ফনেটিক ইউনিজয়
স্বাস্থ্যসম্মত খাবারে সুস্থ ঈদ
কামরুন আহমেদ
কামরুন আহমেদ
----

সামনে ঈদুল আজহা। মুসলমানদের আরেকটি বড় ধর্মীয় উৎসব। রোজার ঈদের তুলনায় এই ঈদে খাওয়াদাওয়ার মাত্রাটাও যেন থাকে বেশি, বিশেষ করে এ সময় প্রচুর পরিমাণে গরু, খাসিসহ বিভিন্ন গবাদি পশুর মাংস (যাকে আমরা রেড মিট বলি) খাওয়া হয়। তবে সুস্থ থাকতে এসব মাংস বেশি খাওয়া ঠিক নয়। এই ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চললে শরীর ঠিক থাকবে।
সাধারণত এ ঈদে ঘরে ঘরে সেমাই, পায়েস, জরদা-এসব মিষ্টি-জাতীয় খাবার কম তৈরি হয়। বরং মাংস দিয়ে তৈরি খাবারের পরিমাণ থাকে অনেক বেশি যেমন : গ্রিল, রেজালা, কলিজা ভুনা, গরু বা খাসির মাংসের বিরিয়ানি ইত্যাদি। ঈদের এত সব আয়োজনে খাবার আমরা উপভোগ করব ঠিকই, কিন্তু এসব খাবার রান্নার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় লক্ষ রাখতে হবে। যেমন-
কলিজা ভালো করে ধুয়ে ভিনেগার দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর সেদ্ধ করে পানি ফেলে দিতে হবে। এভাবে কলিজা রান্না করলে তা স্বাস্থ্যসম্মত হবে। যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি এমনকি উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের জন্য কলিজা কম খাওয়াই ভালো।
মগজ ঈদের দিন রান্না করা ভালো। প্রথমে ভালো করে ধুয়ে মগজের ওপরের পাতলা আবরণ ফেলে দিতে হবে। এরপর মগজ ক্যাপসিকাম, ব্রকোলি দিয়ে ভুনা করলে ফাইবার আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যাবে। মনে রাখতে হবে, মগজ একটি উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার।
ঈদের দিন সবার বাসায় কমবেশি রেজালা রান্না হয়। খুব জনপ্রিয় খাবার এটি। তবে খাবারটি রান্নার ক্ষেত্রেও কিছু সাবধানতার প্রয়োজন রয়েছে। যেমন রান্নার সময় মাংস ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। গরুর বা খাসির চর্বি কেটে ফেলে দিতে হবে। কোনোভাবেই গরুর বা খাসির চর্বি ব্যবহার করা যাবে না।
কোরবানির ঈদে সবার বাড়িতেই বিভিন্ন ধরনের কাবাব তৈরি হয়। যেমন শিক কাবাব, হাঁড়ি কাবাব, শামি কাবাব ইত্যাদি। কাবাব স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। কাবাবের সঙ্গে ধনেপাতা, পুদিনাপাতা দিলে এর পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে। তবে কাবাব ভাজার সময় কম তেল ব্যবহার করতে হবে।
মুরগি, গরু বা খাসির যেকোনো ধরনের গ্রিলই খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এ ক্ষেত্রেও খেয়াল রাখতে হবে যেন বেশি পুড়ে না যায়।
অনেকের বাসায় ঈদের কয়েক দিন পর নেহারি খাওয়ার প্রচলন আছে। নেহারি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নয়। তাই এসব খাবার না খাওয়াই ভালো। প্রচুর কোলেস্টেরল থাকে নেহারিতে।
আবার প্রায় প্রতিটি বাসাতেই কমবেশি বয়োজ্যেষ্ঠ, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বা কিডনিতে আক্রান্ত রোগী থাকে। তাই সবদিক লক্ষ রেখেই খাবার তৈরি করা উচিত। সুস্থ থাকতে রান্নায় অবশ্যই কম তেল ব্যবহার করতে হবে।
যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অথবা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তাদের রেড মিট কম খাওয়াই ভালো। তবে তারাও গরু বা খাসির মাংস খেতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে রানের অংশটা খাওয়া ভালো। কিন্তু ঝোল খাওয়া যাবে না। রানের মাংসে ফাইবার বেশি থাকে। তবে কিডনি আক্রান্তদের গরু বা খাসির মাংস খাওয়া একদমই উচিত নয়। তাদের জন্য মুরগির মাংসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
এ সময়ে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই খাবার গ্রহণ শেষে বোরহানি, লাবাং বা ঘোলের ব্যবস্থা থাকলে ভালো। এ ছাড়া পুদিনাপাতার সালাদ ধনেপাতার সালাদ, শশা, টমেটো, আদার রস রাখতে পারলে ভালো। আবার মাংসে টক দই ব্যবহার করলে হজম ভালো হয়।
লেখক : পুষ্টি বিশেষজ্ঞ

Disconnect