পিইসির সনদ দিয়ে শিশুরা কী করবে?

গত এক দশক ধরে ‘প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা’ বাতিল করার ব্যাপারে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিশুগবেষকদের বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। পিইসির সনদ (জিপিএ-৫) দিয়ে শিশুরা করবেটা কী। এই বয়সে ‘পরীক্ষা’ নামের ভীতি ধরে গেছে শিশুদের মনে। পরীক্ষায় ফেল করার ‘অপমান’ এতোটুকু বাচ্চার মনেও বাসা বেঁধেছে। 

তাছাড়া উনিশটি প্রতিষ্ঠানে কেনো কোনো শিক্ষার্থী পাশ করেনি, সে ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ জরুরি। প্রাইমারি শিক্ষার উন্নতির লক্ষ্যেই সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে। মোদ্দাকথা হচ্ছে, শিশুদের জন্য পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করে স্বাভাবিক পরীক্ষায় ফিরে আসতে হবে।

অন্যদিকে এই জাতীয় পরীক্ষার আয়োজনে কোচিং ব্যবসা রমরমা হয়ে উঠেছে। সেইসঙ্গে নোটবুকের স্বর্ণযুগ চলছে। নোটবইয়ের ব্যবসায় এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও নাম বিক্রি করছেন। অল্পকিছু টাকার লোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক নিজের নাম নোটবুকে ব্যবহার করতে দিচ্ছেন। সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুরের নাস্তার ব্যবস্থা করেছে। এই ব্যবস্থা সবসময় চালু রাখতে হবে। কেননা বাংলাদেশে এখনো শতকরা ত্রিশজন শিশু নানা কারণে বিদ্যালয়ে যায় না-খেয়েই।

যে মহৎ উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ড. কুদরাত-এ-খুদাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে, বর্তমানে আমরা সেই স্পিরিট থেকে যোজন যোজন দূরে সরে আসছি। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রাথমিক শিক্ষাকে উন্নত করার। সেইসঙ্গে শিশু-কিশোরদের নিয়ে সরকারিভাবে কাজ করার যেসব প্রতিষ্ঠান আছে; সেইসব প্রতিষ্ঠানকে ‘শিশু-কিশোর গবেষণা’ কাজের উদ্যোগ নিতে হবে।

লোকমান ফরাজী
৮৯/১৭ গোপীবাগ, রামকৃষ্ণ মিশন রোড।


মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh