ফনেটিক ইউনিজয়
ফ্যা শ ন
ঈদের পোশাক : আনন্দের পছন্দের
শবনম সোহানা

ঈদ উদযাপনের সব প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে দেশের শীর্ষ ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো। ইতিমধ্যে সব আউটলেটের শোকেস, হ্যাঙ্গার আর ম্যানিকুইন সেজে উঠেছে ট্রেন্ডি আর নতুন সব পোশাকে। দেশীয় শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নিপুণ কারুকাজে তারা তৈরি করেছেন, আরামদায়ক, দৃষ্টিনন্দন সব পোশাক। বিভিন্ন প্রিন্ট, সুই-সুতার সেলাইসহ হাতের কাজের হরেক রকম ডিজাইন তৈরি করেছে আড়ং, নিপুণ, রঙ, কে-ক্রাফট, সাদাকালো, অঞ্জন’স, বিবিয়ানা, দেশাল, নগরদোলা, বাংলার মেলা, নিত্য উপহার, দেশালের মতো ফ্যাশন হাউসগুলো। দেশের প্রধান ১৪টি ফ্যাশন হাউসের ঈদ কালেকশন নিয়ে  আয়োজন...

রঙ বাংলাদেশ
দেশীয় পোশাকের অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান ‘রঙ বাংলাদেশ’। এবারের ঈদকে কেন্দ্র করে, রঙ পোশাক পরিধানে আরামের বিষয়টিকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। এ জন্য সুুতি কাপড়ের ব্যবহার এখানে বেশি। তা ছাড়া ক্রেতাসাধারণের চাহিদা অনুসারে এন্ডি, এন্ডি সিল্ক, সিল্ক, জামদানি, মসলিন, রেশমি কটন, ধুপিয়ান কাপড়ের পোশাকে, সাধারণ ও ভরাট নকশার সূক্ষ্ম কাজ করা হয়েছে। ব্লক, স্প্রে, টাই-ডাই, স্ক্রিন-প্রিন্ট, এ ছাড়া অ্যাপলিক, এমব্রয়ডারি, কারচুপি, আড়ি, হাতের ভরাট কাজ, লেস, কাতানপাড় ইত্যাদি মিডিয়া হিসেবে ব্যবহার করে ভিন্ন এক নান্দনিকতার রূপ দেওয়া হয়েছে পোশাকে। রঙের এসব পণ্যের মধ্যে কাপড় ও ডিজাইন ভেদে শাড়ি পাওয়া যাবে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে। ছলেদের পাঞ্জাবির দাম পড়বে ১ হাজার ৬০০ থেকে ৭ হাজার টাকা, মেয়েদের থ্রি-পিস ২ হাজার ২০০ থেকে ৬ হাজার টাকা, সিঙ্গেল কামিজ ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া বাচ্চাদের পোশাক (শার্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া) পাওয়া যাবে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে।

নিত্য উপহার
নিত্য উপহার দেশীয় ফ্যাশনে এক অনন্য কীর্তিময় নাম। দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় ডিজাইনে পোশাক বানিয়ে ক্রেতাদের মন জয় করে চলেছে। আর এ কারণেই নিত্য উপহার সবার কাছে প্রিয় একটি নাম। নিত্য উপহারের পোশাকের দামও বেশ হাতের নাগালে।

কাপড় ই বাংলা
দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় ফ্যাশন নিয়ে কাজ করছে কাপড় ই-বাংলা। এদের শো রুমে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে এসেছে সব রঙে সাজানো কাজ। ঈদ গরমের ভেতর হওয়ায় তারা মেয়েদের থ্রি-পিসকেই ডিজাইন করেছেন বেশি গুরুত্ব দিয়ে। থ্রি-পিস ১৯০০-২২০০ টাকা, সিঙ্গেল টপ ১৯৫০ টাকা,  পাঞ্জাবি ১৫০০ টাকা, কুর্তা ১২৫০ টাকা, বাচ্চাদের পাঞ্জাবি ৫০০-৮০০ টাকা। এ ছাড়া ছোট মেয়েদের টপ ৯৫০ টাকা, থ্রি-পিস ১৫০০ টাকা, ওড়না ২২০- ৪৫০ টাকা।

আড়ং
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সঙ্গে জড়িত দেশীয় এ ফ্যাশন হাউসটির পোশাকের গুণগত মান এবার বেশ ভালো। বাহারি ডিজাইনে আড়ং বাজারে এনেছে শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, শিশুদের পোশাক। এখানে ২ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার ভেতর শাড়ি পাওয়া যাবে। থ্রি-পিসের দাম পড়বে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে। এ ছাড়া পাঞ্জাবি রয়েছে ২ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজারের ভেতর।

সাদাকালো
সাদাকালোর পোশাকে এবারের ঈদে নতুন সংযোজিত হয়েছে, হাতের কাজ। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী হাতের কাজের মোটিফ নিয়ে নানা রকম ডিজাইনে তৈরি হয়েছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, টপস, ফতুয়া ও কুর্তা। এ ছাড়া রয়েছে বাবা ছেলে, মা-মেয়ে একই রকম যুগল পোশাক। সাদাকালোর শাড়ির দাম পড়বে ১ হাজার ২০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা, থ্রি-পিস ১ হাজার ৫৫০ থেকে ৬ হাজার টাকা, পাঞ্জাবি ৮৮০ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামে, আনস্টিচ থ্রি-পিস ১ হাজার ৫৫০ থেকে ৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া সাদাকালোর নতুন আয়োজন মাতৃত্বকালীন পোশাক। এর মধ্যে রয়েছে সালোয়ার, ম্যাক্সি, টপস ও বিশেষ ধরনের জুতা। মাতৃত্বকালীন এসব পোশাক পাওয়া যাচ্ছে ৮৫০ থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে।

বিশ্ব রঙ
দেশীয় পোশাকে রঙে রঙে জমকালো সব পোশাক এনেছে বিশ্বরঙ ফ্যাশন হাউসটি। বাহারি ডিজাইনের শাড়ি, মেয়েদের থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি এবং শিশুর জন্যও ঈদের পোশাক। প্রকৃতির রঙে যেন বিশ্ব রঙ সাজিয়ে তুলেছে তাদের ঈদ পোশাকগুলো।

বিবিয়ানা
সালোয়ার-কামিজ, মসলিন শাড়ি, পাঞ্জাবি, মেয়েদের ফতুয়া বিক্রিতে এবার ব্যস্ত বিবিয়ানার বিক্রেতারা। ঈদ উপলক্ষে মেয়েদের ফতুয়া, ছেলেদের পাঞ্জাবি, শাড়ি, বাচ্চাদের শার্ট বেশি বিক্রি হচ্ছে এখানে। প্রকৃতির খেয়ালিপনায় গরম আর থেমে থেমে বৃষ্টির সঙ্গে মিল রেখে হালকা ও গাঢ় রঙের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে তৈরি করা হয়েছে, বিবিয়ানার পোশাক।

নগরদোলা
নগরদোলায় কটন কাপড়ের সঙ্গে এবার থাকছে বলাকা সিল্ক, জয়শ্রি সিল্ক, ধুপিয়ান, লিলেন কাপড় ইত্যাদি। মেয়েদের পোশাকের মধ্যে রয়েছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, লং-কুর্তি, লং-কামিজ ও সিঙ্গেল কামিজ। ছেলেদের পোশাকের মধ্যে রয়েছে পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও শেরোয়ানি। নগরদোলায় সালোয়ার-কামিজ ২ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা, ছেলেদের ফতুয়া ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা, মেয়েদের সিঙ্গেল কামিজ ৯৯০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা, শাড়ি ৯৫০ থেকে ১০ হাজার টাকা, পাঞ্জাবি ৮৫০ থেকে ৬ হাজার টাকা, মেয়েদের কুর্তি ৯০০ থেকে দেড় হাজার টাকা, ছোটদের পোশাক ৭৫০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

কে-ক্রাফট
হাতের কাজ, ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট ও এমব্রয়ডারি দিয়ে কে-ক্রাফটে সাজানো হয়েছে বড়দের সালোয়ার-কামিজ। তা ছাড়া নানা রকমের বর্ণিল স্কার্ট এবার কে-ক্রাফটের অন্যতম আকর্ষণ। এ ছাড়া মানানসই কুর্তি, টপস, ট্র্যাডিশনাল শাড়ি ও পাঞ্জাবিও রয়েছে এবারের কে-ক্রাফটের ঈদ কালেকশনে। সালোয়ার কামিজের দাম পড়বে ১ হাজার ৪০০ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে। নানা বয়সের ও নানা আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে এখানে শাড়ির দাম পড়বে ৬০০ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। ছেলেদের শর্ট ও লং দুই ধরনের পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে হরেক রঙ আর ডিজাইনে ৫০০ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে।

অঞ্জন’স
বাচ্চাদের পোশাক ও ফ্যামিলি প্যাকেজই বেশি বিক্রি হচ্ছে এবার অঞ্জন’স-এ। এ ছাড়া ছেলেদের পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, মেয়েদের থ্রি-পিস, ফতুয়া, সালোয়ার-কামিজ, শাড়িসহ নিজস্ব প্রোডাক্টস নিয়ে ঈদ আয়োজন সাজিয়েছে অঞ্জন’স। পাঞ্জাবি ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা, ছেলেদের ফতুয়া ৯০০-১৫০০ টাকা, মেয়েদের ফতুয়া ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, বাচ্চাদের ফতুয়া ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, শাড়ি ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশাল
নানা ডিজাইনের টপস, পাঞ্জাবি, শাড়ি, থ্রি-পিস, ছেলেদের ফতুয়া, বাচ্চাদের ফ্রক, ফতুয়া, শর্ট শার্ট, বড়দের শর্ট শার্ট নিয়ে সবার জন্য নানা পোশাকের আয়োজন রয়েছে দেশালে। বাচ্চাদের পোশাককে মূলত কার্টুন চরিত্র ও বড়দের পোশাকের ক্ষেত্রে প্রকৃতিকেই এখানে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দেশালে পাঞ্জাবি ৭০০-১ হাজার টাকা, শাড়ি ১০৭০-২৩৫০ টাকা, মেয়েদের ফতুয়া ৪৫০-৮০০ টাকা, থ্রি-পিস ১৪০০-২৫০০ টাকা, ছেলেদের ফতুয়া ৪৫০-৮০০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে।

নিপুন
নিপুনের ফ্রেবিক্সের শাড়ির চাহিদা এবারের ঈদের কেনাকাটায় সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া কটন ও সিল্কের মধ্যে সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, বাচ্চাদের থ্রি-পিসের চাহিদাও অনেক। নিপুনের দাম সম্পর্কে বলতে গেলে, শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার ৫০০ টাকায়, সালোয়ার-কামিজ ১ হাজার ৬৫০ থেকে ৬ হাজার টাকা, কটন পাঞ্জাবি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, সিল্ক পাঞ্জাবি ১ হাজার ৫৫০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা, ছেলেদের ফতুয়া ৬৫০ থেকে ৯০০ টাকা, বাচ্ছাদের থ্রি-পিস ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

বাংলার মেলা
দেশের আরেক জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউস বাংলার মেলা। ঈদ উপলক্ষে বাংলার মেলায় এন্ডি, সুতি, মসলিন কাপড়ে মিশ্রমাধ্যমের কাজ করা শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজে গাঢ় রং প্রাধান্য পেয়েছে। ছেলেদের পাঞ্জাবিতে জয়শ্রি সিল্ক, এন্ডি, কটন, খাদি তাঁতে নিজস্ব বুননে ডবি মাল্টি স্ট্রাইপ এসব ম্যাটেরিয়ালে করা হয়েছে লং, মিডিয়াম ও শর্ট লেংথে ট্রেন্ডি পাঞ্জাবি। এবারের ঈদ কালেকশনে বাংলার মেলার শাড়িতে রয়েছে অর্গানজা সিল্ক, এন্ডি, হাফসিল্ক, এন্ডি কটন ব্লেন্ড ও টাঙ্গাইল শাড়ি। এসব শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৫৫০ থেকে ১১ হাজার টাকায়, থ্রি-পিস ১৫৫০ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকায়, মেয়েদের টপস ও ফতুয়া পাওয়া যাচ্ছে ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া ছেলেদের পাঞ্জাবি ৯৫০ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা, শার্ট ৫৫০ থেকে ১২৫০ টাকা, ফতুয়া ৫৫০ থেকে এক হাজার টাকা। এ ছাড়া বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে ৩৫০ থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে।

প্রবর্তনা
দেশীয় নিজস্ব নকশায় তাঁতে বোনা গজ কাপড় চাইলে সংগ্রহ করতে পারেন। প্রতি গজ পড়বে ১৯০ থেকে ৬৩৫ টাকা পর্যন্ত। শাড়ির মধ্যে রয়েছে কাতান, সিল্ক, টাঙ্গাইল। দাম ৪০০ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে। বাহারি পাঞ্জাবি তো আছেই। পাঞ্জাবি ১ হাজার ২৯৫ থেকে ৩ হাজার ও শার্ট ৬৫০ থেকে ১ হাজার ২৯৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া একটু কমের মধ্যে কিনতে চাইলে যেতে পারেন হাতের কাছের নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক, মৌচাক, ইসলামপুর, নূরজাহান, সিঙ্গাপুর মার্কেট, রাজধানী মার্কেট কিংবা মিরপুর ১০-এ। শিশু থেকে বয়স্ক সদস্যদের ঈদের পোশাক পাবেন ১৫০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে। তাই দেরি না করে আজই কেনাকাটা হয়ে যাক, দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো থেকে।

Disconnect