ফনেটিক ইউনিজয়
রূ প চ র্চা
ঈদের দিনের সাজগোজ
অনিন্দিতা আফসার

মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দ শুরু হয় প্রথম রোজা থেকেই। তবে ঘর গোছানো বা পোশাকের প্রস্তুতির পর নিজেদের আমরা ভিন্নভাবে সাজাই ঈদের দিনই। আগে থেকেই প্রত্যেকে ঠিক করে রাখি কীভাবে সাজব, কখন কী পোশাক পরব ইত্যাদি। আর এই বিশেষ দিনের সাজের বিষয়ে জানাচ্ছেন ফারজানা শাকিল’স বিউটি স্যালনের কর্ণধার ও রূপবিশেষজ্ঞ ফারজানা শাকিল-

ফারজানা বলেন, ঈদের দিনে নিজেকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে আগে থেকেই কিছু কাজ করে রাখা দরকার। ফেসিয়াল, চুল কেটে ফেলা, ম্যানিকিউর পেডিকিউর, ভ্রু প্লাকসহ এসব কাজ আগে থেকে করে ফেলা ভাল। এতে সৌন্দর্যটা ফুটে ওঠে খুব ভালোভাবে। এরপর ঈদের মেকআপ। ওই দিন বিভিন্ন ধাপে মেকআপ করতে হবে। কারণ, একেক সময় একেকভাবে নিজেকে উপস্থাপন করলে দেখতে অনেক ভালো লাগে।
তবে উৎসবের ধরন, বয়স, সময় ও পরিবেশ খুব গুরুত্বপূর্ণ। স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে, ঈদের জন্য আমরা নিজেদের সাজিয়ে নিতে পারি যেকোন সাজে।

কামিজে সকালের সাজ
প্রকৃতিতে এখন চলছে গরমের দাবদাহ। তা ছাড়া ঈদের দিন সকালে বাড়িতে কাজের চাপ বেশি থাকে। তাই এসময় কটন সালোয়ার-কামিজ আরামদায়ক হতে পারে। মেকআপের ক্ষেত্রে সাথে হালকা ফাউন্ডেশন, ফেস পাউডার, লিপিস্টিক আর কাজল দিয়ে সাজলে মানিয়ে যাবে বেশ। তবে গাঢ় আইশ্যাডো ব্যবহার করা যেতে পারে। আর পোশাকের সাথে মানানসই লিপস্টিকও গাঢ় রঙের হতে পারে। তবে গরমের কারণে চুল খোলা না রেখে পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে আটকে নিলে স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক হবে।

দুপুরের সাজ হতে পারে ইচ্ছেমতো
সকালের চেয়ে দুপুরের সাজ আরও বেশি দীপ্তিমান হতে হবে। দুপুরের আলোকিত সময়ে প্রসাধনীর রং উজ্জ্বল হতে হবে। চোখে গাঢ় করে কাজল দিতে পারেন আর লিপস্টিক হতে পারে একটু গাঢ় রঙের। গালে বুলিয়ে নিতে পারেন কিছুটা চকচকে রোজ পাউডার, লাগিয়ে নিতে পারেন চোখের ওপরে পোশাকের সঙ্গে রং মিলিয়ে আইশ্যাডো বা কালার পেনসিল। এ সাজে আপনাকে দেখাবে উজ্জ্বল ও দীপ্তিময়। সারা দিন বেড়ানো কিংবা মেহমানদারির পর সবাই কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। এরপর আবার রাতে দাওয়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে। তাই সহজেই ক্লান্তি যেন ভর না করে এ জন্য ত্বকের টোনিং করা প্রয়োজন।
আবার, এখন গরমের সময় ঈদ হচ্ছে। দুপুরটা সবাই বাড়িতেই থাকার চেষ্টা করেন সাধারণত। তাই দুপুরে হালকা রঙের  কামিজ, শাড়ি বা পাশ্চ্যাত্য ধারার কোনো পোশাক বেছে নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে পাউডার মেখে ব্লাশন বুলিয়ে নিতে পারেন দুই গালে। আর ঠোঁট এঁকে দিতে পারেন লিপগ্লস। চোখের সাজে ভিন্নতা আনতে শ্যাডো আর আইলাইনার দিন। চোখের সাজে শুধু নিচের পাতায় অথবা শুধু ওপরের পাতায় আইলাইনার লাগিয়ে নিতে পারেন। সাথে ব্রাউন, পিংক বা ব্লু শেডের আইশ্যাডো লাগাতে পারেন। তবে মাশকারা অবশ্যই লাগাবেন আইল্যাশের ওপর। কালো মাশকারা না লাগিয়ে ড্রেসের সাথে ম্যাচ করে অথবা নীল বা সবুজ মাশকারাও লাগাতে পারেন ডিফরেন্ট লুক আনতে। পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কানে আর গলায় ছোট গয়না পরলে ভালোই লাগবে। তবে মনে রাখতে হবে গরমের সময়ে হালকা সাজ হবে স্বস্তিদায়ক। তাই চুল বেঁধে রাখলেই ভালো। কারণ গরমে খোলা চুলে অস্বস্তি বাড়ে। যদি হেয়ার কাট করা থাকে তাহলে চুলটা ব্লো ডাই করে সেটিং করে নিন অথবা পনিটেলও করে রাখতে পারেন।

রাতের সাজ
সারা দিনের সাজের ঠিক বিপরীত হবে রাতে। রাতের সাজ হতে হবে গাঢ় এবং ভারী। বাঙালি নারীর শাড়িতেই পূর্ণ সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। রাতের কোনো দাওয়াতে গেলে চড়া রঙের শাড়ি বেছে নিতে পারেন যেকোনো বয়সীরা। মুখে একটু পুরু করে ফাউন্ডেশন লাগিয়ে ফেস পাউডার বা নরমাল সাদা পাউডার লাগিয়ে নিন। এতে আপনার ত্বকের কোনো দাগ চোখে পড়বে না। চোখের ওপরে মোটা করে আইলাইনার আর চোখের নিচেও টেনে দিতে পারেন মোটা করে কাজল। রাতের সাজে চোখে মাশকারা, আইলাইনার ও গাঢ় রঙের শ্যাডো ব্যবহার করলে ভালো লাগবে। ঠোঁটে গাড় লিপস্টিক, হাতভর্তি চুড়ি, গলায় ও কানে গয়না মোহনীয় করে তুলবে নারীর সাজসজ্জা। তবে ঠোঁটে গ্লস লিপস্টিকও দিতে পারেন। রাতের সাজে গ্লস লিপস্টিক একটা আলাদা আভিজাত্য। শেষে ব্লাশনের ব্যবহার সাজকে পরিপূর্ণ করে তুলবে।

কমন পোশাকের ক্ষেত্রে সাজের ধরন
পশ্চিমা ধাঁচের পোশাকগুলোকে বলা হয় কমন পোশাক। আর তরুণীদের পছন্দের তালিকার শুরুতেই থাকে এ জাতীয় পোশাক। এর মধ্যে রয়েছে শার্ট, জিনস, টপস, ফতুয়া, স্কার্ট ইত্যাদি।  এ ধরনের পোশাকের সাথে হালকা সাজই মানানসই। মুখে হালকা বেজ মেকআপ, চোখে আইলাইনার বা কাজল, আইশ্যাডো, মাশকারা লাগানো যেতে পারে। পাশাপাশি ঠোঁটে হালকা রঙের লিপস্টিক আর হাতে, কানে, গলায় সাদামাটা কিছু জুয়েলারি দিয়ে নিজেকে অসাধারণ করে তোলা যায় অনায়াসেই। চুলগুলো ছেড়ে রাখা যেতে পারে। আবার পনিটেল করে নিলেও ভালো লাগবে, পাশাপাশি স্বস্তিও থাকবে।
ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। আর এ দিনে মন খারাপ করে বা রাগ করে থাকলে সাজসজ্জা ভালো হলেও সবকিছুই ফিকে হয়ে যায়। তাই বাইরের সাজের চেয়ে মনের সাজের বেশি প্রয়োজন। আর বাইরের সাজ অবশ্যই হওয়া চাই আবহাওয়া, পরিবেশ পরিস্থিতি ও ধর্মীয় চেতনাকে ধারণ করে।

Disconnect