার একটা উপায় অনেক দিন পর বের করতে পেরেছিলাম। সেটা হলো, বিরাট বই দেখে পাহাড় ডিঙানোর ভয় না পেয়ে, অধ্যায়ের পর অধ্যায় ধরে নয়, পরিচ্ছেদ ধরে ধরে নয়, পড়তে হবে অনুচ্ছেদ ধরে ধরে, ‘এখন আমি এই অনুচ্ছেদটা পড়ে শেষ করব’, অর্থাৎ একটা পৃষ্ঠার অর্ধেক বা একটা একটা পাতা করে পড়ে এগুনো। বিন্দু বিন্দু জল পান করে মহাসাগর পান করা।
বিচিত্র বিষয়ে আমার আগ্রহের জন্য পড়াটা সব সময় একই খাতে বয় না। পড়ে আছে দস্তয়েভস্কির দ্য ব্রাদার্স কারামাজভ। সেও প্রায় ৯৩৬ পৃষ্ঠার বই। পড়েছি মাত্র ৩৫০ পৃষ্ঠা। ২০০৩-০৪ সালের দিকে এই বইটি পড়েছিলাম কন্সটান্স গার্নেটের অনুবাদে। এখন পড়ছি অ্যান্ড্রু  আর ম্যাকান্ড্রুর অনুবাদে। প্রথমবার পড়ার সময় এর ৬৫ পৃষ্ঠার মতো অনুবাদও করেছিলাম। সেটা জীবন-জীবিকার নানা ফাঁদে পড়ে আর এগোয়নি। শুনেছিলাম, উপন্যাস পড়ার নিয়মই এ-ই। অনেকটা পড়ে কিছুদিনের জন্য রেখে দেওয়া। অনেক দিন পর আবার হাতে তুলে নেওয়া, তত দিনে অনেক কিছুই ভুলে গেছেন, আবার পড়তে পড়তে মনে পড়বে, কিছুদূর পড়ার পর ফের রেখে দেওয়া, তারপর আবার মাস দুই-তিন পর হাতে নেওয়া। এই ধারায়ই পড়তে হয় উপন্যাস। আবার কেউ কেউ মনে করেন, ক্ল্যাসিক জাতের বই একটানা না পড়লে আর পড়াই হয় না। পড়াতেও নানা মুনির নানা মত। তবে কী করে সত্যিকারভাবে একটি বই পড়তে হয়, সেটা শিখতেই এক জীবন লেগে যেতে পারে।
এখানে আসলে সম্প্রতি পড়া কিছু বইয়ের কথাই বলছি বা বলতে চাইছি। সব যে বলছি, তা-ও নয়। এর বাইরেও থেকে যাচ্ছে আরও বই। য়ুজেন ইয়োনেস্কোর ‘ম্যাকবেত’ পড়লাম কদিন আগে। এতে থাকা ‘ভালোবাসাই সবকিছুকে পরাজিত করে’ কথাটির বিপরীতে ‘ভালোবাসাকে সবকিছু পরাজিত করে’-দুম করে অনেক কিছুকে চিনিয়ে দেওয়ার চাবিটা হাতে তুলে দেয়। এভাবে কিছু বইয়ের একটা দুটো কথা, কখনো কখনো মাত্র একটা দুটো শব্দ জীবনের অন্য মানে তৈরি করে দিতে পারে। এ জন্য পড়ার ভেতর দিয়ে নতুন করে ভাঙা-গড়া বারবার। পড়া তবু শেষাবধি আমার এই ছোট্ট জীবনের জিয়নকাঠি। প্রতিদিনের বিচিত্র সব ঝক্কি-ঝামেলায় পরানটা জীর্ণ হয়, একধরনের মরণ হয় প্রতিদিন, সেই মরণ থেকে জেগে উঠি পড়ার ভেতর দিয়ে। অবশ্যই গানের ভেতর দিয়ে, কবিতার ভেতর দিয়ে। রবীন্দ্রনাথের গান শুনলেই অনেক সময় গীতবিতান তুলে নিই। এভাবে বারবার পড়া হয় তাঁর গান। বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ কাব্যের একটা তো গীতবিতান, নয় কি? তাঁর গানগুলো পড়ে কত কতবার মিইয়ে যাওয়া দশা থেকে ফের দারুণ রকমের তাজা হয়ে উঠেছি। পড়া তাই জিয়নকাঠির মতো। পড়ার ভেতর দিয়ে ‘স্পিরিটেড’ বা প্রাণিত হওয়া ছাড়া আর কী পাই? পড়া তো জীবন নয়। পড়া জীবনে কিছু প্রেরণা তৈরি করে দিতে পারে মাত্র। যেমন মিশেল ফুকোর বইপত্র পড়তে চাই। ফুকো সম্পর্কিত বইপত্র পড়তে চাই। ফুকোকে জানতে চাই-এ জন্য? আসলে তো ফুকোর বিচিত্র জ্ঞান এবং তিনি যে বিচিত্র শাস্ত্রের একজন তদন্তকারী, সেই তদন্তের ভেতর দিয়ে আমরা নিজেকে ও আমাদের কালকে যদি চিনতে না পারি তো এই পাঠ ব্যর্থ হতে বাধ্য। বলাবাহুল্য, ফুকোর নাম নিলাম উদাহরণ হিসেবে। এর জায়গায় যে কারও নাম বসিয়ে দেওয়া যায়। বসিয়ে দিতে পারেন চার্লস ডারউইন, কার্ল মার্ক্স, সিগমুন্ড ফ্রয়েড বা আলবার্ট আইনস্টাইনের কথাও।
আসলে তো এসব পড়ার ভেতরে দিয়ে নিজেকে দেখা ও বিচার করার পথ পাওয়া যায়। এ জন্য আত্মজীবনী, আত্মকথা ও  স্মৃতিকথার দিকে টান আছে আমার। শিবরাম চক্রবর্তীর ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা-র মতো আত্মজীবনী পড়াটা স্মরণীয় হয়ে আছে। এখন যেমন পড়ছি তলস্তয়ের আ কনফেশান। ছোট একটা বই। কিন্তু বিপুল এর শক্তিমত্তা। তলস্তয়ের লেখা বলে কথা। মনে হলো তলস্তয়ের অন্যান্য লেখা পড়ার আগে আ কনফেশান বইটা আগে পড়া দরকার। জেন কেনটিশের অনুবাদে পড়া চলছে এ বইয়ের। এটা পড়ার দিকে ঠেলে দিয়েছিল লুইজি ও এলমার মার্দের অনূদিত গ্রেট শর্ট ওয়ার্কস অব লিও টলস্টয় বইটায় থাকা জন বেইলের অসাধারণ ভূমিকাটি। এতে বলতে গেলে বিশ্বসাহিত্যের একটা দিকের তুলনামূলক পাঠ সম্পন্ন হয়ে যায়। তলস্তয়ের কথা বলতে গিয়ে কত না লেখক ও তাঁদের লেখার আলোচনা করেছেন জন বেইলে। যেমন গ্যেটের সঙ্গে তুলনা করে বলা কথাটা দারুণ ধাক্কা-মারা। তিনি লিখেছেন যে, গ্যেটে ও তলস্তয় দুজনেই ছিলেন ইগোইস্ট। তবে দুই ধরনের ইগোইস্ট। মূল কথাটা ছিল: ‘ইফ গ্যেটে কেয়ার্ড নাথিং বাট হিমসেল্ফ, টলস্টয় ওয়াজ নাথিং বাট হিমসেল্ফ।’ মানে : যদি গ্যেটে নিজেকে ছাড়া আর কিছুকে পাত্তা দিতেন না, তলস্তয় নিজে ছাড়া কিছু ছিলেনই না।-কথায় ধন্দ তৈরি হয়, প্রথমটায় বুঝতে পারিনি। কারণ ‘ওয়াজ’ কথাটা ইটালিক্স করা। এই একটি কথায় দুজন লেখকের মনোভঙ্গির এই যে বিশেষ পরিচয়, এর আগে তো পাইনি। এভাবে পড়া বইগুলো একটা অন্যটার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। উমবার্তো একো ধরিয়ে দিয়েছিলেন যে এক বই অন্য বইয়ের সঙ্গে কথা বলে। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজের সঙ্গে কথা বলে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা। খোয়াবনামা আবার কথা বলে আলেহো কার্পেন্তিয়েরের এই মর্ত্যরে রাজত্বের সঙ্গে। গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের বইগুলোও কথা বলে রুশ, মার্কিন, জার্মান কত কত বইয়ের সঙ্গে। বলাবাহুল্য, বিশ্বসাহিত্যের সবই পড়া হয় দুহাত বা তিন হাত ঘুরে। মূল ভাষা থেকে ইংরেজি বা মূল ভাষা থেকে ইংরেজি হয়ে বাংলায়। তবে বাংলায় পড়তে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়, যদি তেমন বাংলা অনুবাদ পাওয়া যায়। প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের কথা ধার করে বলি : ‘আমি তারি হাত ধরে সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে আসি।’ হ্যাঁ, বাংলার হাত ধরে যদি জ্ঞান ও অনুভব নিজের মতো করে নিজের হাতে না আসে, তাহলে তা সম্পূর্ণ হয় না। তাই নিজের ভাষায় কোনো কিছুর ভালো অনুবাদ পড়া রীতিমতো দরকারি। নইলে কোনো পাঠই প্রাণ পায় না, তা আমি যত ভালো জার্মান আর ইংরেজি জানি বা না জানি।-পাঠ-অভিজ্ঞতার ভেতরে এই সত্যটা বারবার বেজে ওঠে।
এদিকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে কত কত লেখক-মিখাইল বুলগাকভ, ভ্লাদিমির নবোকভ, জ্যাক কেরুয়াক, ইসাবেল আলেন্দে, হোসে সারামাগো, ভি এস নাইপল, মিলান কুন্দেরা, সালমান রুশদি, জে এম কোয়েটজি, ওরহান পামুক কি মার্টিন অ্যামিস থেকে সুবিমল মিশ্র আর নবারুণ ভট্টাচার্যরা। পড়ে আছে মার্সেল প্রুস্ত, জেমস জয়েস, ভার্জিনিয়া উলফ, টমাস মান, রবার্ট মুসিল, ফ্রানৎস কাফকার বইগুলো। কিন্তু সবকিছুর হাতছানি অগ্রাহ্য করে যাঁর কাছে যাওয়া দরকার, তাঁর নাম রবীন্দ্রনাথ। হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন, ভক্তি দিয়ে নয়, প্রশ্ন করে করে বুঝতে হবে রবীন্দ্রনাথকে। চন্দ্রিল ভট্টাচার্য আবার এই দায় নেওয়ার কোনো মানেই পান না, কেন রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে হবে? কিন্তু পাঠ-অভিজ্ঞতা আমাকে বলে, বাঙালির সত্যিকারের সাহিত্যপাঠের শেষটা না হোক শুরুর জন্য রবীন্দ্রনাথকে চাই। বাংলা ভাষায় ‘অনুভব এবং ভাবনার সমগ্রতা’র জন্য তিনি ছাড়া আর কেউ তো নেই আমাদের হাতের কাছে! তাঁর ভাষা সংগীত ও গদ্যপ্রবাহের ভেতর দিয়ে নিজেকে নিয়ে যেতে না পারলে বাঙালি লেখকের মুক্তি নেই বলেই বোধ করি। কবি গল্পকার ঔপন্যাসিক আবুবকর সিদ্দিককে কদিন আগে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, বাঙালি লেখকের জন্য পুরো রবীন্দ্রনাথ পড়া কি আবশ্যক? তিনি এক কথায় বলেছিলেন, হ্যাঁ। আমি মনে করি। একজন ইংরেজ বা আমেরিকান লেখক শেকসপিয়ার, একজন স্প্যানিশ লেখক সার্বেন্তেস, একজন জার্মান লেখক গ্যেটে, একজন ফরাসি লেখক ফ্রাঁসোয়া র‌্যাবেলের লেখা পুরো না পড়ে সাহিত্যচর্চা করতে এসেছেন-এটা কি ভাবা যায়? বা নানা সময়ে তাঁদের পাঠ করছেন না-ভাবা যায়?
পড়ার ভেতরে নিত্য যেটা, তা হলো কত কত কবি আর কবিতা। গদ্যলেখকের জন্য কবিতা পড়ার তো কোনো বিকল্প দেখি না। একেবারে চর্যাপদ থেকে চঞ্চল আশরাফ কি শামীম রেজা হয়ে মাদল হাসান-সোহেল হাসান গালিব কি ইমতিয়াজ মাহমুদ; চন্দ্রবতী থেকে আয়শা ঝর্না-আসমা বীথি-শাফিনূর শাফিনদের কবিতা। (এভাবে সমকালীন কারও নাম নেওয়া ও বিপুল অংশের নাম না-নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ, তাই বলি, এখানেও নামগুলো দৃষ্টান্ত হিসেবে নিয়েছি। মহামান্য পাঠক, তাঁদের নামের জায়গায় বাংলা ভাষার যেকোনো কবির নাম বসিয়ে নিন নিজের মতো করে; আর যদি  আপনি নিজেই একজন কবি বা লেখক হন তো নিজের নামটাও সেখানে অনুভব করতে পারেন, কোনো আপত্তি নেই।) কবিতা পড়া মানেই হাতের মুঠোয় কিছু না কিছু পেয়ে যাওয়া। পড়তে চেয়েছি বা পড়ার ভেতরে রেখেছি বাংলা কবিতার প্রধান সবাইকেই। বারবার ফিরে যাই ফারসি কবিতায়-ফেরদৌসী, রুমি, হাফিজ, ওমর খৈয়ামদের দিকে। ফিরে ফিরে আসি ইয়েটস, এলিয়ট, ফিলিপ লারকিন কি সিমাস হিনিদের দিকেও। বিশ্বের অন্যান্য ভাষার কবিতা তো আছেই। সিরিয়ান আদোনিস থেকে দক্ষিণ কোরিয়ান কো উন-সবার কবিতার ভেতরে দিয়ে সৃজন ও মননের স্নান ঘটে বারবার। কবিতাপাঠ কখনো ব্যর্থ হয় না। পাঠ যদি হয় জীবনের জিয়নকাঠি, তাহলে পাঠের জিয়নকাঠি হলো কবিতা। যতটুকু পড়ে উঠতে পেরেছি, আর যে বিপুল পাঠের অভিজ্ঞতা থেকে এখনো শত শত আলোকবর্ষ দূরে আছি, সেই অভিজ্ঞতা আমাকে এ-ই বলে।

আরো খবর

Disconnect